১১ সন্তানের জনক সেজে উপবৃত্তির টাকা লোপাট

আপডেট : ৩০ জুন ২০২১, ০২:০৬ এএম

কুড়িগ্রামের উলিপুরে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে হতদরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা আত্মসাতের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপবৃত্তির তালিকায় ওই প্রধান শিক্ষক মাহাবুবার রহমান, তার স্ত্রী, সন্তান ও দুই শ্যালক ভুয়া অভিভাবক সেজে প্রায় ৩২ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এ ঘটনায় সুবিধাবঞ্চিত এক শিক্ষার্থীর বাবা সরকারি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে উলিপুরের ধরণীবাড়ী ইউনিয়নের মাদারটারী পূর্বপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। একজন প্রধান শিক্ষকের এভাবে হতদরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা লোপাটের ঘটনায় এলাকাজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

অভিযোগকারী মোসলেম উদ্দিন উলিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং কুড়িগ্রাম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা আত্মসাতের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ দিয়ে অভিযোগ জমা দিয়েছেন। যার একটি অনুলিপি দেশ রূপান্তরের হাতে এসেছে। ওই অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ১৯৮৬ সাল থেকে উলিপুরের মাদারটারী পূর্বপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাহবুবার রহমান প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে সরকার ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য উপবৃত্তির টাকা বরাদ্দ দিলে মাহবুবার রহমান একটি তালিকা তৈরি করেন। সেখানে প্রকৃতপক্ষে উপবৃত্তির টাকা পাওয়ার যোগ্য এমন অনেক ছাত্র-ছাত্রীর নাম বাদ দেওয়া হয়। প্রধান শিক্ষক মাহবুবার রহমান নিজে তালিকার ৫৯ ক্রমিক নম্বর শিক্ষার্থীর চাচা ও ০৭, ৯১, ১২৮, ১২৯, ১৬৯, ১৭৪ ও ২১৫ ক্রমিক নম্বর শিক্ষার্থীর বাবা, তার স্ত্রী সাবিনা বেগম ১০৪, ১৬৮, ২১২ ক্রমিক নম্বর শিক্ষার্থীর মা এবং তার ছেলে সাদেকুল ১৩০ ও ১৩২ ক্রমিক নম্বরের শিক্ষার্থীর ভাই। এছাড়াও প্রধান শিক্ষক মাহবুবার রহমানের দুই শ্যালক মাইনুল ও মেহেদী শিক্ষার্থীর ভুয়া ভাই, চাচা ও বাবা সেজে ৪ জনসহ মোট ১৭ শিক্ষার্থীর ৩১ হাজার ৮৫০ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

যদিও শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করছেন প্রধান শিক্ষক মাহাবুবার রহমান। তিনি মোবাইল ফোনে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আসলে বিষয়টা সে রকম না। সাক্ষাতে বললে বুঝতে পারবেন।’

এ প্রসঙ্গে উলিপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নাদিরুজ্জামান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মোসলেম উদ্দিন নামে এক অভিভাবক অভিযোগ করেছেন। এটি তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত