চট্টগ্রাম শহরে যে কয়টি উন্মুক্ত স্থান বা পার্ক রয়েছে এর মধ্যে অন্যতম শিশু পার্ক। কাজীর দেউড়ি এলাকায় প্রায় ৯ বিঘা জমিতে শিশুদের চিত্তবিনোদনের এ স্থানটি ঘিরেও সংশ্লিষ্টদের রয়েছে বাণিজ্যিক চিন্তাভাবনা। গত বছর ১ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মালিকানাধীন এ পার্কটি দ্বিতীয় দফায় ১৫ বছরের জন্য একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন-২০০৯, অনুযায়ী ইজারা দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় অর্থাৎ স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে অনুমোদন নেওয়ার কথা থাকলেও সেটি করা হয়নি। এবার ইজারা বাতিল করে পার্কটি সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে নেওয়ার উদ্যোগ নিতে স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর কাছে একটি আধা সরকারি পত্র (ডিও) দিয়েছেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী। এরপর গত ৭ জুন স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে চিঠি দিয়ে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে স্থানীয় সরকার বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. হেলালুদ্দীন আহমদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এ বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। কীভাবে ইজারা দেওয়া হলো; কবে দেওয়া হলো; মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নেওয়া হয়েছে কি নাএসব বিষয়ে বিস্তারিত জানতে আমরা সিটি করপোরেশনের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছি। সেখান থেকে প্রতিবেদন পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
স্থানীয় সরকার বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চেয়ে গত ৭ জুন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব (সিটি করপোরেশন শাখা-২) মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। এর আগে গত ৯ মে স্থানীয় সরকারমন্ত্রীকে ডিও দেন শিক্ষা উপমন্ত্রী। সেখানে তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম শিশু পার্কটি শহরের প্রাণকেন্দ্র কাজীর দেউড়ি এলাকায় অবস্থিত। এ শিশুপার্কে প্রতিদিন প্রচুর সংখ্যক শিশু-কিশোর ও তাদের অভিভাবক বেড়াতে আসেন এবং এটি নগরবাসীর কাছে অন্যতম বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। উক্ত শিশু পার্কটির মালিকানা চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের। এ পার্কটি ১৯৯২ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ভায়া মিডিয়া বিজনেস সার্ভিসেস লি. নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে ২৫ বছরের জন্য ইজারা দেওয়া হয়। এরপর গত বছরের ১ ফেব্রুয়ারি আবারও ১৫ বছরের জন্য একই প্রতিষ্ঠানকে ইজারা দেওয়া হয়। এ ইজারা সরকারের পূর্বানুমোদন ব্যতিরেকে করা হয়, যা সিটি করপোরেশন আইন-২০০৯-এর সুস্পষ্ট ব্যত্যয়।’
ডিও’তে আরও বলা হয়, ‘সিটি করপোরেশন আইন-২০০৯-এর ৮০(২)(গ) ধারায় বলা হয়েছে যে, ‘করপোরেশন সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে দান, বিক্রয়, বন্ধক, ইজারা বা বিনিময়ের মাধ্যমে বা অন্য কোনো পন্থায় যেকোনো সম্পত্তি অর্জন বা হস্তান্তর করিতে পারবে। সেহেতু বিষয়টি সরকারের স্বার্থ ক্ষুন্ন হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়। আইনবহির্ভূতভাবে পার্কটি হস্তান্তরের ফলে দর্শনার্থীদের বেড়ানোর খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে; যা মোটেও কাম্য নয়।’ জনস্বার্থে ইজারাটি বাতিল করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানান উপমন্ত্রী।
জানা যায়, কাজীর দেউড়ি এলাকার এ পার্কটি ১৯৯২ সালে প্রথম দফায় ইজারা দেওয়া হয়। ভায়া মিডিয়া বিজনেস সার্ভিসেস নামে একটি প্রতিষ্ঠান ২৫ বছরের চুক্তিতে সেখানে কার্যক্রম শুরু করে। ৩ একর জমির ওপর এ পার্কটি দীর্ঘদিন ধরেই নগরবাসীর বিনোদনের চাহিদা পূরণ করে আসছে। কিন্তু বেসরকারিভাবে পার্কটির ব্যবস্থাপনা থাকায় সেখানে উচ্চমূল্যে প্রবেশ করতে হয়। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যেও ক্ষোভ রয়েছে। কিন্তু আইনি জটিলতায় পার্কটির প্রথম ইজারা বাতিল করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। তবে সাধারণ নাগরিকদের আশা ছিল, চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে তা সিটি করপোরেশনের হাতে যাবে। কিন্তু গত বছর দ্বিতীয় দফায় আরও ১৫ বছরের জন্য পার্কটি ইজারা দেওয়া হয়। কাজীর দেউড়ির পার্কটি ছাড়াও নগরীর আগ্রাবাদ, কোতোয়ালির লালদীঘি মসজিদসংলগ্ন পার্ক ও বিপ্লব উদ্যান চসিকের মালিকানাধীন।
