মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলায় একটি সরকারি আবাসন প্রকল্প নিয়ে বিরোধের জেরে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ওসিসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।
গত শুক্রবার রাতে উপজেলার আমগ্রাম ইউনিয়ন এলাকায় এ সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় গতকাল শনিবার দুপুর পর্যন্ত পুলিশ ১২ জনকে আটক করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, আমগ্রাম ইউনিয়নের বনেরবাড়ি দক্ষিণপাড়া সেনখালীতে খাল ভরাট করে সরকারি আবাসন-২ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে উপজেলা প্রশাসন। প্রশাসনের পক্ষে বছরখানেক আগে শুরু হওয়া এ প্রকল্পে তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে আছেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান জাহিদুর রহমান টিপু।
তবে শুরু থেকে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী সুভাষ বাড়ৈ ও তার অনুসারীরা খাল ভরাট করে আবাসন প্রকল্পের বিরোধিতা করে আসছেন। তারা খালের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বিভিন্ন সময় আন্দোলনও করেছেন। এ নিয়ে চেয়ারম্যানের সঙ্গে সুভাষ বাড়ৈর বিরোধ দেখা দেয়। এ ছাড়া আগে থেকেই তাদের মধ্যে রাজনৈতিক বিরোধ চলে আসছিল।
শুক্রবার রাত ৮টার দিকে বিচরন বাড়ৈ নামে সুভাষের এক অনুসারীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এজন্য টিপুর লোকজনকে দায়ী করে উভয়পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে সুভাষের লোকজন ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে ভাঙচুর চালায় ও চেয়ারম্যানকে তার কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ নেয়।
এ সময় রাজৈর থানার ওসি শেখ সাদিক, ওসি (তদন্ত) মো. আনোয়ার হোসেনসহ পুলিশের সাত সদস্য ও উভয়পক্ষের অন্তত ১৩ জন আহত হয়। আহতদের মধ্যে বিচরন বাড়ৈ, শরৎ ম-ল, পলাশ বাড়ৈকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আহত বিচরন বাড়ৈ বলেন, ‘আমগ্রাম বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে চেয়ারম্যান টিপুর ভাই রনিসহ ১০-১২ জন আমাকে ধরে বেদম মারধর করে। আমার পায়ের হাড় ভেঙে গেছে।’
চেয়ারম্যান জাহিদুর রহমান টিপু বলেন, ‘তুচ্ছ ঘটনায় বিচরন বাড়ৈর সঙ্গে স্থানীয় কয়েকজন ছেলের কথা কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কি হয়। কিন্তু পূর্বপরিকল্পিতভাবে জমির খানের নেতৃত্বে জাকির উদ্দিন খান, সুভাষ বাড়ৈসহ শত শত লোক আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ইউনিয়ন পরিষদে এসে হামলা ও ভাঙচুর চালায়।’
রাজৈর থানার ওসি (তদন্ত) মো. আনোয়ার হোসেন জানান, দুপক্ষের সংঘর্ষ থামাতে তারা ৬৬ রাউন্ড শর্টগানের ফাঁকাগুলি বর্ষণ করেন। এ ঘটনায় ১২ জনকে আটক করা হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে একটি মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান তিনি।
