বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ওয়ান-ইলেভেনের পরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে জিয়াউর রহমানকে খলনায়কে পরিণত করতে ক্যাম্পেইন শুরু করে, যা এখনো অব্যাহত রয়েছে। তাই আমাদেরকে এর কাউন্টার করতে হবে। এর অংশ হিসেবে জিয়াউর রহমান জীবন-কর্মের ওপর গবেষণাধর্মী কাজ এবং নতুন প্রজন্মকে স্বাধীনতার প্রকৃত ইতিহাস জানাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সাদা দলের শিক্ষকদের এগিয়ে আসতে হবে। গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
ঢাবি সাদা দল ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান : ইতিহাসের ধ্রুবতারা’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন ও প্রকাশনা উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। বইটিতে জিয়াউর রহমানের লেখা তিনটি ও ১৪ জন শিক্ষকের প্রবন্ধ স্থান পেয়েছে। রয়েছে জিয়া পরিবারের ছবি সংবলিত অ্যালবাম। বইটি পাওয়া যাবে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ষষ্ঠ তলায় জিয়া স্মৃতি পাঠাগারে। সংকলিত গ্রন্থটির প্রকাশক ঢাবি সাদা দল। এর প্রচ্ছদ এঁকেছেন মো. ইসরাফিল প্রামাণিক রতন। ২০০ পৃষ্ঠার গ্রন্থটির দাম ৪০০ টাকা।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা থেকে শুরু করে সর্বনিম্ন যে কর্মী সবাই একই সুরে কথা বলেন। তারা বলেন, জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধের ঘোষক ছিলেন না। তিনি মুক্তিযুদ্ধ করেননি। তিনি পাকিস্তানের অনুচর ছিলেন। তাকে খলনায়ক বানাতে চায়। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে বই-পুস্তকে মিথ্যা ইতিহাস তুলে ধরছে। আজকে শিশুদেরকে শেখানো হয় যে জিয়াউর রহমান হচ্ছেন কিলার। শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যার সঙ্গে নাকি জিয়াউর রহমান জড়িত। তাদের এমন অপপ্রচার ও অপচেষ্টার বিরুদ্ধে আমাদের কাউন্টার দিতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘১৯৭১ সালে স্বাধীনতার যে যুদ্ধ হয়েছে, রেসকোর্সে যে অস্ত্র সমর্পণ হয়েছে সেখানে কারা কারা ছিল? আমরা যারা ইতিহাস পড়ি তারা জানি, আমাদের যে সর্বাধিনায়ক জেনারেল ওসমানী, তিনিই ছিলেন না। অথচ (ভারতের) আর্মির কাছে সারেন্ডার করেছে। এ বিষয়গুলো জানা দরকার। ’৭৫ সালের পরে কেন কী কারণে এত বড় একটা রাজনৈতিক দল, একজন অবিসংবাদিত নেতা, কী কারণে অতিদ্রুত এ দেশের মানুষের আস্থা হারালেন এ জিনিসগুলো বোঝা দরকার, জানা দরকার।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমি কখনো কাউকে ছোট করতে চাই না। যার যেটা পাওনা আছে সেটা তাকে দিতে হবে। পাওনাটা আছে যার, যিনি যুদ্ধ শুরু করলেন, অবস্থা পাল্টে দিলেন, যুদ্ধ শুরু করে দেশের স্বাধীনতার মূল কাজটা শুরু করলেন, তাকে একেবারে বাদ দিয়ে দিলেন? শুধু তাকে না, তাদের (আওয়ামী লীগ) লোকগুলোকেও বাদ দিয়েছে। ওসমানীর কথা একবারও বলে না। তাজউদ্দীনের কথা কেউ একবার উচ্চারণও করে না। মানে একজন মানুষ ছাড়া আর কোনো মানুষই নেই, এখন এই হচ্ছে তাদের ইতিহাস।’
ঢাবি সাদা দলের শিক্ষকদের দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ঢাবি সাদা দলসহ আমরা যারা শিক্ষক রাজনীতির সঙ্গে কিছুটা পরিচিত আছি তারা জানি যে, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শনে যারা বিশ্বাস করেন তাদের সম্মিলিত একটা সংগঠন এটি। আমার কাছে যেটা মনে হয় যে একেবারে দলীয় সংগঠনে পরিণত হওয়াটা বোধহয় খুব একটা ভালো হবে না। দলের জন্য হবে না, নিজেদের জন্য হবে না, রাজনীতির জন্যও হবে না।’
ঢাবি সাদা দলের সাবেক আহ্বায়ক ও বিএনপির শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাদা দলের বর্তমান আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. লুৎফর রহমানের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ঢাবির সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী, সাবেক অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ, বিএনপির সহ-প্রশিক্ষণ সম্পাদক ও ঢাবি সাদা দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান, সাদা দলের যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান প্রমুখ।
