বারবার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন আরও ভোগাবে

আপডেট : ২৭ জুন ২০২১, ১১:৫০ পিএম

চট্টগ্রাম জেলায় করোনা পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি ঘটেছে। চলতি মাসে উপজেলাগুলোতে ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণ পরিস্থিতি বার্তা দিচ্ছিল ভয়াবহতার। পাশাপাশি ঈদ পরবর্তী সময়ে নগরীতেও সংক্রমণ বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। সব মিলিয়ে চট্টগ্রামে গত ১৫ দিনে নতুন করে করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে ২ হাজার ৯৩০ জন। এই অবস্থায় স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অবাধ চলাচল এবং উপজেলাগুলোতে সচেতনতা বাড়ানো না গেলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়ানক হতে পারে। এছাড়া বারবার সরকারের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন এবং কিছু ‘অপপ্রচার’ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করতে পারে বলে মনে করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

জেলা সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের হিসাব অনুযায়ী, গত দুই সপ্তাহে চট্টগ্রামে নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে করোনা সংক্রমণ শনাক্তের হার ছিল ১৫-২২ শতাংশের মধ্যে। সর্বশেষ গত শনিবার নমুনা পরীক্ষায় চট্টগ্রাম নগর ও জেলা মিলে শনাক্তের হার ২২ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ। এর আগে শুক্রবার জেলায় শনাক্তের হার ছিল ২০ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ।

গত ১৫ দিনের শনাক্ত হারকে উদ্বেগজনক উল্লেখ করে চট্টগ্রাম জেলার সাবেক সিভিল সার্জন মুক্তিযোদ্ধা ডা. সরফরাজ খান বাবুল বলেন, প্রতিদিন যদি এভাবে কভিড রোগী বাড়তে থাকে তাহলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। যেভাবে মানুষ গ্রাম ও শহরে আসা-যাওয়া করছে তা ভয়াবহ পরিস্থিতিতে রূপ নেবে। পজিটিভ রোগীদের উচিত আইসোলেশনে যাওয়া, তাহলে অন্তত মানুষ বাঁচবে, নাহলে পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে বয়স্করা খুব বিপদে পড়বেন।’

স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে এক জেলা থেকে আরেক জেলায় ও গ্রামগঞ্জে লোকজনের আসা-যাওয়া নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি। যার ফলে সংক্রমণ বাড়ছে। সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, তাই আমরা বারবার বলছি অহেতুক ঘোরাফেরা বন্ধ করতে, মাস্ক পরিধান করতে। কিন্তু এমন পরিস্থিতিতেও মানুষ স্বাস্থ্যবিধি মানছে না।’

এদিকে বারবার সরকারের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন এবং কিছু অপপ্রচার করোনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে বলে মনে করেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. মাহফুজুর রহমান। তিনি বলেন, রাত ৮টার পর দোকানপাট বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে নগরীতে, যার ফলে দোকান মার্কেটে ভিড় বাড়ছে। সরকারের উচিত ছিল ১০-১৫ দিন আগে লকডাউনের ঘোষণা দেওয়া, তাহলে মানুষ তার প্রয়োজনীয় কেনাকাটা ও জরুরি সব কাজ শেষ করতে পারত। অহেতুক ভিড়ও কমে যেত। গণপরিবহন ও মার্কেট বন্ধ, কারখানা চালু এমন হাস্যকর সিদ্ধান্ত করোনা সংক্রমণ বাড়াবে, কমবে না।’ প্রবীণ এই চিকিৎসক বলেন, পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নিয়ে সরকার যদি নিম্নবিত্তদের সহায়তা দিয়ে ১৪ দিনের কারফিউতে যেত, তাহলে জনস্বাস্থ্য রক্ষা হতো।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত