২০ বছর পর চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলন ভার্চুয়ালি হতে যাচ্ছে আজ শনিবার। দিনব্যাপী এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে নগরীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে। সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যোগ দেবেন কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। পাশাপাশি যোগ দেবেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের ঊর্ধ্বতন নেতারাও।
বহুল আকাক্সিক্ষত স্বেচ্ছাসেবক লীগের এ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে নগরজুড়ে বিরাজ করছে উৎসব। আন্দরকিল্লা, চেরাগি মোড়, জামালখান-প্রেস ক্লাব, কাজিরদেউড়ি, সার্কিট হাউজ, টাইগারপাস মোড়, ইস্পাহানি মোড় এলাকায় পদপ্রত্যাশী বিভিন্ন নেতার ব্যানারে ছেয়ে গেছে। তবে কাউন্সিলর অধিবেশনে ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে হবে নাকি কেন্দ্র থেকে কমিটি ঘোষণা করা হবে তা জানা যায়নি। কর্মীদের আলোচনায় চলছে জল্পনা-কল্পনা কে হচ্ছেন সভাপতি-সম্পাদক। গুঞ্জন রয়েছে, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতারা মূলত চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের মধ্যে বিদ্যমান দুই নেতার অনুসারীদের মধ্য থেকে সমন্বয়ের মাধ্যমে কমিটি করে দেবেন। যদিও কমিটির সভাপতি-সম্পাদক পদ পেতে পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী বায়োডাটা কেন্দ্রে জমা দিয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক এইচএম জিয়াউদ্দিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, করোনা মহামারীর কারণে বারবার পিছিয়ে যাওয়া সম্মেলন শনিবার ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত হবে। ইতিমধ্যে গঠিত ৫০১ সদস্যের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির মাধ্যমে আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে এ সম্মেলনে নেতাকর্মীরা উপস্থিত থাকবেন। ঢাকা থেকে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ ও সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান বাবু ভাইসহ আমাদের নেতা কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, বাহাউদ্দিন নাছিম ভার্চুয়ালি সম্মেলনে যোগ দেবেন।
জানা যায়, ২০০১ সালে তিন মাসের জন্য চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। তখন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা অ্যাডভোকেট এএইচএম জিয়াউদ্দিনকে আহ্বায়ক এবং কেবিএম শাহজাহান ও সালাউদ্দিন আহমেদকে যুগ্ম আহ্বায়ক এবং ১৮ জনকে সদস্য করে আহ্বায়ক কমিটি গঠন হয়। সেই থেকে এ কমিটি দিয়েই চলছে সংগঠনটি। এ আহ্বায়ক কমিটি ২০ বছর পার করায় গড়ে ওঠেনি নতুন নেতৃত্ব। তবে সম্প্রতি সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির নতুন নেতৃত্ব এসে এ ‘বুড়ো স্বেচ্ছাসেবক লীগ’ কমিটির নেতৃত্ব পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা জানান, মূলত চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সিটি মেয়র প্রয়াত এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী (যা এখন তারই ছেলে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের অধীনে) ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদ্য সাবেক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারীদের মধ্যে সভাপতি-সম্পাদক পদ দুটো সমন্বয় হতে পারে। তবে সবকিছু কেন্দ্রীয় নেতাদের সিদ্ধান্তেই হবে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বর্তমানে চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের নতুন কমিটির সভাপতি-সম্পাদকসহ গুরুত্বপূর্ণ পদ পাওয়ার ক্ষেত্রে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেনÑ স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা সালাউদ্দিন আহমেদ, কমার্স কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি হেলাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনে সদ্য নির্বাচিত কাউন্সিলর আবুল হাসনাত মো. বেলাল, ইসলামিয়া কলেজ ছাত্রলীগ নেতা আজিজুর রহমান আজিজ, আইন কলেজের সাবেক ভিপি সুজিত দাশ, অ্যাডভোকেট তসলিম উদ্দিন, আবদুর রশিদ লোকমান, দেবাশীষ পাল দেবু, মিনহাজুল আবেদীন সায়েম, সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক ফয়সাল বাপ্পী, সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা দেবাশীষ আচার্য্য, আনোয়ার ইসলাম বাপ্পী, নুরুল কবির, ইলিয়াছ উদ্দিনসহ ছাত্রলীগ ও যুবলীগের একাধিক সাবেক নেতা।
কোন প্রক্রিয়ায় কমিটি গঠন করা হবে জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান বাবু দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সভাপতি-সম্পাদক পদে একেকজন একেকজনকে মেনে নিলে তো ওভাইবেই হবে। অন্যথায় সম্মেলনে নেতাকর্মীদের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত হবে। তবে আমরা চাই একটি গতিশীল কমিটি গঠন করতে। যাতে আগের কমিটির মতো নির্জীব না হয়। আশা করি সুন্দর একটি কমিটি গঠন হবে, অপেক্ষা করুন।’
কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ বলেন, ‘এখন তো সবাই নেতা হতে চান। সভাপতি-সম্পাদক হতে পাঁচ শতাধিক বায়োডাটা জমা পড়েছে। আমরা চাই সাবেক ছাত্রলীগ নেতাসহ আওয়ামী লীগের অন্যান্য সহযোগী সংগঠনের ক্লিন ইমেজের নেতার সমন্বয়ে চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের নতুন এই কমিটি করতে।’
