প্রস্তাবিত ১০টি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাতিলে সরকারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। তবে আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসভিত্তিক (এলএনজি) বিদ্যুৎ প্রকল্পে বিনিয়োগের সিদ্ধান্তে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।
গতকাল শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ উদ্বেগ প্রকাশ করে টিআইবি। এতে বলা হয়, ২০৫০ সালের মধ্যে শতভাগ নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে খাতটিতে বিনিয়োগ বাড়াতে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান জানান, জলবায়ু পরিবর্তনে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলীয় জেলায় সরকার কয়লাভিত্তিক বড় সংখ্যক বিদ্যুৎ প্রকল্পের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এ থেকে এখন ১০টি প্রকল্প বাতিলের সিদ্ধান্তকে সরকারের বোধোদয় হিসেবে ধরে নেওয়া যায়। তবে সংশোধন হতে যাওয়া বিদ্যুৎ মহাপরিকল্পনায় কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র থেকে সরকারের পুরোপুরি সরে আসার ঘোষণা প্রত্যাশা করেন তিনি।
টিআইবি বলছে, ৯ হাজার ৩৪৭ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ১০টি প্রকল্প বাতিল করা হলেও এখনো সরকারের পরিকল্পনায় ১৯টি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প রয়েছে। যার মধ্যে রামপাল, মাতারবাড়ী ও মিরসরাইসহ ৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্র বাস্তবায়নাধীন। ২০৩০ সাল নাগাদ সরকার ১০ থেকে ১২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ এসব কেন্দ্র থেকে পেতে চাইছে।
এ বিষয়ে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘এটা খুবই উদ্বেগের যে, লক্ষ্যমাত্রার প্রায় চার ভাগের এক ভাগ বিদ্যুৎ সরকার কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র থেকেই পেতে চাইছে। আবার বাতিল করা কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরিবর্তে ব্যয়বহুল এলএনজি ও জ্বালানি তেলনির্ভর কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা করছে। এগুলো বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশ ২০৩০ সালের মধ্যে এশিয়ার অন্যতম কয়লা ও কার্বণ দূষণকারী দেশে পরিণত হবে, যা জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় সরকারের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। আমরা চাই, সরকার বিশেষ কোনো গোষ্ঠীর স্বার্থরক্ষায় কয়লা ও এলএনজির মতো জীবাশ্ম জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ থেকে বিরত থাকুক।’
তিনি আরও বলেন, ‘নবায়নযোগ্য উৎস থেকে প্রায় ২০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ থাকলেও এ বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট পথরেখা নেই। ২০২০ সালের মধ্যে ১০ শতাংশ বিদ্যুৎ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল সরকার। কিন্তু এখন দিনে মাত্র ৭৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে, যা মোট উৎপাদন সক্ষমতার ৩ দশমিক ৪৭ শতাংশ। এ খাতে সরকারের আরও সচেষ্ট হওয়া দরকার।’
