দু’পক্ষের সংঘর্ষ

রাজশাহীতে পুলিশ পাহারায় জুমার নামাজ

আপডেট : ১৯ জুন ২০২১, ০১:৫৬ এএম

রাজশাহীতে করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি ও কঠোর ‘লকডাউন’ ভেঙে দুপক্ষের সংঘর্ষ হয়েছে। নগরীর হেতেম খাঁ লিচুবাগান এলাকায় দুপক্ষের সংঘর্ষের জের ধরে গতকাল শুক্রবার ওই এলাকায় পুলিশ পাহারায় জুমার নামাজ হয়েছে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ওই এলাকায় মারামারির ঘটনা ঘটে। এ সময় রাজশাহী মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রকি কুমার ঘোষকে দায়ী করে মসজিদের মাইক থেকে ঘোষণা দিয়ে এলাকাবাসীকে জড়ো করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। মসজিদে হামলা করা হয়েছে বলেও ওই সময় দাবি করে প্রতিপক্ষরা। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

পুলিশ বলছে, ছোট্ট একটি মারামারির ঘটনাকে ধর্মীয় ইস্যু বানানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে এখন পরিবেশ শান্ত রয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, নিজেদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারের জেরে নগরীর হেতেম খাঁ লিচুবাগান এলাকা এবং সিপাইপাড়া এলাকার কিছু কিশোর ও যুবকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় সেখানে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা রকি কুমার ঘোষ গেলে উত্তেজনা আরও ছড়িয়ে পড়ে। ১০ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন শাওন ও রকি কুমার ঘোষের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। এলাকায় গুঞ্জন রটে যায়, রকি কুমার ঘোষ তার দলবল নিয়ে মসজিদে হামলা করেছে। লিচুবাগান মসজিদ থেকে লোকজনকে জড়ো হওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হলে এলাকার লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। তবে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পুলিশ পাহারাতেই জুমার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

উত্তেজনাকর পরিস্থিতি নিয়ে সমঝোতা করতে দুপুরে ওই এলাকায় যান মহানগর আওয়ামী লীগের নেতারা। তারা দুপক্ষের সঙ্গেই কথা বলেছেন এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পরামর্শ দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে রকি কুমার ঘোষ দাবি করে বলেছেন, ‘আমার ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক কোনো ঝামেলা না। এখানে দুই পাড়ার ছোটদের ঝামেলা, আমি এলাকার ভাই হিসেবে তাদের থামানোর উদ্দেশ্যে গিয়েছিলাম। কিন্তু তারা আমাকেই দোষারোপ করছে। আমি আমার ধর্ম ও মন্দিরকে যেমন ভালোবাসি ঠিক তেমনি মুসলমান ও মসজিদকে শ্রদ্ধা করি। আমি মুসলমানদের বিশেষ দিনগুলোতে বিভিন্নভাবে সাহায্য-সহযোগিতা করে থাকি। যা এই এলাকার মানুষকে জিজ্ঞাসা করলেই পাওয়া যাবে। অথচ এখানে চক্রান্ত করে আমার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ও সম্মান নষ্ট করার জন্য একটি মহল চক্রান্ত করছে। সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে, দেখেন আমার কোনো সম্পৃক্ততা আছে কি না। যদি আমার দোষ বা সম্পৃক্ততা থাকে তাহলে আইন যে শাস্তি দেবে আমি মাথা পেতে নেব।’

এ বিষয়ে জানতে ১০ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন শাওনের মোবাইল ফোনে বেশ কয়েকবার কল করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার গোলাম রুহুল কুদ্দুস বলেন, ‘জুমার নামাজের সময় পুলিশ পাহারায় ছিল। ঘটনার সময় পুলিশ হাজির হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে। এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘মসজিদে হামলা বা ধর্মীয় কোনো বিষয় এ ঘটনার সঙ্গে নেই। পুলিশ তদন্ত করে সাম্প্রদায়িক তেমন কিছু পায়নি। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত পুলিশের কাছে কোনো অভিযোগও আসেনি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত