বৈশ্বিক বিনিয়োগ হ্রাস ৩৫ শতাংশ

বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ কমেছে ১১ শতাংশ

আপডেট : ২২ জুন ২০২১, ০১:৩৮ এএম

করোনা মহামারীর বছরে বিশ্বের অনেক দেশের মতো বাংলাদেশেও বিদেশি বিনিয়োগ আসা কমেছে। ইউনাইটেড নেশনস কনফারেন্স অন ট্রেড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আঙ্কটাড) প্রকাশিত ওয়ার্ল্ড ইনভেস্টমেন্ট রিপোর্ট ২০২১’ এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ আগের বছরের বিনিয়োগের তুলনায় ১১ শতাংশ কমেছে। এ সময়ে বৈশ্বিক বিনিয়োগ কমেছে ৩৫ শতাংশ।

প্রতিবেদনের তথ্যমতে, আলোচিত বছরে ২৫৬ কোটি ৪০ লাখ ডলারের বিদেশি বিনিয়োগ পায় বাংলাদেশ। ২০১৯ সালে এর পরিমাণ ছিল ২৮৭ কোটি ৪০ লাখ ডলার। এর আগের বছর ২০১৮ সালে বিদেশি বিনিয়োগ এসেছিল ৩৬১ কোটি ৩০ লাখ ডলার, এক বছরে যা ছিল সর্বোচ্চ।

গতকাল সোমবার সারা বিশ্বে একযোগে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক এই সংস্থাটি। করোনার কারণে অর্থনীতি সংকুচিত হওয়া এবং বাংলাদেশে গত বছর প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাকের ৩০০ কোটি ডলারের রপ্তানি আদেশ বাতিল হওয়ায় দেশটির সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফিডআই) কমেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। যেগুলোর বেশির ভাগই দিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দেশগুলোর ক্রেতারা বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এ নিয়ে পরপর দুই বছর আগের বছরের তুলনায় বাংলাদেশে এফডিআই কমল।

তবে সারা বিশ্বেই বিদেশি বিনিয়োগ কমেছে। আঙ্কটাডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২০ সালে বৈশ্বিক বিদেশি বিনিয়োগ নেওয়া দেশগুলোতে মোট ১ লাখ কোটি ডলারের বিনিয়োগ পৌঁছায়। যা ২০১৯ সালে ছিল ১ লাখ ৫০ হাজার কোটি ডলার।

এফডিআইয়ে বিপর্যয়ের মূল কারণ হিসেবে কভিড মহামারীর প্রভাবকে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতিবেদনের ভূমিকায় জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস বলেন, এক দশক আগে বিশ্বমন্দার সময়কার চেয়েও এফডিআই নিচে নেমে গেছে।

এ সময়ে বিশেষভাবে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে উন্নয়নশীল দেশের শিল্প-কারখানার পাশাপাশি নতুন অবকাঠামো খাতের বিনিয়োগ। এটি এখন শঙ্কার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেননা গরিব দেশগুলোতে টেকসই উন্নয়নের জন্য এফডিআই খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন গুতেরেস। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি এবং আর্থিক খাতের বড় অঙ্কের বিদেশে বিনিয়োগ এই সময়ে ফিনটেক, ওষুধ, এলএনজি কেন্দ্র ও কৃষিভিত্তিক উদ্যোগে স্থানান্তরিত হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার এসব খাতে বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য উৎসাহিত করে আসছে। বাংলাদেশ ও বিশ্বে কমলেও গত বছর এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এফডিআই ৪ শতাংশ বেড়ে ৫৩ হাজার ৫০০ কোটি ডলার হয়েছে।

আঙ্কটাডের বিনিয়োগ ও উদ্যোগ বিষয়ক পরিচালক জেমস জান বলেছেন, ‘মহামারীকালেও এই অঞ্চলে এফডিআই যেমন বেড়েছে, তেমনি এখান থেকে অন্যত্রও বিনিয়োগ করার পরিমাণ বেড়েছে। শুধু উন্নয়নশীল এশিয়াতেই বিদেশি বিনিয়োগে প্রবৃদ্ধি হয়েছে, যেখানে বিশ্বের মোট এফডিআইয়ের অর্ধেকের বেশি এখান থেকে হয়েছে এবং এখান থেকে অন্য দেশে বিনিয়োগ করা হয়েছে।’

তার মতে, ২০২১ সালেও বাণিজ্য ও শিল্প-উৎপাদন কার্যক্রম পুনরুদ্ধার এবং শক্তিশালী জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসের কারণে এশিয়া সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ায় ২০ শতাংশ বেড়ে বিদেশি বিনিয়োগ হয়েছে ৭ হাজার ১০০ কোটি ডলার। এরমধ্যে ভারতে ২৭ শতাংশ বেড়ে হয়েছিল ৬৪০ কোটি ডলার।

এই অঞ্চলের অন্য দেশগুলোর মধ্যে শ্রীলঙ্কার এফডিআই কমেছে সবচেয়ে বেশি, ৪৩ শতাংশ। পাকিস্তানের ৬ শতাংশ কমে এফডিআইয়ের পরিমাণ ছিল ২১০ কোটি ডলার। বাংলাদেশ সরকার বিদেশি বিনিয়োগের বাধা দূর করতে আইন সংস্কারসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে বলেও আঙ্কটাডের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব পদক্ষেপের মধ্যে পাঁচটি আইন সংস্কারের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

আঙ্কটাড বলছে, বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার এফডিআই পুনরুদ্ধার করতে সময় লাগবে। কেননা, এই দেশগুলোতে বিদেশি বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি অনেকাংশে কমে গেছে। গ্রিনফিল্ড ইনভেস্টমেন্ট প্রকল্পের ঘোষণা সংকেত দিচ্ছে যে পরবর্তী বছরগুলোতে এই বিনিয়োগ কমে আসবে। বাংলাদেশে এই বিনিয়োগ ৮৭ শতাংশ কমবে এবং শ্রীলঙ্কাতে কমবে ৯৬ শতাংশ।

 তবে উদ্ভূত প্রেক্ষাপটে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে যাওয়ার জন্য বাংলাদেশ ও নেপালকে প্রয়োজনীয় কাজ এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছে আঙ্কটাড। এই দুটি দেশ আগামী ২০২৬ সালের মধ্যে এলডিসি থেকে উত্তরণে যাওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত