লোকাতেল্লিঝলকে বদলে যাওয়া ইতালি

আপডেট : ১৭ জুন ২০২১, ১০:৫৫ পিএম

রক্ষণাত্মক ফুটবলের ধারক-বাহক ইতালি। এই কৌশলেই তারা জয় করেছে চারটি বিশ্বকাপ, একবার ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ। রক্ষণ জমাট রেখে প্রতি-আক্রমণনির্ভর ফুটবলে গোল আদায় করে নেওয়া ইতালিকে দেখেই অভ্যস্ত সবাই। কিন্তু এই ইউরোতে ইতালি আবিষ্কৃত হয়েছে একেবারেই অন্য রূপে। রবার্তো মানচিনির দল খেলছে অলআউট ফুটবল। তাতে যেমন সাফল্য মিলছে, সুন্দর ফুটবলে মিলছে বাহবা। মানচিনির হাতে তাই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার মানুয়েল লোকাতেল্লি পরিণত হচ্ছেন গোল মেশিনে। সাবেক তারকা আন্দ্রেয়া পিরলোর মতোই ২৩ বছরের লোকাতেল্লির বড় বৈশিষ্ট্য বলের জোগানে সতীর্থদের জন্য আক্রমণ রচনা। ইতালিয়ান ফুটবলে যে পজিশনটা ‘মেজালা’ নামে খুব পরিচিত। মানচিনি লোকাতেল্লির লুকিয়ে থাকা স্ট্রাইকার সত্তাটা যেন জাগিয়ে দিতে চেয়েছেন। বুধবার সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচের ২৬ মিনিটে প্রথম গোল। বিরতির পরপর দ্বিতীয়টি করে চোট পাওয়া মার্কো ভেরাত্তির জায়গায় তাকে সুযোগ দেওয়ার যথার্থতার প্রমাণ দিয়েছেন। শেষদিকে গোলদাতার তালিকায় নাম লিখিয়েছেন চিরো ইম্মোবিল। টানা ৩-০ গোলের জয়ে ইউরোর প্রথম দল হিসেবে নকআউট পর্বে নাম লিখিয়েছে ইতালি।

দল জেতানো পারফরম্যান্সের পর অবশ্য ভেরাত্তির দ্রুত ফেরার প্রার্থনা করেছেন লোকাতেল্লি। ‘আমি আশা করব মার্কো দ্রুত দলে ফিরবে। কারণ ও খুবই ভালো ফুটবলার, যেকোনো সময় ব্যবধান গড়ে দিতে পারে। তবে সত্যি বললে এমন দলের অংশ হতে পেরে আমি গর্বিত ও আনন্দিত। এই সময়টাকে যতটা সম্ভব এগিয়ে নিতে চাই।’

ইতালিকে বদলে দেওয়ার নায়ক মানচিনি অবশ্য কথাবার্তায় খুব সতর্ক। দু’ম্যাচে এমন ধারা ফুটবলের পর নেট দুনিয়ায় ইতালিকে শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে বলা হচ্ছে। কিন্তু মানচিনি কোনোভাবেই নিজের দলকে ফেভারিটের তালিকায় রাখতে নারাজ, ‘ফ্রান্স, পর্তুগাল ও বেলজিয়াম এই টুর্নামেন্টের ফেভারিট। তাদের একটি বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন, একটি বর্তমান ইউরোপসেরা, আরেকটি র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষ দল। দলগুলো গত কয়েক বছর ধরেই উন্নতির দিক দিয়ে আমাদের চেয়ে এগিয়ে। তবে ফুটবলে যেকোনো সময় যেকোনো কিছুই ঘটতে পারে। এখন পর্যন্ত আমাদের পথচলাটা মসৃণ। কিন্তু কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছতে আমাদের বহু পথ পাড়ি দিতে হবে।’ দুই ম্যাচে ছয় গোলের পরও অভিজ্ঞ এই কোচ দলের ঘাটতির জায়গা দেখেছেন, ‘আমাদের দলে এখনো অনেক উন্নতির জায়গা আছে। দলের বেশ কজন তরুণ আছে, যারা প্রথম এই পর্যায়ে খেলছে। ওদের আরও পরিণত হতে হবে। স্কোরলাইন দেখে অনেকে হয়তো ভাবছেন আয়েশি জয় পেয়েছি। কিন্তু আমরা জানি কতটা কঠিন একটা ম্যাচ খেলতে হয়েছে। সুইজারল্যান্ড সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে আমাদের কাজটা কঠিন করে তোলার।’

গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হতে পরের ম্যাচে ওয়েলসের সঙ্গে একটা পয়েন্ট পেলেই হবে ইতালিকে। অন্যদিকে প্রথম ম্যাচে ওয়েলসের সঙ্গে ড্র করা সুইজারল্যান্ডের পরের পর্বের আশা বাঁচিয়ে রাখতে রবিবার তুরস্ককে হারাতেই হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত