না.গঞ্জে বর্ষা শুরু হতে না হতেই জলাবদ্ধতা

আপডেট : ২০ জুন ২০২১, ১০:৪০ পিএম

শুরু হওয়ার এক সপ্তাহও পার হয়নি বর্ষা ঋতুর। এরই মধ্যে নারায়ণগঞ্জ মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির পানি আটকে পড়ে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ড্রেনেজ ব্যবস্থা পানিতে তলিয়ে গেছে। এ ঘটনায় শহরের প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লা ও রাস্তাঘাট সবখানেই পানি আটকে পড়েছে। অনেক এলাকায় বাড়িঘরেও পানি প্রবেশ করেছে। সেসব এলাকার অনেকের ঘরেই আবার হাঁটুপানি জমে গেছে। পাশাপাশি বৃষ্টির পানির সঙ্গে ড্রেনের ময়লা-দূষিত পানি মিশে দুর্গন্ধ ও দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। একই অবস্থা নগরীর বাইরে ইউনিয়ন পরিষদভুক্ত এলাকাগুলোরও। সেখানকার কোথাও কোথাও সড়কে যানবাহনের সঙ্গে নৌকা চলাচল করতে দেখা গেছে।

গতকাল রবিবার নগরীর জামতলা, পশ্চিম মাসদাইর, গলাচিপা, দেওভোগসহ আশপাশ এলাকা এবং নগরীর বাইরে ফতুল্লার লালপুর, কুতুবপুর, বেলপাড়া, ইসদাইর এলাকায় সরেজমিন ঘুরে এসব চিত্র চোখে পড়েছে। এর মধ্যে জামতলা এলাকায় দেখা গেছে, বৃষ্টির পানিতে প্রধান সড়ক তলিয়ে গেছে। গত তিন দিন ধরে জলাবদ্ধতা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। এলাকার বাড়িগুলোর নিচতলায় পানি প্রবেশ করেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সেখানকার প্রধান সড়কের অর্ধেক অংশ উঁচু করা হলেও বাকি অংশটুকু নিচু রেখে দিয়েছে নগর কর্র্তৃপক্ষ। এর ফলে নিচু অংশে অতিরিক্ত পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি করেছে। এত বিশাল এলাকার পানি নিষ্কাশনের পথ মাত্র একটি হওয়ায় এখানকার পানি সরতে চার-পাঁচ দিন সময় লেগে যাচ্ছে। ফলে অবর্ণনীয় কষ্টে পড়েছেন নগরবাসী।

এদিকে জলাবদ্ধতার কারণে ফতুল্লার বিভিন্ন এলাকায় বাড়িঘর ও রাস্তা পানিতে তলিয়ে গেছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে তিনটি ইউনিয়নের কয়েক ওয়ার্ডের হাজারো মানুষ। নৌকায় ও ভ্যানে করে চলাচল করতে হচ্ছে তাদের। সরেজমিন দেখা গেছে, সদর উপজেলার ফতুল্লা ইউনিয়নের লালপুর, পৌষারপাড়, এনায়েতনগর ইউনিয়নের উত্তর মাসদাইর ও কুতুবপুর ইউনিয়নের আলীগঞ্জ, নয়ামাটি, চিতাশাল, নুরবাগ ও দক্ষিণ দেলপাড়াসহ আশপাশের কয়েকটি এলাকার হাজারো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এসব গ্রামের ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় ইট দিয়ে ঘরের আসবাবপত্র উঁচু করা হয়েছে। ঘরের ভেতর পানি থাকায় রান্না করতে ভোগান্তিতে পড়েছে নারীরা। ময়লা ও দূষিত কালো পানি পেরিয়ে চলাচল করছে এলাকাবাসী।

লালপুর এলাকার কামাল হোসেন বলেন, ‘এলাকার মানুষ পানিতে মরলেও কারও কিছু যায়-আসে না। চেয়ারম্যান, মেম্বারের বাড়িতে তো পানি ওঠে নাই, তাই তারা বোঝে না মানুষের কষ্ট। এলাকার মানুষ চেয়ারম্যানদের কাছে গেলে তারা কয় দেখতাছি, কিন্তু পানি তো যায় না।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এনায়েতনগর ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘পানি নিষ্কাশনের জন্য দুটি মোটরের পাম্প বসানো হয়েছে। কিন্তু তাতেও পানি সরানো সম্ভব হচ্ছে না। তার কারণ এলাকাটা নিচু। পাশের আরও দুটি ইউনিয়নেও একই সমস্যা। সমস্যা নিরসনে জেলা প্রশাসনের কাছে পাম্প বাড়ানোর আবেদন করেছি। পাম্প বাড়ানো হলে পানি কমে যাবে।’ নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মুস্তাইন বিল্লাহ বলেন, ফতুল্লার কয়েকটি এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে একটি পাম্প দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে চার সদস্যের একটি কমিটি করা হয়েছে। সমাধানের উপায় খুঁজে বের করতে কমিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত