লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় স্ত্রী হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি ফজর আলীকে (৫৮) ২৩ বছর পর গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত রবিবার রাতে কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারীর সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে আদিতমারী থানার পুলিশ। ফজর আলী লালমনিরহাটের আদিতমারীর দক্ষিণ গোবধা গ্রামের মৃত হোসেন আলীর ছেলে।
আদিতমারী থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, ১৯৯৭ সালে পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন ৩৫ বছর বয়সী ফজর আলী। পরে এটি তিনি আত্মহত্যা বলে প্রচার করেন। তবে পুলিশের তদন্তে এটি হত্যাকাণ্ড প্রমাণিত হলে ওই বছরের ২৮ জুলাই তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়। তবে ঘটনার পর থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন।
এরপর ২০০৩ সালের ৩ মে বিচারিক আদালতে ফজর আলীর যাবজ্জীবন করাদণ্ড হয়। আত্মগোপনে যাওয়ার পর প্রথমে ফজর আলী ভারতে যান। সেখানে আশ্রয় না পেয়ে পরে দেশে ফিরে আসেন। এরপর থেকে কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারীর সীমান্তবর্তী গ্রামে মিথ্যা পরিচয় দিয়ে বসবাস শুরু করেন। ২৩ বছরে তিনি বিয়ে-সংসারও করেছেন।
সম্প্রতি আদিতমারী থানার সহকারী উপপরিদর্শক আতাউল গনি ফজর আলীকে চিনতে পেরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানান। পরে লালমনিরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এ-সার্কেল) মারুফা জামাল ও পুলিশ সুপার আবিদা সুলতানার নির্দেশে ফজর আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানান ওসি।
