প্রাচীন বাদ্যযন্ত্রের নতুন কারিগর তরুণ শেখর

আপডেট : ০১ জুলাই ২০২১, ১০:৩৮ পিএম

দুই হাজার বছরের পুরনো বাদ্যযন্ত্র ‘ইয়াজ’ বানিয়েছেন তামিলনাড়ুর ২৪ বছর বয়সী তরুণ শেখর। হারিয়ে যাওয়া বাদ্যযন্ত্র ফিরিয়ে আনার কাজকে পেশা হিসেবে নিয়েছেন তিনি। তৈরি করেছেন স্টুডিও। ভারত ছাড়াও অন্যান্য দেশের প্রাচীন বাদ্যযন্ত্র নিয়ে কাজ শুরু করেছেন। লিখেছেন আরফাতুন নাবিলা

তরুণ শেখর

চেন্নাইয়ের ছোট্ট ওয়ার্কশপে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে কাজ করে যাচ্ছেন তরুণ শেখর। ‘ইয়াজ’ নামে একটি বাদ্যযন্ত্র তৈরির চেষ্টা করছেন তিনি। বর্তমানে এই যন্ত্র খুব বেশি পরিচিত নয়। কারণ এর গল্প বেশ পুরনো। দুই হাজার বছর আগে রাজমহলে লোকসংগীত গাওয়ার সময় বাজানো হতো এই বাদ্যযন্ত্র। বেশ মিষ্টি এক সুর আসত এই যন্ত্র থেকে। কালের গর্ভে যন্ত্রটি হারিয়ে যায়, নাম লেখা থাকে শুধু ইতিহাসের পাতায়। যে যন্ত্রের কথা মানুষ জানে না, সেই যন্ত্রই বানাচ্ছেন তামিলনাড়ুর মাদুরাই শহরের ২৪ বছর বয়সী শেখর।

২০১৯ সাল থেকে নিজের স্টুডিওতে পুনরায় ইয়াজ বানানোর কাজ শুরু করেন শেখর। এটি বানাতে তার সময় লেগেছে ছয় মাস। ইয়াজ বানানোর জন্য শেখর ব্যবহার করেছেন কাঠের টুকরো। বানানোর পর দেখা গেল ইয়াজ প্রায় দুই ফুট লম্বা হয়েছে, তাতে ৭টি তার রয়েছে, বাঁকানো একটি ময়ূরের মাথা, বাঁকানো ঘাড় আর উল্টানো ফাঁকা তবলার মতো একটি বোল। এই যন্ত্র বানানোর পর নিজ দেশ ছাড়িয়ে নরওয়ে, দুবাই ও আমেরিকা থেকে বেশ কয়েকজন গ্রাহক পেয়েছেন শেখর।

আগ্রহের শুরু

বাদ্যযন্ত্র বানানোর আগ্রহ অনেকের থাকে। কিন্তু এত বছর আগের যন্ত্রের প্রতি আগ্রহ তৈরি করা খুব সহজ কিছু নয়। কীভাবে এই যন্ত্রের প্রতি আগ্রহ তৈরি হলো তা নিয়ে শেখর বলেন, ‘ক্লাস টেনে পড়ার সময় একবার আমি হাওয়াইন ল্যাপ স্টিল গিটার দেখে সেটি বাজাতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সে সময় ভারতে সেটি পাওয়া যেত না। আমার কাছে বিকল্প একটা রাস্তাই ছিল। সেটি হচ্ছে আমি যদি নিজে যন্ত্রটি বানিয়ে নিই। যেই ভাবনা সেই কাজ। গিটার বানানো নিয়ে বেশ কয়েকটি ভিডিও দেখলাম। চেষ্টা করলাম গিটার বানানোর। 

কাঠ দিয়ে কাজ করতে করতে একরকম নেশা হয়ে গেল। নিজের কাজে নিজেই মুগ্ধ হচ্ছিলাম। বারবার গিটারটির বানানো পদ্ধতির কথা ভাবছিলাম। হাতে নিয়ে দেখছিলাম কীভাবে যন্ত্রটি বানিয়ে ফেললাম। বানানো শেষে যখন প্রথম এর শব্দ শুনলাম, আমার বিশ্বাসই হচ্ছিল না। কী যে সুন্দর ছিল সেই শব্দ! তখনই সিদ্ধান্ত নিলাম কলেজে আমি আর্কিটেকচার নিয়ে পড়ব, ডিজাইন নিয়ে বিশদ জানব। প্রতি বছর গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে একটি করে যন্ত্র বানাতাম। এর মধ্যে ব্যাঞ্জো আর ইউকিলেলেও ছিল।

অরভিলেতে আমি একটি আর্কিটেকচারাল ইন্টার্নশিপ করার জন্য গিয়েছিলাম। সেখানে গিয়ে আমার পরিচয় হয় সুপরিচিত লুথিয়ার (বিভিন্ন জিনিস বানানোর কারিগর-ক্রাফট পারসন) এরিসা নিয়োগির সঙ্গে। তাকে আমি আমার বানানো যন্ত্রগুলো দেখিয়েছিলাম। তিনি আমাকে বেশ স্নেহ করতেন। বিভিন্ন যন্ত্র বানানোর কাজ শেখাতে তিনি আগ্রহী হলেন। আমি তার কাছে ছয় মাসের ট্রেনিং করলাম। দিনে দিনে এই কাজের প্রতি আমার আগ্রহ বাড়তে থাকল। কলেজে গ্রাজুয়েশন শেষে যন্ত্র বানানোর প্রতি সম্পূর্ণ ধ্যান জ্ঞান দিলাম।’

প্রাচীন ভারতীয় বাদ্যযন্ত্র

এত ধরনের বাদ্যযন্ত্র থাকতে প্রাচীন ভারতীয় বাদ্যযন্ত্র দিয়েই কেন তিনি কাজ শুরু করলেন তা নিয়ে শেখরের মন্তব্য ছিল, ‘অরভিলে যখন আমি কাজ করেছি তখন শুধু ওয়েস্টার্ন বাদ্যযন্ত্র নিয়ে কাজ করেছি। এসব ওয়েস্টার্ন বাদ্যযন্ত্র বিশেষ করে গিটার সব জায়গায় আছে। কোনো শিক্ষার্থী যখন সংগীত শিখতে যায়, তখন শুরুতে তাদের ভাবনায় গিটার অথবা ড্রামসের কথা আসে। তারা কোনো ধরনের ভারতীয় যন্ত্রের কথা চিন্তাও করে না। এই বিষয়টি আমাকে খুব চিন্তায় ফেলত।

গিটারের ইতিহাস ৫০০ বছর পুরনো। প্রতি শতকে এই বাদ্যযন্ত্রে পরিবর্তন এসেছে। আধুনিক সময়ে সংগীত জগতে আধুনিকতার অন্যতম প্রতীক হয়ে উঠেছে গিটার। অন্তত শ’খানেক কারিগর কাজ করেছেন গিটারের পরিবর্তন নিয়ে। তরুণ প্রজন্মের কাছে নতুন ঘরানার বাদ্যযন্ত্র তুলে দিতে সব সময় কাজ করেছেন তারা। ঠিক একইভাবে ভারতীয় বাদ্যযন্ত্র নিয়ে কাজ করতে চেয়েছি আমি। তবে শুধু বানাতে চাইলেই তো হবে না। বানানোর জন্য চাই জায়গা, নানা জিনিস। সবকিছু গুছিয়ে শুরু করলাম ‘উরু’ নামে একটি স্টুডিও। এখানে এখন প্রাচীন লোকসংগীতের বিভিন্ন যন্ত্র আমরা নতুন করে তৈরি করি।’

প্রথম বাদ্যযন্ত্র ‘ইয়াজ’

শেখরের বাদ্যযন্ত্র নিয়ে কাজ শুরু করার প্রথম আগ্রহ তৈরি করে দিয়েছিল ইয়াজ। প্রাচীন এই বাদ্যযন্ত্র রাজমহল ছাড়াও মন্দিরের সংগীত অনুষঙ্গের মধ্যে অন্যতম ছিল। ইয়াজ ছাড়া আরও একটি প্রাচীন যন্ত্র ছিল ‘পানারস’ নামে। প্রাচীন সময়ে এটিও সংগীতশিল্পীরা বাজাতেন। এই বাদ্যযন্ত্রগুলোর সৌন্দর্য তাই এক কথায় ব্যাখ্যা করে শেষ করা যায় না। খ্রিস্টপূর্ব ছয় শতকে সাংগাম যুগের (প্রাচীন তামিলনাড়–, কেরালা ও শ্রীলঙ্কার কিছু অংশের ইতিহাসের সময়কাল) বেশ কয়েকটি তামিল ধর্মগ্রন্থ ও সাহিত্যে ইয়াজ-এর কথা লেখা আছে। অবাক বিষয় হচ্ছে, এই সময়ের পর আর কোথাও ইয়াজ নিয়ে কোনো লেখা পাওয়া যায়নি। বর্তমানে বেশ কয়েকটি জাদুঘরে ইয়াজ-এর রেপ্লিকা রাখা আছে। তবে এদের মধ্যে কোনোটিই আসল নয়, এমনকি সেগুলো বাজানোও যায় না। এই যন্ত্রের কোনো শব্দের অডিও বা ভিডিও’র রেকর্ড শেখর পাননি। এ জন্য ইয়াজ বানানোতে তার আগ্রহ আরও বেশি ছিল। নিজের আগ্রহ থেকেই ইয়াজ বানানো শুরু করেছিলেন তিনি। 

ইয়াজ নিয়ে গবেষণা

যেহেতু ইয়াজ নিয়ে কোনো লেখা সেভাবে খুঁজে পাওয়া যায়নি, জাদুঘরেও যথার্থ তথ্য নেই, এমনকি ইউটিউব ঘেঁটেও বিস্তারিত তথ্য পাননি শেখর, তখন তাকে এক রকম গবেষণাই করতে হয়েছে এটি নিয়ে। ‘প্রথমে আমি ইয়াজ নিয়ে বেশ কিছু গবেষণাপত্র জোগাড় করি। সাংগাম যুগের সাহিত্যগুলো পড়লে বোঝা যায়, তারা কিছুটা বাড়িয়ে লিখেছে। সেখানে বলা হয়েছে, ইয়াজ এমন শব্দ তৈরি করে যেটি মানবসমাজের কেউ কখনো শোনেনি। অথচ আমি বানানোর পর এই তথ্যের সঙ্গে শব্দ মিলিয়ে দেখেছি। বাস্তবিক কোনো মিল আমি পাইনি। এছাড়া তারের দৈর্ঘ্য আর যন্ত্রটি বানানোর সঠিক কাঠামো দেওয়ার পরও যন্ত্রটি থেকে আহামরি শব্দ আসেনি। যে সব তথ্য লেখা হয়েছে, তার সঙ্গে মিলিয়ে কোনো ছবিও নেই। গবেষণা করতে করতে পেয়ে যাই ১৯৪৭ সালে স্বামী ভিপুলানন্দর লেখা ‘ইয়াজ নুল’। এই বইটিকে আমার মনে হয়েছে ইয়াজ নিয়ে গবেষণা করে লেখা। একমাত্র এতেই ইয়াজ নিয়ে যাবতীয় তথ্য আছে। সংগীত নিয়ে বিভিন্ন তথ্য, কীভাবে তার সাজাতে হয়, সংগীতের সব স্বরলিপিসহ অনেক তথ্য আছে ইয়াজ নুল-এ।

শুরুতে ভেবেছিলাম কাজটি করতে পারব কি না। নিজে থেকেই যে চ্যালেঞ্জ নিয়েছি তা পূরণ করা নিয়েই সন্দেহ হচ্ছিল। তবে আমি বিশ্বাস করি, কাজ একবার শুরু করলে কোনো না কোনো সুযোগ চলে আসে। ইয়াজ বানানোর সময়ও তাই হলো। বইগুলো হাতে পাওয়ার পর কাজের আগ্রহ বেড়ে যায় দ্বিগুণ। এরপর তো পুরোটাই ছন্দের মতো শুধু সাজিয়ে গেলাম।’

চ্যালেঞ্জ 

প্রাচীন বাদ্যযন্ত্র বানাতে গিয়ে শেখরকে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখিও হতে হয়েছে। ‘ইতিহাসের পাতায় যে ইয়াজ নিয়ে পড়েছি তাতে লেখা ছিল, এই যন্ত্র বানানোর জন্য কাঁঠাল গাছের কাঠ ব্যবহার করা হতো। বোলের মতো তবলার যে জায়গাটিকে রিসোনেটর বলা হয়, সেখানে ছাগলের চামড়া খুব শক্ত করে লাগানো হতো। বাহির থেকে যেন বোঝা না যায়, সেজন্য এটি ঢেকে দেওয়ার জন্য কাঁচা হলুদ বেঁটে আঠার মতো করে লাগিয়ে দেওয়া হতো। যন্ত্রের স্বর বদলানোর প্রয়োজন হলে শক্ত করে লাগানো সেই পুরো জায়গাটি খুলে ফেলে প্রতিবার নতুন করে আবার গরম করে তাতে চামড়া লাগিয়ে আঠা লাগাতে হতো। অবশ্যই কাজগুলো শ্রমসাধ্য ছিল। প্রাচীন সময়ের এই পদ্ধতি মেনে প্রতিবার স্বর পরিবর্তন সম্ভব নয় বলে আমি ইয়াজের জন্য নতুন কিছু ভাবা শুরু করলাম।

শুরুতে ইয়াজের সুরকে বৈশ্বিক সি-মেজর স্কেলে রাখার চেষ্টা করলাম যেন গিটারের মতো সবাই এটি সহজেই বাজাতে পারে। চামড়ার বদলে ব্যাঞ্জোর মতো হুক আর ব্র্যাকেট পদ্ধতি চালু করলাম। কাঁঠাল কাঠের চেয়ে হালকা লাল সিডার কাঠ ব্যবহার করলাম। এই কাঠ বাছাইয়ের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল বহন করা যেন সহজ হয়। রিসোনেটর খোদাই করার সময় খেয়াল রেখেছি যেন এর পাতলা অংশে আলতো চাপ দিলেই শব্দ শোনা যায়। বানানোর সময় প্রতি পয়েন্টে বারবার শব্দ শোনার চেষ্টা করেছি। যখনই শব্দ শুনেছি তখনই খোদাই বন্ধ করে দিয়েছি। প্রাচীন ইয়াজের মতো এটি আকৃতিতেও বেশি বড় নয়। প্রথম যে ইয়াজটি বানিয়েছিলাম সেটিতে সাতটি তার ছিল। পরে এর আরও পাঁচটি ভার্সন এসেছে। সর্বশেষটিতে তারের সংখ্যা ১৪।

ইয়াজ বানানোর পদ্ধতি এক কথায় সহজ ছিল না। কীভাবে বানাতে হয় জানা না থাকায় প্রতি পদক্ষেপে সতর্ক থাকতে হয়েছে। সবচেয়ে ভয় ছিল বাদ্যযন্ত্র থেকে সুর বের করে নিয়ে আসা। শেষ পর্যন্ত সেটি করতে পেরেছি।’

অন্যান্য প্রাচীন বাদ্যযন্ত্র 

শুধু ইয়াজ বানিয়েই কাজে ক্ষান্ত দেননি শেখর। তার আগ্রহের জায়গা দিন দিন আরও বেড়েছে। প্রাচীন বাদ্যযন্ত্র নিয়ে আগ্রহ থেকে নতুন অনেক কিছু সম্পর্কে জেনেছি। এর মধ্যে একটি ছিল ‘পঞ্চমুখা ভাদ্যাম’ অর্থাৎ পাঁচমুখো ড্রাম। এই বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার করা হতো ৯ম থেকে ১৩ শতাব্দী পর্যন্ত। এই সময়কে বলা হতো কোলা যুগ। এ যুগেও তামিল শাসন চলত। ড্রামে পাঁচটি ফাঁকা টানেল একটি চামড়ার সঙ্গে যুক্ত থাকত। এক জায়গায় শব্দ করলে বাকি জায়গাগুলোতে শব্দ শোনা যেত। এই ড্রাম বানানো হতো ব্রোঞ্জ দিয়ে, ওজন ছিল ২০০ কেজি। প্রাচীন সময়ে যে ড্রাম ব্যবহার করা হতো তার একটি রাখা আছে তিরুভারুর মন্দিরে। এটাই একমাত্র আসল ড্রাম।

এই ড্রামে আরও ব্যবহার করা হতো হরিণের চামড়া। যেহেতু এখন সেটি সম্ভব নয়, তাই আমি ছাগলের চামড়া ব্যবহার করেছি। ওজন কমানোর জন্য ড্রামের শরীরে ব্যবহার করেছি মাটি। তবে আমি আপাতত শুধু বাহ্যিক রূপ তৈরি করেছি। এখনো ড্রাম নিয়ে লেখাপড়া শেষ হয়নি। আমি তিরুভারুরে গিয়ে যন্ত্রটি নিয়ে আরও লেখাপড়া করব। এরপর নতুন করে নকশার কাজে হাত দেব।

নানা দেশের বাদ্যযন্ত্র 

প্রাচীন হলেও শুধু নিজ দেশের বাদ্যযন্ত্র বানানোর কাজে আটকে থাকতে চান না শেখর। তার মতে, ‘সংগীত যেমন সর্বজনীন, বাদ্যযন্ত্রও তাই। একেক দেশের একেক বাদ্যযন্ত্র বিখ্যাত। ভারতীয় বলে নিজ দেশের প্রাচীন জিনিসের প্রতি আমার আগ্রহ বেশি। তবে ভারত নিয়ে কাজ শুরু করলেও ইচ্ছা আছে বৈশ্বিক বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র নিয়ে কাজ করার। কারণ আমি শব্দ ভালোবাসি। শব্দ নিয়ে আরও বিশদ জানতে চাই। ‘কাজন’ নামে পেরুভিয়ান একটি বাদ্যযন্ত্র বানিয়েছি কিছুদিন আগে। এটি বানাতে আমার পুরো দুই মাস লেগেছে। কাজ করছি মঙ্গোলিয়ান ‘মোরিন খুর’ (একে ঘোড়ার মাথাওয়ালা বেহালাও বলা হয়) নিয়ে। এটি নিয়ে গবেষণা শুরু করেছি।

যে কোনো বাদ্যযন্ত্র নিয়ে কাজ শুরুর আগে আমি আগে তার গল্প শুনি। এটি আমার কাজের খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। গল্প শোনার জন্য স্থানীয় মানুষদের কাছে চলে যাই। তারা জিনিসটি সম্পর্কে সবচেয়ে ভালো বর্ণনা দিতে পারে। নিজের কাজ তো হয়ই, সঙ্গে অন্য এলাকার মানুষের সঙ্গেও খুব ভালো একটি সম্পর্ক তৈরি হয়। এছাড়া তাদের রীতিনীতি, খাবার, উৎসব সম্পর্কেও অনেক তথ্য জানা যায়।

করোনা মহামারীর কারণে বর্তমানে সব জায়গায় যাওয়া স্থগিত রয়েছে। এ সুযোগে ইন্টারনেটে যতটুকু পারছি জেনে নিচ্ছি বিশ্বের বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র সম্পর্কে। ঘুরে বেড়ানোর সুযোগ তৈরি হলেও আবারও কাগজ-কলম নিয়ে মাঠে নেমে পড়ব।’

শেখরের মূল পরিকল্পনা যতটা সম্ভব গ্রাহকের কাছে একে সহজলভ্য করে তোলা। বর্তমানে এর মূল্য দেড় লাখ টাকা। তিনি চেষ্টা করছেন দাম আরও কমিয়ে নিয়ে আসার। নিজের বানানো প্রথম এই প্রাচীন যন্ত্রটি শেখর এখন বাজাচ্ছেন নিজেদের ব্যান্ডে।   

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত