টাকা পাচারকারীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করছি : অর্থমন্ত্রী

আপডেট : ১৭ জুন ২০২১, ০১:৫১ এএম

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, দেশে একটি গ্রুপ আছে যারা লোভে পড়ে দেশ থেকে টাকা পাচার করছে। আমরা তাদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করছি। এ জন্য বিদ্যমান আইনের কিছু ক্ষেত্রে সংশোধন করা হচ্ছে। কিছু নতুন আইনও করা হচ্ছে। এই উদ্যোগের ফলে পাচারকারীদের ধরা সহজ হবে এবং আইনের আওতায় এনে শাস্তি দেওয়া যাবে। অর্থনৈতিক বিষয়ক ও ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে বুধবার ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে সংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। সংসদের চলতি বাজেট অধিবেশনে অর্থ পাচার নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাংসদরা। খোদ সরকারি দলের সাংসদরাও অর্থমন্ত্রীর সমালোচনা করে প্রতিক্রিয়া জানান। এ নিয়ে নিজের অসহায়ত্বের কথা প্রকাশ করেন মুস্তফা কামাল, যিনি আগের মেয়াদে পরিকল্পনামন্ত্রী ছিলেন।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকরা অর্থ পাচার বিষয়ে তার অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘কিছু নতুন আইন করা হবে। আর কিছু সংশোধন করা হবে। অর্থ পাচার নিয়ে আপনাদের (সাংবাদিক) যেমন মনে কষ্ট আছে। আমারও লাগে। এ জন্য আমাদের পদ্ধতির (সিস্টেম) উন্নতি করতে হবে। আমরা সেই চেষ্টাই করছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যদি সিস্টেমের ডেভেলপ করতে পারি, তাহলে কারা টাকা পাচার করছে, তাদের শনাক্ত করতে পারব। এ জন্য যেখানে দরকার, সেখানে আইন সংশোধন করা হবে। আবার কিছু নতুন আইন করা হবে।’

মন্ত্রী বলেন, আগে আমাদের বৈদেশিক লেনদেন হতো ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে। এখন ডিজিটালে হচ্ছে। এসব বিষয় বিবেচনা করে আইন আরও কঠোর করতে হবে। বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ থাকলে, রিটার্ন ভালো হলে দেশ থেকে টাকা পাচার কমবে। এ জন্য সিস্টেমের উন্নতি করা জরুরি বলে মনে করেন তিনি।

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘দেশের কিছু লোভী লোক আছে। এই গ্রুপটি টাকা পাচার করছে। এদের শনাক্ত করতে হলে আইনকানুনের সংশোধন দরকার। আমরা সেই উদ্যোগ নিয়ে এগোচ্ছি।’

খেলাপি ঋণ বাড়েনি : করোনাকালে ব্যবসায়ীদের কিস্তি পরিশোধে নানাভাবে ছাড় দেওয়ার পরও ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ কমেনি; বরং বেড়ে গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে (জানুয়ারি-মার্চ পর্যন্ত) দেখা গেছে, ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৮ দশমিক ৭ শতাংশ, টাকার অঙ্কে যার পরিমাণ ৬ হাজার ৩৫১ কোটি টাকা।

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘খেলাপি ঋণ বাড়েনি। বাংলাদেশ ব্যাংক কীভাবে এই হিসাব করেছে, তাদের থেকে তথ্য নিয়ে আমি দেখব। তারপর এর জবাব দেব।’

দেশ থেকে প্রতি বছর কী পরিমাণ টাকা বের হয়ে যাচ্ছে তার কোনো গবেষণালব্ধ তথ্য নেই। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা সংস্থা গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটির (জিএফআই) সবশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ থেকে বছরে ৫৫ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে। এই পাচারের ৮০ শতাংশই গেছে বাণিজ্যের অর্থাৎ আমদানি-রপ্তানির আড়ালে আন্ডার ও ওভার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পাশর্^বর্তী ভারতসহ অনেক দেশ অর্থ পাচার রোধে আইন কঠোর করলেও বাংলাদেশে প্রচলিত আইনগুলো খুবই দুর্বল। যে কারণে পাচারকারীদের সহজে ধরা যায় না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত