সিজিটিএনকে ইমরান খান

চীন-পাকিস্তান বন্ধুত্ব চাপেও অটুট থাকবে

আপডেট : ০২ জুলাই ২০২১, ০১:৩৮ এএম

চীনের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখার কারণে যুক্তরাষ্ট্রসহ পাশ্চাত্য দেশগুলো পাকিস্তানের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। তবে তাতে দুই দেশের মধ্যকার ৭০ বছরের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কোনো ব্যত্যয় ঘটবে না বলে জানিয়েছেন তিনি। চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন চ্যানেল চায়না গ্লোবাল টেলিভিশন নেটওয়ার্ককে (সিজিটিএন) সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে নিজে দেশের এই অবস্থান সম্পর্কে জানিয়েছেন ইমরান খান।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের চরম তিক্ত সম্পর্কে পাকিস্তানের অবস্থান সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে ইমরান খান বলেন, এই ইস্যুটিকে কেন্দ্র করে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলো পাকিস্তানকে চাপ দিচ্ছে। ইতিমধ্যে কয়েকবার এ বিষয়ে যেকোনো একটি পক্ষ বেছে নিতে যুক্তরাষ্ট্র ও পাশ্চাত্যের দেশগুলো পাকিস্তানকে আহ্বানও জানিয়েছে বলে সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেছেন তিনি।

সিজিটিএনকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী জানান, এই ইস্যুতে দেশের ওপর চাপ দেওয়াকে তিনি অনুচিত বলে মনে করেন। ইমরান বলেন, ‘পাকিস্তান মনে করে, চীনের সঙ্গে সাম্প্রতিক দ্বন্দ্বর পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র ও পাশ্চাত্যের দেশগুলো পাকিস্তানকে পক্ষ বেছে নেওয়ার জন্য যে চাপ দিচ্ছে, তা অনুচিত। আমরা কেন এক পক্ষের হয়ে অবস্থান নেব? সবার সঙ্গে আমাদের ভালো সম্পর্ক থাকবে। তাই চীনের সঙ্গে সম্পর্কের অবনমন ঘটাতে পাকিস্তানের ওপর যতই চাপ আসুক না কেন, বাস্তবে এমন কিছু ঘটবে না।’

চীনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে ইমরান খান বলেন, চীন ও পাকিস্তানের মধ্যে শক্তি শালী রাজনৈতিক মিত্রতা রয়েছে। এ সম্পর্ক শুধু আনুষ্ঠানিক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নয়, বরং দুই দেশের জনগণের মধ্যে গভীর বন্ধন রয়েছে। ভবিষ্যতে এ বন্ধুত্বে বাণিজ্য গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবক হয়ে উঠবে।

চীনের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র অতিমাত্রায় সতর্ক। সম্প্রতি তারা যেভাবে পরস্পরের মুখোমুখি হচ্ছে দিন দিন তা উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে; বিশেষ করে ভারতকে সঙ্গী করে যুক্তরাষ্ট্র কোয়াড নামে যে জোট গঠন করেছে, ভবিষ্যতে এই আঞ্চলিক জোটটি কোন ভূমিকা নেবে, তা নিয়ে দুশ্চিতার অবকাশ থেকেই যাচ্ছে।

এ সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, ‘ভালো সময়ে সবাই আপনার পাশ থাকবে, কিন্তু প্রকৃত বন্ধু তারাই, যারা খারাপ সময় এলেও আপনাকে ছেড়ে যাবে না। ৭০ বছর ধরে চীন পাকিস্তানের পাশে থেকে তার প্রমাণ দিয়েছে, আর এ কারণেই পাকিস্তানের জনগণ চীনের জনগণের প্রতি সব সময়ই ভালোবাসা অনুভব করে।

ইমরান খান জানান, প্রায় ৬০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে চায়না-পাকিস্তান ইকোনমিক করিডরের (সিপিইসি) কাজ শেষ হলে এটা পাকিস্তানের জন্য বড় একটি অর্জন হবে। এই প্রকল্প পাকিস্তানের গোয়াদর বন্দরকে চীনের জিনজিয়াং প্রদেশের সঙ্গে যুক্ত করবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত