‘লকডাউনে’ কঠোর থাকবে পুলিশ

আপডেট : ৩০ জুন ২০২১, ০১:৫১ এএম

করোনার ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণ প্রতিরোধে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে ‘সর্বাত্মক লকডাউন’ কার্যকরে সারা দেশে বিশেষ বার্তা পাঠিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। এ নিয়ে কয়েক দফা বৈঠক করেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ। গতকাল মঙ্গলবারও তার নেতৃত্বে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠক করেন।

লকডাউন কার্যকরে হার্ডলাইনে থাকতে সবক’টি রেঞ্জের ডিআইজি ও পুলিশ সুপারদের কাছে চিঠি দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। চিঠিতে বেশ কিছু নির্দেশনা রয়েছে। কেন্দ্রীয়সহ পুলিশের সবক’টি হাসপাতাল প্রস্তুত রাখা, জনসচেতনতায় এলাকায় মাইকিং, কেউ আতঙ্ক ছড়ালে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা, র‌্যাব-পুলিশের ভ্রাম্যমাণ আদালত কার্যক্রম পরিচালনা, প্রত্যেক সদস্যকে মাস্ক ব্যবহার, মাস্ক না পরলে প্রয়োজনে জরিমানার পাশাপাশি পুলিশ সদস্যদের আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক অবস্থানে থেকে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে র‌্যাব মহাপরিচালক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘করোনা প্রতিরোধে সবাই সতর্ক। র‌্যাবের প্রত্যেক সদস্যকে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্কভাবে চলাফেরা করতে বলা হয়েছে। করোনা নিয়ে কোনো অপ্রচার বা আতঙ্ক ছড়ালে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। লকডাউন বাস্তবায়নে আমরা মাঠে কাজ করব। র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালতও রাস্তায় থাকবে।’

পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (মিডিয়া) সোহেল রানা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘করোনা প্রতিরোধে পুলিশ সজাগ ও সতর্ক। ইতিমধ্যে বাহিনীর পক্ষ থেকে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জনসচেনতা বৃদ্ধি ও চিকিৎসাসেবার সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে। সচেনতার লক্ষ্যে জরুরি স্বাস্থ্যবার্তা সব ইউনিটে প্রচারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জনগণের পাশে দাঁড়াতে পুলিশের সব ইউনিটকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

পুলিশ সদর দপ্তরের এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে জানান, করোনার সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে গতকাল আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিদ্ধান্তের আলোকে সবক’টি রেঞ্জের ডিআইজি ও ৬৪ জেলার পুলিশ সুপারের কাছে একটি চিঠি পাঠানো হয়। এতে বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হতে যাওয়া ‘সর্বাত্মক লকডাউন’ কার্যকরে পুলিশকে হার্ডলাইনে থাকতে বলা হয়েছে। পুলিশের কোনো সদস্য মাস্ক না পরলে উল্টো তাকে জরিমানা দিতে হবে। র‌্যাব সদস্যদেরও একইভাবে চলাফেরার জন্য চিঠিতে বলা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে কোয়ারেন্টাইনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। একই সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের পুলিশ হাসপাতাল। কোনো সদস্যের মধ্যে উপসর্গ দেখা দিলে আতঙ্কিত না হয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ, প্রয়োজনে পুলিশ বা যেকোনো সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে বলা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা দেশ রূপান্তরকে জানান, সারা দেশে করোনা সংক্রমণ ভয়ংকর হয়ে উঠছে। প্রতিদিনই আক্রান্ত ও মৃত্যু বাড়ছে। হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ বাড়ছেই। পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগামীকাল থেকে সরকার ঘোষিত ‘সর্বাত্মক লকডাউন’ কার্যকরে চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়েছে পুলিশ। আগের মতো এবার শিথিলতা দেখাবে না তারা। এতদিন সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মাঠ পর্যায়ে ‘মুভমেন্ট পাস’ নিয়ে কড়াকড়ি ছাড়া তেমন কঠোর অবস্থানে পুলিশকে দেখা যায়নি। তবে এবার পুলিশকে হার্ডলাইনে থাকতে বলেছে সরকারের হাইকমান্ড। এবার কাউকে মুভমেন্ট পাস দেওয়া হবে না। জরুরি বিবেচিত প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পরিচয়পত্র দেখিয়ে গন্তব্য যেতে পারবেন।

পুলিশ বলছে, এ বছর বিধিনিষেধের সময় গণপরিবহন ও শপিংমল চালু এবং ঈদ থাকায় মাঠ পর্যায়ে হার্ডলাইনে যেতে পারেনি তারা। কিন্তু ভারতের ডেল্টা ধরনে সারা দেশে ভয়াবহ সংক্রমণের তথ্য বিভিন্ন গবেষণায় আসায় লকডাউনে কোনো শিথিলতা দেখাবে না পুলিশ। চেকপোস্ট বসাবে পুলিশ। কেউ নির্দেশনা অমান্য করলে তাকে ছাড় না দিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ ও র‌্যাবের টহল চলবে। কাউকেই বিন্দুমাত্র ছাড় দেবে না পুলিশ।

জেলার কয়েকজন পুলিশ সুপার জানান, পুলিশ সদর দপ্তর থেকে আজ (গতকাল) লকডাউন কার্যকরের একটি নির্দেশনা তারা পেয়েছেন। এবার কঠোর অবস্থানে থাকবেন তারা। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। এমনকি পুলিশের কোনো সদস্য মাস্ক না পরলে তাকেও জরিমানার মুখোমুখি হতে হবে। জনসচেতনতায় মাইকিং করা হচ্ছে। জনগণও আগের চেয়ে সচেতন হয়েছে বলে জানান তারা।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপ-মহাপরিদর্শক আনোয়ার হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘করোনা প্রতিরোধে পুলিশ শুরু থেকে কাজ করছে। এবারের লকডাউনে বাহিনীর প্রত্যেক সদস্যকে সতর্কভাবে চলাফেরা করতে বলা হয়েছে। সবাইকে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। লকডাউন কার্যকরে প্রতিটি সদস্য সক্রিয় থাকবে। করোনা নিয়ে আতঙ্ক ছড়ালে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত