বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ ৪৬ বিলিয়ন ছাড়াল

আপডেট : ২৯ জুন ২০২১, ১০:৪৮ পিএম

বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ প্রথমবারের মতো ৪৬ বিলিয়ন (৪ হাজার ৬০০ কোটি) ডলার ছাড়াল। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল মঙ্গলবার দিন শেষে রিজার্ভের স্থিতি দাঁড়ায় ৪ হাজার ৬০৮ কোটি ২০ লাখ ডলার।

প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের ওপর ভর করে রিজার্ভ তরতর করে বাড়ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম।

তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দেশে রেমিট্যান্স পাঠালে বাড়তি ২ শতাংশ প্রণোদনা দিচ্ছে সরকার। এর ফলে কভিড-১৯ পরিস্থিতির মধ্যেও বেশি করে রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন প্রবাসীরা। এ পরিমাণ রিজার্ভ দিয়ে এক বছরের আমদানি দায় পরিশোধ করা সম্ভব।’

এর আগে গত ১ জুন বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ ৪ হাজার ৫০০ কোটি ডলার ছাড়ায়। গত বছর মার্চে বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৩ হাজার ২০০ কোটি ডলার। সেই হিসাবে গত বছর মার্চ থেকে চলতি বছরের এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৪০০ কোটি ডলার রিজার্ভে যোগ হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ করা পরিসংখ্যানে দেখা যায়, চলতি জুন মাসের ১ থেকে ২৮ তারিখ পর্যন্ত ১৭৫ কোটি ২০ লাখ ডলারের সমপরিমাণ রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫.৬০ শতাংশ বেশি।

তাছাড়া চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ২৮ জুন পর্যন্ত দেশে রেমিট্যান্স আসে ২ হাজার ৪৫৮ কোটি ৯০ লাখ ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ১ হাজার ৮০৩ কোটি ডলার। সেই হিসাবে চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি রয়েছে ৩৬.৪০ শতাংশ।

তবে করোনার মধ্যেও প্রবাসী আয়ে বড় ধরনের উল্লম্ফন থাকায় এ খাতের নগদ প্রণোদনার বরাদ্দ কমানো হয়। আসন্ন ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে রেমিট্যান্সের ওপর নগদ প্রণোদনায় ৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে সরকার। তবে রেমিট্যান্সের প্রণোদনায় বর্তমানে এর থেকে বেশি ব্যয় করছে সরকার। চলতি অর্থবছরের সংশোধনী বাজেটে এ খাতের প্রণোদনার বরাদ্দ ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। মূল বাজেটে এ বরাদ্দের পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৬০ কোটি টাকা।

ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স বাড়াতে ২০১৯-২০ অর্থবছর থেকে ২ শতাংশ হারে প্রণোদনা দিয়ে আসছে সরকার। ওই অর্থবছরে প্রথম এ খাতের প্রণোদনার জন্য ৩ হাজার ৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখে সরকার। তবে প্রণোদনার সুফল হিসেবে রেমিট্যান্স বাড়তে থাকায় চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের সংশোধনী বাজেটে এ খাতের বরাদ্দ ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা করা হয়। বর্তমানে ৫ হাজার ডলার পর্যন্ত রেমিট্যান্সের ওপর কোনো ধরনের কাগজপত্র জমা ছাড়াই ২ শতাংশ প্রণোদনা দিচ্ছে সরকার। এর বেশি রেমিট্যান্স পাঠালে এ সংক্রান্ত কাগজপত্রাদি জমা সাপেক্ষে প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, কোনো কোনো ব্যাংক সরকারে ২ শতাংশ প্রণোদনার সঙ্গে আরও ১ শতাংশ যোগ করে মোট ৩ শতাংশ প্রণোদনা দিচ্ছে। এটা রেমিট্যান্স বাড়াতে বড় ধরনের ভূমিকা রেখেছে।

এদিকে রিজার্ভ বাড়তে থাকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে রিজার্ভের একটি অংশ লাভজনক উন্নয়ন প্রকল্পে বিনিয়োগ করার জন্য একটি আলাদা তহবিল গঠন করা হয়েছে। গত ১৫ মার্চ ‘বাংলাদেশ অবকাঠামো উন্নয়ন তহবিল’-এর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ তহবিল থেকে প্রথম অর্থায়ন করা হচ্ছে ‘পায়রা বন্দরের রাবনাবাদ চ্যানেলের ক্যাপিটাল ও মেইনটেন্যান্স ড্রেজিং’ প্রকল্পে।

অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে বাংলাদেশ অবকাঠামো উন্নয়ন তহবিলের মাধ্যমে ৫ হাজার ৪১৭ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হচ্ছে পায়রা বন্দরকে। তবে আগামী জুলাইয়ে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) মে-জুন সময়ের দেনা পরিশোধের তারিখ রয়েছে। ফলে এই দেনা পরিশোধের পর রিজার্ভ কিছুটা কমে যেতে পারে বলেও জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত