যুক্তরাজ্যে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের গোপন নথি বাসস্টপে

আপডেট : ২৯ জুন ২০২১, ০৩:৪৩ এএম

যুক্তরাজ্যে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিগোপনীয় কিছু নথিপত্র পাওয়া গেছে একটি বাসস্টপে। এক ব্যক্তি নথিগুলো পেয়ে তা তুলে দিয়েছেন বিবিসির হাতে। এ ঘটনায় রীতিমতো তোলপাড় শুরু হয়েছে দেশটিতে। নড়েচড়ে বসেছে ব্রিটিশ সরকারও।

ঘটনাটি ঘটেছে গত মঙ্গলবার। দক্ষিণ-পূর্ব লন্ডনের কেন্ট বাসস্টপের পেছনে প্রায় ৫০ পৃষ্ঠার নথি খুঁজে পান এক ব্যক্তি। তিনি বুঝতে পারেন, এর মধ্যে রাষ্ট্রের গোপনীয় ও স্পর্শকাতর তথ্য রয়েছে। পরে যোগাযোগ করেন বিবিসির সঙ্গে এবং নাম প্রকাশ না করার শর্তে সেগুলো তুলে দেন সংবাদমাধ্যমটির হাতে। জানা গেছে, ওই নথিপত্রে আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন ন্যাটোর কার্যক্রম সমাপ্তির পরেও দেশটিতে যুক্তরাজ্যের সম্ভাব্য সামরিক উপস্থিতির পরিকল্পনার কথা উল্লেখ রয়েছে। তবে সবচেয়ে স্পর্শকাতর বিষয়টি রাশিয়াকে নিয়ে। গত সপ্তাহে রাশিয়ার দখলকৃত ক্রিমিয়া উপদ্বীপে আকস্মিকভাবে হাজির হয় ব্রিটিশ যুদ্ধজাহাজ এইচএমএস ডিফেন্ডার। এতে রাশিয়া কী প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে সেই সংক্রান্ত স্পর্শকাতর আলোচনা ছিল নথিতে। বিবিসির তথ্যমতে, নথিতে ব্রিটিশ যুদ্ধজাহাজ ডিফেন্ডার সংশ্লিষ্ট বেশ কিছু ইমেইল ও পাওয়ারপয়েন্ট প্রেজেন্টেশন রয়েছে।

গত বুধবার রাশিয়া জানিয়েছে, ব্রিটিশ জাহাজটিকে তাড়া করে তারা সতর্কতামূলক গুলি ও বোমাবর্ষণ করেছিল। তবে সেই দাবি অস্বীকার করে যুক্তরাজ্য বলেছে, রাশিয়ার জলসীমা লঙ্ঘন করে নয়, আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন মেনে ইউক্রেনের জলসীমা অতিক্রম করছিল এইচএমএস ডিফেন্ডার। ব্রিটিশ জাহাজটির দিকে গুলি-বোমাবর্ষণের কোনো ঘটনা ঘটেনি বলেও দাবি করে তারা। ওই ঘটনার জেরে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতকে তলব করে মস্কো।

এদিকে নথি প্রকাশের ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং এ নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে নথিগুলো হারানোর বিষয়ে গত সপ্তাহেই তারা অবহিত হয়েছিল বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

পুরো অস্ট্রেলিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে ডেল্টা : করোনার ভারতীয় ধরন ডেল্টার সংক্রমণ ঠেকাতে অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম বড় শহর সিডনি ও এর আশপাশের এলাকায় দুই সপ্তাহের কঠোর লকডাউন জারি করা হয়েছে। এর মাঝেই সেখানকার ১২৮ জনের শরীরে অতিসংক্রামক ডেল্টার উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। কভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়েছে নর্দান টেরিটোরি, ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া ও কুইন্সল্যান্ডে। এর মধ্য দিয়ে কয়েক মাসের মধ্যে প্রথমবারের মতো দেশটির দূরবর্তী বিভিন্ন অঞ্চলে একসঙ্গে করোনার সংক্রমণের খবর পাওয়া গেল।

জনস্বাস্থ্যবিদদের আশঙ্কা, করোনা মহামারীর নতুন একটি পর্যায়ের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। এতে ভূমিকা রাখছে ভারত থেকে ছড়ানো করোনার ধরন ডেল্টা। পরিস্থিতি সামাল দিতে ইতিমধ্যে সিডনিতে দুই সপ্তাহের কঠোর লকডাউন ঘোষণা করেছে অস্ট্রেলিয়া সরকার।

নিউ সাউথ ওয়েলস অঙ্গরাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ব্রাড হ্যাজার্ড বলেন, সিডনির আশপাশের চারটি প্রতিবেশী অঙ্গরাজ্যে লকডাউন চলছে। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, করোনার ডেল্টা ধরন খুব ভয়ংকর শত্রু। বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করা হলেও করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ছে।

লকডাউনের পাশাপাশি করণীয় নির্ধারণ ও সংক্রমণ ঠেকাতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে গতকাল সোমবার কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার রাজ্য সরকারগুলো বৈঠকে বসেছে। দেশটির ফেডারেল ট্রেজারার জস ফ্রাইডেনবার্গ বলেন, এটা খুবই উদ্বেগজনক মুহূর্ত। সংক্রমণ ঠেকাতে সীমান্ত বন্ধ রাখা ও নতুন করে বিধিনিষেধ আরোপ করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।

সাংবাদিকদের তিনি বলেন সিডনি, ডারউইনের মতো বড় শহরের পাশাপাশি চারটি অঙ্গরাজ্যে লকডাউন চলছে। এরপরও সংক্রমণ বাড়ছে। আমার মনে হচ্ছে, অতিসংক্রামক ধরন ডেল্টার কারণে আমরা করোনা মহামারীর নতুন একটি পর্যায়ে প্রবেশ করতে যাচ্ছি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত