ঈশ্বরদীতে ফসলি কৃষিজমি ভরাট করে গড়ে তোলা অপরিকল্পিত শিল্প কলকারখানার দূষিত বর্জ্য স্থানীয় কৃষকদের সর্বনাশ ডেকে এনেছে। কলকারখানার দূষিত পানি ও বর্জ্যে স্থানীয় ভদ্রার বিলের পানি দূষিত হয়ে গেছে। বিলের পানি নিষ্কাশনের মুখে জমি ভরাট করায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। ফলে প্রায় এক হাজার একর ফসলি জমি পানির নিচে চলে গেছে। দূষণ আর জলাবদ্ধতার কারণে এই বিল এখন ১০ গ্রামের মানুষের দুঃখ ও দুর্দশার কারণে পরিণত হয়েছে। চার বছর ধরে চলে আসা এ জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি চান এলাকাবাসী। একই সঙ্গে দ্রুত সময়ের মধ্যে এসব শিল্পবর্জ্য অপসারণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
গত বছরের ২২ নভেম্বর এই দাবিতে দাশুড়িয়া-মুলাডুলি মহাসড়কের সরাইকান্দি এলাকায় বিশাল মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ কর্মসূচি পালন করেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও স্থানীয়রা। ১৫ দিনের মধ্যে আবাদি জমি থেকে দূষিত বর্জ্য অপসারণ করার আল্টিমেটাম দেওয়া হলেও সাত মাসেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। উপায় না দেখে গতকাল ঈশ্বরদীর দাশুড়িয়া ও মুলাডুলি ইউনিয়নের ৫ গ্রামের শতাধিক ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক একত্র হয়ে মিলের দূষিত বর্জ্য এবং পানি নিষ্কাশনের জন্য বিভিন্ন এলাকায় বাঁধ ও রাস্তা কেটে, ক্যানেল পরিষ্কার করে পানি অপসারণের কাজ শুরু করেছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক সাইফুল ইসলাম ও ডাবলু হোসেন জানান, মুলাডুলি ও দাশুড়িয়া ইউনিয়নের সরাইকান্দি, লক্ষ্মীকোলা, চাঁদপুর, দরগাপাড়া, কারিগরপাড়া, দেবীপুর, বহরপুর, রামচন্দ্রপুর ও দাশুড়িয়া ট্রাফিক মোড়ের একাংশের আবাদি জমিতে বছরজুড়ে জলাবদ্ধতা থাকে। ফলে এখানকার প্রায় এক হাজার একর জমিতে এখন আর কোনো ফসল হয় না। স্থানীয় ইমরান, জমিন ও আল-আমিন জানান, দূষিত পানিবন্দি অবস্থায় থাকতে থাকতে পানিবাহিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন তারা। তারা জানান, একসময় কৃষাণ-কৃষাণীর কর্মচাঞ্চল্যতায় দিনভর মুখরিত হয়ে থাকত মুলাডুলির ভদ্রার বিল। শত শত একর জমিতে ফলত ফসল। এ ফসল দিয়ে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করত হাজারো কৃষক পরিবার। সেই বিল এখন নীরব-নিস্তব্ধ। জলাবদ্ধতা ও কারখানার দূষিত বর্জ্যের কারণে বিলের বুকজুড়ে এখন কচুরিপানার রাজত্ব।
বিলের পানি নিষ্কাশনের মুখে অপরিকল্পিতভাবে রশিদ পেপার মিল ও এ আর পোলট্রি হ্যাচারিসহ কয়েকটি কলকারখানা গড়ে তোলায় বর্ষাকালে বিল থেকে পানি বের হতে পারছে না। গত বছর মানববন্ধন কর্মসূচির সময় রশিদ পেপার মিল কর্তৃপক্ষ বর্জ্য অপসারণের ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে তা করেনি।
এ ব্যাপারে রশিদ পেপার মিলের স্বত্বাধিকারী আবদুর রশিদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি। মুলাডুলি ইউপি চেয়ারম্যান সেলিম মালিথা বলেন, ভদ্রা বিল ও বিলের পশ্চিম পাশের আবাদি জমিতে জলাবদ্ধতার বিষয়টি আমি জানি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কেউ আমার কাছে কোনো অভিযোগ নিয়ে আসেনি। অভিযোগ নিয়ে এলে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি অফিসার আবদুল লতিফ বলেন, আমি ঈশ্বরদী কৃষি অফিসে যোগদানের আগে থেকেই এখানে এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। অপরিকল্পিত শিল্পকারখানা ও পুকুর খননের কারণে এটি হয়েছে। পানি উন্নয়নের বোর্ডের তত্ত্বাবধানে পাবনা ও নাটোর জেলার কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে হবে।
