গরমকালের সেরা ফল বলতে ফলের রাজা আমকেই বোঝায়। বিশ্বজুড়ে বহু প্রকারের আম রয়েছে। ভারতেও একাধিক আমের ফলন হয়, যার স্বাদ-গন্ধ অতুলনীয়। তবে মধ্যপ্রদেশে এক বিরল প্রজাতির আম নিয়েই দারুণ এক ঘটনা ঘটল। দুটি গাছের আম রক্ষায় ৪ প্রহরী ও ৬ কুকুর নিয়োজিত করেছেন মধ্যপ্রদেশের জবলপুরের এক দম্পতি। তাদের ধারণা, এগুলো বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল জাত মিয়াজাকি আম। এ জন্যই সেগুলো রক্ষা করতে ৪ নিরাপত্তারক্ষী এবং ৬ কুকুরকে পাহারায় বসিয়েছেন সংকল্প ও রানি পারিহর দম্পতি।
ভারতের সংবাদমাধ্যমগুলোর খবর, জবলপুর জেলা শহর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে চারগাঁও সড়কে অবস্থিত সংকল্প ও রানি পারিহরের বাগানটি। বাগানটিতে এক হাজারের বেশি বিভিন্ন ধরনের গাছ রয়েছে। এর মধ্যে মিয়াজাকি আমগাছ দেড়শর মতো। তার মধ্যে কয়েকটি গাছে ফল ধরতে শুরু করেছে গত বছর থেকেই। এবারও দুটি গাছে ফল ধরেছে।
সংকল্প পারিহর বলেন, ‘প্রায় পাঁচ বছর আগে আমরা বিভিন্ন রঙের নারকেলের বিরল জাত খুঁজতে চেন্নাই যাই। চেন্নাই সফরের উদ্দেশ্য নিয়ে এক সাধারণ আলাপের সময়ে এক সহযাত্রী আমাদের এই বিরল প্রজাতির আম সম্পর্কে জানান। প্রথম দিকে আমি এই জাত সম্পর্কে সচেতন ছিলাম না। কিন্তু একবার ফল ধরার পর বুঝতে পারি এই গাছগুলো কোনো বিরল প্রজাতির।’ গত বছর আম চুরি হয়ে যাওয়ায় নিরাপত্তা বাড়াতে বাধ্য হয়েছেন পারিহর। তিনি বলেন, ‘গত বছর চুরির ঘটনা ঘটে। সেই কারণে আমরা নিরাপত্তা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিই। গত বছর আমাদের একটি কুকুর ছিল, এ বছর আছে ৬টি। এ ছাড়া আমরা ৪ জন প্রহরী নিয়োগ করেছি।’
সংকল্প পারিহর জানান, ‘এখন পর্যন্ত তারা একটা আমও বিক্রি করেননি। তবে একটা আমের জন্য এক ক্রেতা ২১০০ রুপি দিতে চেয়েছিলেন।
এই আমের গড়ন সাধারণ আমের চাইতে বড় ও লম্বা, স্বাদে মিষ্টি এবং আমের বাইরের আবরণ দেখতে গাঢ় লাল অথবা লাল-বেগুনির মিশ্রণে একটি রঙের। একেকটি আমের ওজন ৩৫০ থেকে ৪৫০ গ্রামের মতো
আন্তর্জাতিক বাজারে মিয়াজাকি আম ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা কেজি দরেও বিক্রি হয়েছে। খোদ জাপানেই একটি মিয়াজাকি আমের দাম ভারতীয় মুদ্রায় ১৫ হাজার রুপির বেশি হতে পারে।
