চট্টগ্রামে বাড়ছে সংক্রমণ, উদ্বেগ

আপডেট : ১৭ জুন ২০২১, ১১:০২ পিএম

সারা দেশের মতো চট্টগ্রামেও করোনা সংক্রমণ বাড়ছে। সংক্রমণ ঠেকাতে সরকারিভাবে সর্বস্তরে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা হলেও চট্টগ্রামে মাস্ক পরিধানে অনীহা অধিকাংশ মানুষের। গণপরিবহনগুলোতেও মানা হচ্ছে না সরকার আরোপিত বিধিনিষেধ। এছাড়া সংক্রমণ রোধে সামাজিক দূরত্ব মানার কথা থাকলেও সেটাও সীমাবদ্ধ শুধু কাগজে-কলমে। এমন পরিস্থিতিতে সংক্রমণ বাড়ার আশঙ্কা করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, সাধারণ মানুষের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল অব্যাহত থাকলে সরকার বিধিনিষেধের মেয়াদ যে এক মাস বাড়িয়েছে কার্যত তাতেও পরিস্থিতির উন্নতি হবে না।

সরেজমিন গতকাল বৃহস্পতিবার নগরীর বিভিন্ন মার্কেট ও শপিং মলে দেখা গেছে, দোকানে হাজারো মানুষ কেনাকাটা করছেন। তাদের বেশিরভাগেরই মুখে মাস্ক নেই। আবার যারা পরেছেন, তাদেরও কেউ থুতনি অথবা গলায় ঝুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। পথচারীদের মধ্যে মাস্ক পরিধানের প্রবণতা নেই। গতকাল জেল রোড, বক্সিরহাট, কেসি দে রোড, নিউ মার্কেট, কোতোয়ালি, এনায়েত বাজার, তিনপোলের মাথা, তামাকুমন্ডি মার্কেট ও গোলাম রসুল মার্কেট এলাকায় দেখা গেছে মানুষের ভিড়ে পা ফেলা দায়। কেউ স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা করছেন না। গণপরিবহনগুলোতেও মানা হচ্ছে না সরকারি বিধিনিষেধ। নগরী ও উপজেলার গণপরিবহনে অতিরিক্ত যাত্রী নিতে দেখা গেছে। এভাবে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে যাত্রী পরিবহনের ফলে তাদের হাঁচি-কাশির মাধ্যমে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য বিশেজ্ঞরা। তারা বলছেন, সামাজিক দূরত্ব ও মাস্ক পরিধান করলে করোনা প্রতিরোধ সম্ভব।

চট্টগ্রাম জেলার সাবেক সিভিল সার্জন মুক্তিযোদ্ধা ডা. সরফরাজ খান বাবুল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিশ্বজুড়েই এখন আতঙ্ক ছড়াচ্ছে করোনার ভারতীয় ধরন। পাশের দেশ হওয়ায় সতর্ক পদক্ষেপ না নিলে এবং নিজেরা সচেতন না হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে। যদি কেউ মাস্ক ছাড়া বের হয়, তাদের বিরুদ্ধে প্রশানের উচিত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া। হাঁচি-কাশির মাধ্যমে সংক্রমণ ছড়াচ্ছে। তাই মাস্কই হলো করোনা প্রতিরোধের আসল ভ্যাকসিন।’

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যমতে, চট্টগ্রামে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় করোনা শনাক্ত হয়েছে ১৬৯ জনের। এর আগের দিন শনাক্ত হয় ১০৭ জনের। তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, চলতি মাসের ১৬ জুন পর্যন্ত ১৬ দিনে রোগী শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ৯৬১ জন। অথচ গত মে মাসের ৩১ দিনে রোগী শনাক্ত হয় ৩ হাজার ২৮০ জন।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মুক্তিযোদ্ধা ডা. মাহফুজুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘করোনা সংক্রমণ বাড়ছে। নগর ও উপজেলায় এ বিষয়ে প্রশাসনের উচিত কঠোর অবস্থানে যাওয়া। উপজেলায় স্থানীয় প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রশাসনের উদাসীনতার কারণে মানুষ বর্তমানে মাস্ক ছাড়া বের হয়ে ঘুরছে। স্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রশাসনের দৃশ্যমান ভূমিকা রাখা প্রয়োজন।’

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম জেলার সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বর্তমানে বড় শহরগুলোতে সংক্রমণের হার ঊর্ধ্বমুখী। চট্টগ্রাম জেলায় যেহেতু জনসংখ্যা বেশি তাই এখানেও সংক্রমণের হার বেশি। কভিড আসার পর থেকে স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়ে আমরা বলেই যাচ্ছি, কিন্তু অধিকাংশই মানছে না। সামাজিক দূরত্ব রক্ষা ও মাস্ক পরিধান না করলে সংক্রমণ পরিস্থিতির উন্নতি হবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা প্রশাসনকে জানিয়েছি সংক্রমণ পরিস্থিতির বিষয়ে, উনারা ব্যবস্থা নেবেন। যেহেতু স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনের বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জেলা প্রশাসন। কিছুদিন আগে চট্টগ্রামের চারটি উপজেলা রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, হাটহাজারী ও ফটিকছড়িতে সংক্রমণ বেশি ছিল। এ বিষয়ে আমরা জানানোর পর জেলা প্রশাসন উদ্যোগ নিয়েছে। সেখানে পরিস্থিতি বর্তমানে ভালো।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত