মিয়ানমারে সংঘর্ষে নিহত ৬ সু চি’র বিচারে সাক্ষ্যগ্রহণ

আপডেট : ২৪ জুন ২০২১, ০২:০৮ এএম

মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর সঙ্গে বিদ্রোহীদের লড়াইয়ে ছয়জন নিহত হয়েছেন। গত মঙ্গলবার সকালে মান্দালাইয়ের চান মা থার্সি শহরে সংঘর্ষের ঘটনায় চারজন জান্তাবিরোধী বিদ্রোহী ও দুজন সেনা নিহত হন। দেশটির সামরিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করে জানায়, বিদ্রোহীরা ছোট অস্ত্র ও গ্রেনেড দিয়ে হামলা চালান।

গত ফেব্রুয়ারিতে মিয়ানমারের জান্তা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশটির ক্ষমতা দখলের পর থেকে দেশজুড়ে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় লোকজন প্রতিরক্ষা বাহিনী তৈরি করে নৃশংস জান্তার বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করেছেন। তবে বেশিরভাগ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে প্রত্যন্ত অঞ্চলে।

জান্তার তথ্য বিভাগের এক বিবৃতিতে বলা হয়, চান মা থার্সি শহরে নিরাপত্তা বাহিনী অভিযান পরিচালনার সময় ছোট অস্ত্র থেকে গুলি ও গ্রেনেড হামলার মুখে পড়ে। এ অভিযানে দুজন সেনা নিহত হন। এ ছাড়া অন্তত ১০ জন আহত হন। এ ঘটনায় চারজন ‘সন্ত্রাসী’ নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া অস্ত্র, গোলাবারুদসহ আটজনকে আটক করা হয়েছে। মান্দালাইয়ের একজন অধিবাসী বলেছেন, ‘ঘটনাস্থল থেকে আমাদের বাড়ি দূরে হলেও আমরা গোলার শব্দ শুনেছি।’ জান্তার মুখপাত্র বলেন, ‘বিদ্রোহী প্রতিরক্ষা গ্রুপের আরও চারজন সদস্য গাড়ি করে পালানোর সময় দুর্ঘটনায় মারা গেছেন।’

এদিকে মিয়ানমারের আদালতে ক্ষমতাচ্যুত নেত্রী অং সান সু চি’র বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার বিচারকাজ চলছে। জান্তা সরকারের অভিযোগ, গত বছর নির্বাচনে সু চি ও তার দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) কারচুপি করেছে। এ ছাড়া সু চি’র বিরুদ্ধে অবৈধভাবে ওয়াকিটকি রাখা, দুর্নীতি, করোনাভাইরাসের বিধিনিষেধ লঙ্ঘন এবং রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা আইন ভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সু চি’র ১৪ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।

সু চি’র আইনজীবী বলেন, গত বছর নির্বাচনের সময় সু চি’র কভিড-১৯ বিধিনিষেধ লঙ্ঘনবিষয়ক সাক্ষ্য শোনে আদালত। এ ছাড়া গতকাল পৃথক রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয় নেপিদোর বিশেষ আদালতে। ওই আদালতে সাংবাদিকদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি। আগামী ২৬ জুলাইয়ের মধ্যে বিচারকাজ শেষ হবে বলে আশা করছেন সু চি’র আইনজীবীরা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত