পল্টন, রমনা, ময়মনসিংহে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে পুলিশের মামলা

আপডেট : ১৯ জুন ২০২১, ১২:১১ এএম

পল্টন, রমনা মডেল থানাসহ ময়মনসিংহে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার ময়মনসিংহ ও নয়াপল্টনে ছাত্রদলের কর্মসূচিতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের অভিযোগে এসব মামলা হয়। ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামলসহ কয়েক শ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়। 

ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ শুক্রবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিনা উস্কানিতে পুলিশ আমাদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ মিছিলে হামলা করে আমাদের আহত করেছে। আবার আমাদের বিরুদ্ধেই রমনা ও পল্টন মডেল থানায় মামলা দিয়েছে পুলিশ।  

রমনা মডেল থানার এসআই তোফাজ্জল হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হঠাৎ করে নয়াপল্টনে মিছিল বের করলে এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়। মিছিলে তারা উস্কানিমূলক স্লোগান দেন। এ অবস্থায় পুলিশের পক্ষ থেকে তাদের বাধা দেওয়া হলে তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। জবাবে পুলিশ লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পুলিশের ওপর হামলার কারণে তাদের বিরুদ্ধে রমনা মডেল থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। মিছিল থেকে দুজনকে আটক করা হয়। তাদেরকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। বাকীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।     

ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল দেশ রূপান্তরকে বলেন, 'দলের প্রতিষ্ঠা ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪০তম শাহাদাৎবার্ষিকী উপলক্ষে বৃহস্পতিবার ময়মনসিংহে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছিলো। কিন্তু পুলিশ হঠাৎ করে সমাবেশস্থলে এসে হামলা করে সভা পণ্ড করে দেয়'।  

ময়মনসিংহের কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ তালুকদার জানান,  বৃহস্পতিবার সমাবেশে সংগঠনটির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনায় ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামলসহ ৩৮ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা হয়।

শুক্রবার (১৮ জুন) দুপুরে ওসি ফিরোজ তালুকদার বলেন, বিস্ফোরক আইন এবং পুলিশের কাজে বাধা-হামলা মামলায় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামলসহ ৩৮ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত ৪০০ থেকে ৫০০ ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। মামলার বাদী কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মানিকুল ইসলাম।

বৃহস্পতিবার (১৭ জুন) বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষীকি উপলক্ষে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নগরীর দক্ষিণ চরকালিবাড়ি দাখিল মাদ্রাসা মাঠে ছাত্রদলের সভায় এ সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) ফারুক হোসেন ও পরিদর্শক (অপারেশন) ওয়াজেদ আলীসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। এ ঘটনায় ওই দিনই ছাত্রদলের ৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়। 

এ ঘটনার পর নয়াপল্টনে প্রতিবাদ মিছিল করে ছাত্রদল। সেখানে পুলিশ তাদের ধাও দেয়। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত