ভেন্টিলেটর পেয়েও চালু হয়নি আইসিইউ বেড

আপডেট : ৩০ জুন ২০২১, ০২:০৫ এএম

বাগেরহাটে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের জন্য জেলা সদরে আলাদা ৫০ শয্যার করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল খুলেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। গত বছর দেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ শুরুর পর বাড়তি সতর্কতা হিসেবে বাগেরহাটে এই হাসপাতালটি প্রস্তুত করে স্বাস্থ্য বিভাগ। সেই থেকে হাসপাতালটিতে শনাক্ত ও সন্দেহভাজন করোনা রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। ৫০ শয্যার এই হাসপাতালটিতে কোনো আইসিইউ বেড না থাকায় সংকটাপন্ন রোগীদের একমাত্র ভরসা সেন্ট্রাল অক্সিজেন ব্যবস্থা। অথচ জেলায় আইসিইউ বেড চালুর জন্য সরকার ১০টি ভেন্টিলেটর বরাদ্দ দিলেও লোকবল সংকটে তা আর হয়নি।

বাগেরহাট জেলায় করোনাভাইরাসের সংক্রমণে প্রথম ও দ্বিতীয় ঢেউয়ে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ৮৬৬ জনে। এরমধ্যে সুস্থ হয়েছেন দুই হাজার ৩৮ জন। করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৭৩ জন।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, বাগেরহাট ১০০ শয্যার সদর হাসপাতালটির পাশে আরেকটি আধুনিক পাঁচতলা ভবন করে আড়াইশ শয্যায় উন্নীত করে স্বাস্থ্য বিভাগ। প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ না দেওয়ায় বছরের পর বছর ধরে হাসপাতালটি পড়ে ছিল। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বাড়তে থাকায় এই ভবনটিকে করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল হিসেবে ঘোষণা করে স্বাস্থ্য বিভাগ। কিন্তু করোনাভাইরাসে সংক্রমিত রোগীদের জন্য প্রচলিত কোনো চিকিৎসা ব্যবস্থা না থাকায় অন্তত অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেয় স্বাস্থ্য বিভাগ। ওই সময়ে সিলিন্ডার অক্সিজেনের মজুদ বাড়ায় তারা। পরে স্থানীয়দের দাবির মুখে স্বাস্থ্য বিভাগ প্রায় সাড়ে সাত হাজার লিটার ধারণক্ষমতার সেন্ট্রাল অক্সিজেন ট্যাংক স্থাপন করে প্রতিটি বেডের সাথে সেন্ট্রাল অক্সিজেনের লাইন স্থাপন করা হয়েছে। অক্সিজেন সিলিন্ডারও আছে ৫৯টি। এরমধ্যে বড় সিলিন্ডার ৩৯টি এবং ছোট ১২০টি। হাইফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা রয়েছে ৬টি। সেন্ট্রাল অক্সিজেন ট্যাঙ্কিতে তরল অক্সিজেনের ধারণ ক্ষমতা সাত হাজার লিটার। এই অক্সিজেন আগামী তিন মাস রোগীদের সরবরাহ করা যাবে।

বাগেরহাট সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মো. মিরাজুল করিম বলেন,  ২০০১ সালে ৫০ শয্যার বাগেরহাট সদর হাসপাতালটি একশ শয্যায় উন্নীত হয়। সেই ৫০ শয্যার জনবল দিয়ে গত দুই দশক ধরে একশ শয্যার হাসপাতালটি পরিচালিত হচ্ছে। ৫০ শয্যার হাসপাতালের যে জনবল থাকার কথা তাও নেই। এরপর বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই হাসপাতালটিকে আরও একশ শয্যা বাড়িয়ে মোট আড়াইশ শয্যায় উন্নীত করা হয়। এই হাসপাতালে সিনিয়র ও জুনিয়র কনসালটেন্টের ১২টি পদের বিপরীতে রয়েছেন পাঁচজন। ১৫ জন মেডিকেল কর্মকর্তার বিপরীতে রয়েছেন ৩ জন। জনবল সংকটে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে। এই সংকটের মধ্যে গত প্রায় দেড় বছর ধরে নতুন করোনা রোগ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। হাসপাতালের জনবল সংকটের বিষয়টি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে বারবার অবহিত করেও কোনো কাজে আসেনি।

তিনি বলেন, বাগেরহাটে করোনাভাইরাসের প্রথম ঢেউ শুরু হলে আলাদা ৫০ শয্যার একটি করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল খোলা হয়। এই হাসপাতাল চালু করার পর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ২২ জন চিকিৎসক এবং ৫০ জন নার্স দেয়। তারাই এখানে নিয়মিত সেবা দিয়ে যাচ্ছে।

বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ডা. কে এম হুমায়ুন কবির দেশ রূপান্তরকে বলেন, ২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার পরপরই বাগেরহাটের আক্রান্ত রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রথম ঢেউ শুরুর পর এই হাসপাতালটিতে করোনা আক্রান্ত রোগীদের সিলিন্ডার অক্সিজেনের ব্যবস্থা রাখা হয়। বর্তমানে ছোট-বড় মিলিয়ে ১৫০টি অক্সিজেন সিলিন্ডার মজুদ রয়েছে। এরপর আমরা রোগীদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকারের কাছে সেন্ট্রাল অক্সিজেন ব্যবস্থার দাবি জানালে সরকার সেন্ট্রাল অক্সিজেন ট্যাঙ্ক স্থাপনের ব্যবস্থা করে। ৫০ শয্যার এই হাসপাতালের প্রতিটি বেডের সঙ্গে সেন্ট্রাল অক্সিজেনের সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া চলতি বছরের প্রথম দিকে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে দশটি ভেন্টিলেটর বরাদ্দ দেয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। সেটি আমরা হাতে পেয়েও প্রশিক্ষিত জনবল ও অবকাঠামো সংকটের কারণে তা চালু করতে পারিনি। অবকাঠামো নির্মাণের জন্য দরপত্র দেওয়া হয়েছে। খুব শিগগির কাজ শুরু হবে।

বাগেরহাট জেলায় দ্বিতীয় ঢেউয়ে আক্রান্তের সংখ্যা প্রতিদিনই অস্বাভাবিকহারে বাড়ছে। বর্তমানে জেলায় আক্রান্তের হার ৪০ থেকে ৫০ শতাংশের মধ্যে ওঠানামা করছে। বর্তমানে করোনা হাসপাতালে উপসর্গ ও আক্রান্ত রোগী মিলিয়ে ৪০ জন ভর্তি রয়েছে। আক্রান্তের হার এভাবে বাড়তে থাকলে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মান টিকিয়ে রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত