মহামারীতে ঘরে বসে অফিসের কাজ চালিয়ে যাওয়ার রাস্তাকে সহজ করেছে ভিডিও কনফারেন্সিং অ্যাপ জুম। নতুন স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে রিমোট ওয়ার্কিংয়ের পথ সহজ হওয়ায় আমেরিকান কর্মীরা বাসা বদল করে চলে যাচ্ছেন সবুজে ঘেরা গ্রামীণ শহরগুলোতে। জুমের সঙ্গে মিল রেখে নতুন এই আবাসন উদ্যোগগুলোকে বলা হচ্ছে জুম টাউন। লিখেছেন মুমিতুল মিম্মা
জুম টাউন
লস অ্যাঞ্জেলেসের বাসিন্দা শানেল শেরলিন। প্রকৃতি ভালোবাসেন বলে সব সময় শহরের কোলাহল থেকে দূরে থাকতে চেয়েছেন। ৩০ বছর বয়সী এই নারী একজন ট্রাইয়াথলন বিশারদ। অর্থাৎ, একই সঙ্গে দৌড়, সাইকেল চালানো ও সাঁতার কাটায় পারদর্শী একজন মানুষ। মহামারী-পরবর্তী অবস্থায় বাসায় থেকে কাজ করাটা সহজ হয়ে যায়। একটি বিনোদন সংস্থার ডিজিটাল মার্কেটিং ম্যানেজার হিসেবে কাজ শুরু করেন তিনি। ঘর থেকে কাজ করার সুবিধা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এমন কোথাও বাসা নিতে চাইছিলেন যেন চাইলেই দৌড়ানো বা সাইকেল নিয়ে বেরিয়ে পড়া যায়। আবার মন চাইলে সাঁতার কেটে আসাও যায়। কিন্তু চাইলেই তো আর সবকিছুর সমন্বয় করা সম্ভব হয় না। খোঁজ পেলেন উত্তর-পশ্চিম আরকানসাসে রিমোট ওয়ার্কারদের জন্য একটি বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ‘প্রতিভা প্রণোদনা’ নামে এই উদ্যোগে অংশগ্রহণের আবেদন করেন তিনি। জানতে পারলেন বিখ্যাত কোম্পানি ওয়ালমার্টের উত্তরাধিকারীদের কাছ থেকে ১.৫ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ পাওয়ার মাধ্যমে স্থানীয় কাউন্সিল এই উদ্যোগের আয়োজন করেছে। এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য আরকানসাস রাজ্যের উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলকে ঢেলে সাজানো। আবেদন গৃহীত হওয়ার পর যারা অন্তত এক বছরের জন্য এই অঞ্চলে স্থানান্তরিত হবেন, তাদের এই উদ্যোগের পক্ষ থেকে ১০ হাজার ডলার প্রণোদনা দেওয়া হবে। একজন সফল আবেদনকারী হিসেবে তিনি আরকানসাসের একটি ছোট শহর ফেয়েটভিলে এসে থাকতে শুরু করেন। তবে শুধু আর্থিক সুবিধার জন্যই নয়, সাইকেলবান্ধব পরিবেশও তাকে এই স্থানে বসবাস করতে বিশেষভাবে উৎসাহিত করেছে। তিনি দেখলেন অফিসের কাজ শেষ করেও সপ্তাহে তিনবার সাইকেল নিয়ে বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়ানো যায়। সেই সাইকেল ভ্রমণে কখনো তিনি একা থাকেন, কখনোবা থাকে চেনা-অচেনা সঙ্গী। ফেয়েটভিলে আসার পরে এলাকার মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার জন্য সামাজিক ক্লাব খুঁজে পেয়েছেন তিনি। একই পেশায় থাকা সমমনস্ক এমন অনেকের সঙ্গে পরিচিত হয়ে তার ভীষণ ভালো লেগেছে। দেখলেন অ্যাথলেটিকসের পাশাপাশি জীবিকা চালিয়ে যাওয়ার মতো এত দুর্দান্ত জায়গা আর হয় না।
এটি শুধু শানেল শেরলিনের একার কাহিনী নয়। বিশ্বজুড়ে শহুরে কর্মজীবীদের অন্য জায়গায় সরিয়ে নেওয়ার অনেক চেষ্টা আগেও করা হয়েছে। তবে কেন্দ্রীভূত অর্থনীতিকে বিকেন্দ্রীকরণের সব চেষ্টা সব সময়ই যে কার্যকর হয়েছে তা কিন্তু নয়। কিন্তু আরকানসাসের স্থানীয় কাউন্সিলের এই প্রচেষ্টাটি একেবারে ভিন্নধর্মী। শহরতলি বা বড় শহর থেকে দূরে স্থাপিত শহুরে আবাসনকেন্দ্র আগেও ছিল। তবে তখন তাদের বলা হতো স্যাটেলাইট টাউন। বর্তমানের পরিবর্তিত পৃথিবীতে এসে আরকানসাসসহ এ ধরনের আবাসন উদ্যোগগুলোকে বলা হচ্ছে জুম টাউন। কিন্তু নামের এই পরিবর্তন কেন? তার পেছনে রয়েছে কভিড-পরবর্তী ‘নতুন স্বাভাবিক’ পরিস্থিতির এক অতি জরুরি অনুষঙ্গ ‘জুম’।
জুম অ্যাপ
কভিড-১৯ প্রাদুর্ভাবের সময় যে ভিডিও কনফারেন্সিং অ্যাপ পৃথিবীকে বদলে দিয়েছে তার নাম জুম। ২০১১ সালে চাইনিজ বংশোদ্ভূত আমেরিকান এরিক ইউহানের হাতে এই অ্যাপের জন্ম হয়। শুরুর দিকে জুম এক মিটিংয়ে মাত্র ২৫ জন মানুষকে যুক্ত করতে পারত। ধীরে ধীরে এর জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে। দুই ধরনের ব্যবহারকারী আছে এর বিনামূল্যে ও টাকার বিনিময়ে ব্যবহারকারী। ২০১৩ সালে এর ব্যবহারকারীর সংখ্যা দাঁড়ায় চার লাখে। বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারী শুরু হলে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে এর ব্যবহারকারীর সংখ্যা দাঁড়ায় ২.২ মিলিয়ন। কভিড মোকাবিলায় ‘লকডাউন’ বা ‘সামাজিক দূরত্ব’-এর মতো শব্দগুলো যত বেশি পরিচিত হয়ে উঠেছে, জীবন ও জীবিকার তাগিদে মানুষকে তত বেশি ভাবতে হয়েছে বিকল্প উপায়ে সব সচল রাখার কথা। আগে কোনো অফিস কর্র্তৃপক্ষ ভাবতেই পারতেন না সম্পূর্ণ দূর-নিয়ন্ত্রিতভাবে (রিমোট ওয়ার্কিং) একটি পুরো প্রতিষ্ঠান চালানোর কথা। এক সপ্তাহের ভেতরে দূর-নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা স্থাপনের কথা তো কেউ চিন্তাতেই আনেনি। কিন্তু মহামারী শুরু হওয়ার কিছুদিনের মধ্যে প্রায় সব প্রতিষ্ঠানই বিকল্পব্যবস্থায় প্রতিষ্ঠান চালানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এই উদ্যোগকে সহজতর করে দিয়েছে জুম। যেকোনো প্রতিষ্ঠানের জন্য এই ডিজিটাল রূপান্তর একটি বিশাল পদক্ষেপ। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে যেকোনো প্রতিষ্ঠানের জন্য কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজ করার বিষয়টি আরও বেশি প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠবে। জুম দিয়ে এক দিনে যতগুলো কার্যকর ভিডিও কনফারেন্স বা মিটিং করা সম্ভব, সরাসরি উপস্থিত হতে হলে তা রীতিমতো অসম্ভব বিষয়। অনলাইন ক্লাস, পারিবারিক মানুষদের সঙ্গে সাক্ষাৎ, এমনকি পাশ্চাত্য বিশ্বে বিয়ের শপথ নেওয়ার মতো স্পর্শকাতর বিষয়ও জুমনির্ভর হয়ে উঠেছে। তবে এখানেই থেমে থাকার পরিকল্পনা নেই জুমের। সে সম্পর্কে জুমের প্রধান নির্বাহী এরিক জানালেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আদলে নতুন কিছু তৈরি করার কথা। সেই প্রযুক্তি বিভিন্ন দেশের ভাষা দ্রুততম সময়ে অনুবাদ করে দিতে সক্ষম। এরিক বলেন, ‘এটি এমন প্রযুক্তি হতে পারে যা বিশ্বের অন্য প্রান্তে বসে থাকা সহকর্মীর সঙ্গে ভার্চুয়াল করমর্দনের অভিজ্ঞতা দিতে সক্ষম। এমনকি সেই সহকর্মীর হাতে থাকার কফির সুবাস আপনার নাকে পৌঁছে দেয়।’ কিন্তু করোনা যত দিন থাকছে তত দিন ঘর থেকে কাজ চলবেই। শুধু তাই-ই নয় যেকোনো অবস্থান থেকে যেকোনো পরিস্থিতিতে কাজ চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ যখন এসে ধরা দিয়েছে, এ প্রযুক্তি স্থায়ী হতেই এসেছে। অতএব ‘জুম’ এখন ‘রিমোট ওয়ার্ক স্টেশন’-এর প্রতিশব্দ হয়ে উঠেছে।
রিমোট ওয়ার্কিং
১৯ শতক থেকেই শিল্প-বিপ্লবের নতুন জাগরণ অফিসের ও কর্মীর সম্পর্কে নতুন মাত্রা এনে দেয়। প্রতিষ্ঠানের কর্মী হয়ে থেকেও অফিসে আসার বাধ্যতামূলক বিধিবিধান আস্তে আস্তে শিথিল হতে শুরু করে। সময়ের সঙ্গে ধীরে ধীরে বেড়ে চললেও ২১ শতকে তথ্যপ্রযুক্তি জগতের বিপ্লব পুরনো সব ধ্যান-ধারণা বদলে দিয়েছে। এতে সবচেয়ে এগিয়ে ছিল টেলিযোগাযোগ খাত। বিশেষ করে ২০১০-এর ঘর থেকে কাজ করা (ওয়ার্ক ফ্রম হোম) কর্মীর হার ৪০০% বেড়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রায় ৭৮% কর্মী কোনো না কোনো সময় অফিসের বাইরে বসেই কর্মজীবন সামলে চলেছেন। পুরো প্রযুক্তি খাতে দুই ধরনের কোম্পানির চল আছে। এক ধরনের কোম্পানির সব কর্মী অফিসের বাইরে অবস্থান করে এবং অফিসের প্রয়োজনে সার্ভিস দিয়ে থাকে। অন্যটিতে কর্মীরা অফিস করলেও নিজের সুবিধামতো ঘরে বসেও কাজ করতে পারে। তথ্যপ্রযুক্তি খাতের অনেক বড় কোম্পানি তার কর্মীদের ঘরে বসে কাজ করার সুযোগ দিলেও ২০১৮ সাল পর্যন্ত ফেইসবুক বা আরও কিছু প্রতিষ্ঠান তাদের কর্মীদের সে ব্যাপারে উৎসাহ দিত না। তবে এখনকার পরিস্থিতিতে তারা সে সুযোগ দিতে বাধ্য হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৫ সাল নাগাদ ফেইসবুক তার অর্ধেক কর্মীকে ঘরে বসে কাজের আওতায় আনবে। প্রতিষ্ঠানগুলো এখন ঘর থেকে কাজ করাতে এতটাই অভ্যস্ত হয়ে গেছে যে, টুইটারের প্রধান নির্বাহী জ্যাক ডোরসি ঘোষণা দিয়েছেন টুইটারের যেকোনো কর্মী সারা জীবন ঘরে বসেই কাজ করে যেতে পারবেন। পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে গুগল তার ২০% কর্মীকে ঘরে বসে কাজের আওতায় ফেলছে।
জনপ্রিয়তার নেপথ্যে
ঘর থেকে কাজ করার সুবিধা পেলে সবাই চায় নিজের ইচ্ছেমতো স্থানে গিয়ে বসবাস করতে। সে ক্ষেত্রে বসবাসের স্থান হিসেবে বেশির ভাগ মানুষই সবুজ প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যে ভরা পরিবেশ বেছে নিয়েছে। ২০২০ সালের শেষ দিকে এক জরিপে অংশ নেওয়া ৪৮% আমেরিকানই জানিয়েছিলেন তারা যদি স্থানান্তরের সুযোগ পান তবে গ্রামীণ এলাকাই বেছে নেবেন। ২০১৮ সালে এই স্থানান্তরে আগ্রহী মানুষের হার ছিল ৩৯%। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শানেল শেরলিনের মতো প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতি ২০ জন কভিড-১৯-পরবর্তী অবস্থায় বসবাসের স্থান পরিবর্তন করেছেন। দেখা গেছে, ৩০ বছরের কম বয়সীদের ভেতরে এই স্থানান্তরিত হওয়ার প্রবণতা বেশি। নিউ ইয়র্ক ও সান ফ্রান্সিসকোর মতো ব্যয়বহুল শহরগুলোতে কভিডের ফলে ক্ষতিগ্রস্তের সংখ্যা অনেক বেশি। বিলাসী জীবনযাত্রায় অভ্যস্ত মানুষ যখন হঠাৎ করে চাকরিচ্যুতির মুখোমুখি হয় তখন সেই প্রভাব গিয়ে পড়ে সম্পূর্ণ জীবনযাপনে। তা ছাড়া কভিড-১৯-এর ফলে সামাজিক দূরত্বের নিয়ম মানতে মানতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সবাই। মানুষের সঙ্গ না পেলেও যেন প্রকৃতির সঙ্গ পাওয়া যায় সেই ব্যবস্থাকে জারি রাখতে অপেক্ষাকৃত কম অগ্রসর শহরে পাড়ি দিচ্ছে মানুষ। এতে প্রকৃতির সঙ্গ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গ্রামীণ শহরগুলোতে কমে আসছে জীবনযাপনের খরচ। যেহেতু ফেইসবুক ও টুইটারের মতো প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠানগুলো মহামারী জুড়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় ঘর থেকে কাজ করার সুবিধা দিয়ে যাচ্ছে তাই আমেরিকার প্রতিভাবান তরুণ প্রজন্ম নতুন দিগন্তের সন্ধানে উৎসাহিত হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ফেয়েটভিলের মতো উপেক্ষিত শহরগুলো এই সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে আগ্রহী হয়েছে। তবে চাইলে সবাই-ই যে গ্রামীণ পরিবেশে গিয়ে বসবাস করতে পারবেন তেমনটিও নয়। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল, শিল্পকলা ও গণিতসংশ্লিষ্ট মানুষ এখানে প্রাধান্য পেয়েছে। অ্যারিজোনার মতো প্রকৃতির অপূর্ব বৈচিত্র্যে ভরা রাজ্যেও এখন তাই এ ধরনের প্রণোদনা কর্মসূচি চালু হয়েছে। অ্যারিজোনার টুসান শহরে কেউ স্থানান্তরিত হলেই নগদ ৭ হাজার ৬৫০ ডলার পাচ্ছেন। পশ্চিম ভার্জিনিয়ার শহরগুলোতে স্থানান্তরের জন্য শুধু ১২ হাজার ডলার প্রণোদনাই পাবেন না, সঙ্গে পাবেন একটি অ্যাডভেঞ্চার প্যাকেজ। সেই প্যাকেজে থাকবে বিনামূল্যে গিয়ার ভাড়া, আশপাশের অ্যাপালেশন পর্বতমালায় আরোহণের জন্য কর্মশালা ও এক বছরের সব খরচ। সব মিলিয়ে এই অ্যাডভেঞ্চার প্যাকেজের মূল্য দাঁড়ায় ২০ হাজার ডলার।
অ্যাসেন্ড ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া ঠিক এ রকমই একটি বিকেন্দ্রীকরণ প্রণোদনার উদ্যোগ। এ উদ্যোগের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ব্র্যাড ডি স্মিথ ব্যাখ্যা করেন কেন হঠাৎ করে ঘর থেকে কাজ করার ব্যাপারে মানুষের আগ্রহ বেড়েছে। তিনি জানান, ‘গত এক দশকে মানুষের গ্রামীণ অঞ্চলে স্থানান্তরের প্রবণতা অনেকাংশে বেড়ে গেছে। নতুন প্রজন্ম গ্রামীণ পরিবেশকে নতুন শহর হিসেবে গ্রহণ করতে শুরু করেছে।’ তিনি আরও জানান, ‘পশ্চিম ভার্জিনিয়াকে টেকসই করে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে আমাদের এই কর্মসূচি চালু করা হয়। আমাদের অপূর্ব প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য প্রচারের মধ্য দিয়ে আমরা দেখিয়েছি এখানে জীবনযাপনের স্বাদ বাইরে পাওয়া সম্ভব নয়। ফলে মানুষ আগ্রহী হয়ে উঠেছে।’ ব্র্যাড ডি স্মিথ একই সঙ্গে সফটওয়্যার সংস্থা ইনটুইটের নির্বাহী চেয়ারম্যান। ব্র্যাড তার স্ত্রী অ্যালিসের সঙ্গে এই কর্মসূচিতে ২৫ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছেন। তিনি জানান, এই কর্মসূচি আগামী ৫ বছরে ১ হাজার রিমোট কর্মীকে ভার্জিনিয়ায় আনতে সাহায্য করবে। সেই সঙ্গে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এই স্থানান্তরিত নাগরিকদের জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত আয়োজনের ব্যবস্থা করা হবে। ইতিমধ্যে বিশ্বের ৭৩টি দেশ এবং আমেরিকার ৫০টি রাজ্য থেকে ৭ হাজারেরও বেশি মানুষ এই কর্মসূচিতে সাড়া দিয়ে আবেদন করেছেন। এ পর্যন্ত তাদের ভেতর থেকে ৫০ জনের আবেদন গৃহীত হয়েছে। আগামী শরতে তারা মরগানটাউনে আসতে থাকা শুরু করবেন। ব্র্যাড বলেন, ‘এই ব্যক্তিরা এসে নতুন চোখে আমাদের রাজ্যকে দেখবেন। ফলে নতুন মানুষের শক্তি, বৈচিত্র্য, প্রতিভা, চাকরি ও তাদের ক্রয়-ক্ষমতার একটি সামগ্রিক প্রবাহ এই রাজ্যকে অন্যরকম আবহ দেবে। তাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যেন এখানেই থাকতে চায় আমরা সে চেষ্টা করে যাচ্ছি।’
গত বছর আমেরিকান প্ল্যানিং অ্যাসোসিয়েশন জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় ইউটা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক দানিয়া রুমোর আমেরিকান পশ্চিমের পার্বত্যাঞ্চলের সম্প্রদায়ের জীবন মানোন্নয়নের দিকে নজর দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘এই বিকেন্দ্রীকরণ প্রক্রিয়ার একটি চ্যালেঞ্জ রয়েছে। ছোট শহরগুলো এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বড় শহরের চাপে পড়ে যাচ্ছে। ইচ্ছাকৃত গ্রামীণ অর্থনীতিতে সেই চাপ তৈরি করা হচ্ছে। যেন স্থানীয় অর্থনীতি নিজেকে সম্পূর্ণ ঢেলে সাজাতে পারে, বিকশিত করতে পারে। এই অর্থনৈতিক ব্যবস্থা বেশ বিচিত্র। অভিবাসনের ফলে তরুণরা আসছে। সাধারণত অবসর নেওয়ার সময় হলে প্রকৃতির কাছাকাছি বসবাস করতে আগ্রহী হয়ে উঠতে দেখা যায় পেনশনভোগী বৃদ্ধদের। কিন্তু তার পরিবর্তে তরুণরা গ্রামীণ এলাকায় আসছে। যারা তাদের বাচ্চাদের ইট-কাঠ-পাথুরে দেয়ালে ঘেরা পরিবেশে বেড়ে ওঠার বদলে সবুজ প্রকৃতির মধ্য থেকে বেড়ে উঠতে দিচ্ছেন। ফলে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে এর প্রভাব পড়বে।’
এবার প্রশ্ন আসতে পারে এই জুম টাউনের স্থায়িত্ব কত দিনের? ব্র্যাড ডি স্মিথ মনে করেন, ‘এই কর্মসূচি তখনই সফল হবে যখন নতুন অধিবাসীরা এই অঞ্চলের প্রেমে পড়বে ও দীর্ঘদিন ধরে এখানে বসবাসের সিদ্ধান্ত নেবে।’ অবশ্য গবেষক দানিয়া রুমোর বাজি ধরে বলছেন যে, অনেক অধিবাসী নতুন স্থানে তাদের নতুন বাড়িতে থেকে যাবে। একই সঙ্গে গ্রামীণ শহরগুলো তাদের নতুন বাসিন্দাদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বিকশিত হবে। চাকরির সঙ্গে সঙ্গে সুন্দর পরিবেশে সুন্দর বাসস্থান মানুষকে ভীষণ প্রভাবিত করে। তবে কেউই জানে না প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের রিমোট ওয়ার্কিংয়ের নীতি চিরকাল বজায় রাখবে কি না। তাই এ মুহূর্তে প্রকৃতিসংলগ্ন জুম টাউনগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে আগে থেকেই কিছু অনুমান করা কঠিন। বলা যায়, প্রতিষ্ঠানগুলোর রিমোট ওয়ার্কিংয়ের নীতিমালা-ই এ মুহূর্তে জুম টাউনের ভাগ্য নিয়ন্ত্রণ করছে।
