সাংবাদিকদের অর্থমন্ত্রী

ভারত টিকার টাকা ফেরত দেবে কি না দেখবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়

আপডেট : ২৪ জুন ২০২১, ০২:০৪ এএম

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, ভ্যাকসিন দিতে না পারলে ভারতের কাছ থেকে টাকা ফেরতের বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দেখভাল করবে। চুক্তি অনুযায়ী কত দিন সময় নিয়েছিল সেটি দেখতে হবে। অবশ্যই এটা ঠিক, তারা (ভারত) ফেইল করলে বা না পারলে টাকা ফেরত দেবেই।

গতকাল বুধবার অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ভার্চুয়ালি ১৮তম অর্থনৈতিক বিষয়কসংক্রান্ত ও ২২তম সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে এক প্রশ্নের জবাবে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। অর্থনৈতিকসংক্রান্ত সভায় একটি এজেন্ডা এবং ক্রয়সংক্রান্ত কমিটির সভায় ১৬টি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ক্রয়সংক্রান্ত কমিটির অনুমোদিত ১৬ প্রকল্প প্রস্তাবে মোট অর্থের পরিমাণ ১ হাজার ৩৯ কোটি ৩ লাখ ৩২ হাজার ৮৬৮ টাকা।

মুস্তফা কামাল বলেন, ‘অপ্রদর্শিত টাকা সাদা করার বিষয়ে জানতে আরও কয়েকটা দিন অপেক্ষা করতে হবে। আমরা অর্থ বিলটি সংসদে পাস করব ২৯ তারিখে, সে পর্যন্ত আপনাদের অপেক্ষা করতে হবে।’

নতুন অর্থবছরে সামষ্টিক অর্থনীতিতে চ্যালেঞ্জ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘চ্যালেঞ্জ অনেক, চ্যালেঞ্জ নেই তা বলব না। আমরা চ্যালেঞ্জগুলোকে সবসময় সুযোগ হিসেবে চিন্তা করি। কারণ ইতিহাস থেকে আমরা দেখেছি অর্থনৈতিক দিক থেকে যখনই কোনো দেশে চ্যালেঞ্জ আসে তাদের অপরচুনিটি বাড়ে। আমাদের অপরচুনিটিও বাড়বে। এর মাঝে এই বছর শেষের দিকে চলে এসেছে, এখানেও আমরা দেখেছি তুলনামূলক বছরের প্রথম থেকে শুরু করি। বছর শেষে আমাদের সামষ্টিক অর্থনীতির গতিবিধি অনেক ঊর্ধ্বমুখী। অনেকেই ধারণা করেছিলেন আমরা অর্জন করতে পারব না, সেটি অর্জন করতে পেরেছি। প্রধানমন্ত্রীর সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের কারণে এটি করতে পেরেছি।’

তিনি বলেন, ‘রেভিনিউ অর্জনে ছিল আমাদের প্রধান সমস্যা। রেভিনিউ অর্জন এখন আমাদের ১৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি। আমাদের এক্সপোর্টেও ১৪ শতাংশ গ্রোথ আছে। রিজার্ভের পরিমাণও ৪৬ বিলিয়ন ডলার ছুঁই ছুঁই করছে, এ মাসেই ৪৬ বিলিয়ন ডলার হয়ে যাবে। রেমিট্যান্সের পরিমাণ ২৫ বিলিয়ন ডলার, গত বছর ১৮ বিলিয়ন ডলার ছিল।’

ঘাটতি বাজেট বাস্তবায়নে সামনে কোনো চ্যালেঞ্জ দেখছেন কি না জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বাজেট ঘাটতি এ বছর পৃথিবীর সব দেশই অনুসরণ করছে। গত বছর প্রথমেই প্রণোদনা প্যাকেজ দিয়েছি। জনগণের কাছে টাকার জোগান দিয়েছি বিভিন্ন প্রক্রিয়ায়। এতে সবাই অন্তত খাবার পেয়েছে, মোটামুটিভাবে তারা তাদের জীবন-জীবিকা নির্বাহ করতে পেরেছে। এ জন্য আমি বলি বাজেটে ঘাটতি আমাদের একার নয় সবার।’

তিনি আরও বলেন, ‘জাতিসংঘের মহাসচিব প্রত্যেক দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের কাছে অনুরোধ করেছেন যাতে এই বিষয়টি সাংঘর্ষিক না হয়। আমরা সেটিই অনুসরণ করেছি তা বলব না, অনেক আগে থেকেই প্রধানমন্ত্রী আমাদের দিয়ে সেই কাজটি শুরু করেছে এই দেশে।’

তিনি বলেন, বাজেট ঘাটতির পরিমাণ জিডিপির ৬ দশমিক ২ শতাংশ। আমেরিকার বাজেট ঘাটতি ১৮ দশমিক ৭২ শতাংশ, ভারতের ১৩ দশমিক ০৭ শতাংশ, জাপানের ১২ দশমিক ৯ শতাংশ, চায়নার ১১ দশমিক ৮৮ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়ার ৮ দশমিক ৯৬ শতাংশ এবং ভিয়েতনামের ৬ দশমিক ২ শতাংশ। ধনী অথবা ধনী নয়, উন্নয়নশীল অথবা উন্নত দেশের সবাই কিন্তু এই বাজেট ঘটতি নিয়েই এগিয়ে যাচ্ছে।

রিজার্ভ চুরির বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের চুরি হওয়া টাকার বিষয়ে আমরা আইনি প্রক্রিয়ায় গেছি। যারা যারা এর সঙ্গে সম্পৃক্ত বা আমাদের চিন্তায় যারা ছিল সম্পৃক্ততার তাদের বিরুদ্ধে আমরা মামলা করেছি, মামলা এখনো চলমান। এ সময়ে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা সমীচীন নয়। সেজন্য আমি কোনো মন্তব্য করব না।

সংসদীয় কমিটিতে বলা হয়েছে প্রতিটি সার্জিক্যাল মাস্ক ৩৫৬ টাকা দরে কেনা হয়েছে, এগুলো সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে। কেবিনেট কমিটি মনিটর করলে ২ থেকে ১০ টাকার মাস্ক কীভাবে ৩৫৬ টাকা দিয়ে কেনা হয়এমন প্রশ্নের জাবাবে তিনি বলেন, ‘প্রতিটি মন্ত্রণালয়কে যেভাবে বরাদ্দ দেওয়া হয় তেমনিভাবে তাদের ক্রয় করার সুযোগও আছে। তারা নির্দিষ্ট লিমিটের মধ্যে কিনতে পারে, সেই লিমিট যখন ক্রস হয়ে যাবে তখন কমিটিতে আসবে। তার আগে মন্ত্রণালয় যথাযথ কর্র্তৃপক্ষ, তাদের ক্রয়ের ক্ষমতা রয়েছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত