করোনাকালে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকা সত্ত্বেও বিপুল টাকার ইন্টারনেট বিল নিয়ে সমালোচনার মুখে অবশেষে এ বাবদ ব্যয় বরাদ্দে কিছুটা কাটছাঁট করেছে জাতীয় কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় কর্র্তৃপক্ষ। ‘বন্ধ ক্যাম্পাসে ৪১ লাখ টাকার ইন্টারনেট বিল’ শিরোনামে গত ৯ জুন দৈনিক দেশ রূপান্তরে সংবাদ প্রকাশের পর এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারনেট ও ওয়েবসাইট পরিচালনা কমিটি।
গত বছরের মার্চ থেকে চলমান সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও ২০২১ সালের জুন মাস পর্যন্ত জাতীয় কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ইন্টারনেট বিল দেখানো হয় ৪১ লাখ ২৫ হাজার টাকা। যেখানে খোদ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) বাধ্যতামূলকভাবে চুক্তি অনুযায়ী প্রতি মাসে ২ লাখ টাকা অগ্রিম সংরক্ষণে রাখে বিডি রেন-এর বিল পরিশোধ করার জন্য। বিডি রেন-এর ইন্টারনেট সেবা নিরবচ্ছিন্ন না হওয়ায় বিকল্প হিসেবে ৭৫ হাজার টাকায় প্রতি মাসে স্থানীয় ইন্টারনেট ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান থেকে অতিরিক্ত মূল্যে কিনতে হয় ইন্টারনেট সেবা। যেখানে বন্ধ ক্যাম্পাসে স্বাভাবিক সময়ের মতোই চালু ছিল ইন্টারনেট ক্রয় সংক্রান্ত ব্যয়। দেশ রূপান্তরে প্রকাশিত সংবাদের পর সংশ্লিষ্ট কমিটি আলোচনায় বসে বন্ধ ক্যাম্পাসে ইন্টারনেট ব্যয় কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন স্থানীয় পর্যায়ে কেনা ইন্টারনেট সেবার ব্যয় সংকোচন করলেও ইউজিসির চুক্তি অনুযায়ী চালু রয়েছে বিডি রেন-এর প্রতি মাসে ২ লাখ টাকার প্যাকেজটি, যা বাধ্যতামূলক প্রত্যেক বিশ্ববিদ্যালয়ের (ক্যাটাগরি অনুযায়ী) জন্য। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চুক্তি অনুযায়ী বাধ্যতামূলকভাবে সংযোগ সেবা নেওয়ায় প্রয়োজনের চেয়ে বেশি রাষ্ট্রীয় অর্থের ব্যয় হচ্ছে বলে জানান সংশ্লিষ্ট একাধিক শিক্ষক। যার কারণে অপচয় হচ্ছে রাষ্ট্রের অর্থের। ইন্টারনেট ব্যয় দেখিয়ে কেবল জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বছরে ইউজিসি অর্থ কেটে রাখে ২৪ লাখ টাকা।
অতিরিক্ত ইন্টারনেট বিল বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারনেট ও ওয়েবসাইট পরিচালনা কমিটির সভাপতি ড. সেলিম আল মামুন বলেন, আমি নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েছি। দায়িত্বপ্রাপ্তির পরপরই সংবাদটি নজরে আসে। আমরা সেটি বিবেচনায় নিয়ে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সিদ্ধান্ত নেই বন্ধ ক্যাম্পাসে ইন্টারনেট ইউজার কম তাই ডাটার পরিমাণও কমিয়ে এনেছি। জুলাই-২০২১ মাস থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পুরোদমে চালুর পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত ৩০ এমবিপিএস ব্যাকআপ ইন্টারনেট হিসেবে ত্রিশাল ইন্টারনেট থেকে কেনা হবে যার অর্থমূল্য প্রতি মাসে ৭৫ হাজার থেকে কমে ১৭-১৮ হাজার টাকায় নেমে এসেছে। ইউজিসির চুক্তি হওয়ায় বিডি রেন বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় আলাদা করে সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। সেই ইন্টারনেট সেবা কীভাবে চলবে সেটি ইউজিসিই নির্ধারণ করে থাকে।
বন্ধ ক্যাম্পাসে পূর্বের ইন্টারনেট ব্যয় সরকারি অর্থের অপচয় কিনা জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়টির রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) কৃষিবিদ ড. হুমায়ুন কবীর বলেন, বন্ধ ক্যাম্পাসে ইন্টারনেট বিলের পরিমাণ নজরে আসা মাত্র নতুন কমিটিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে একটি রিপোর্ট দেওয়ার জন্য যে আগের ইন্টারনেট কেনা কতটা জরুরি ছিল এবং সেটি কেনায় বাধ্যবাধকতা বা প্রয়োজন ছিল কিনা। সেই বিষয়ে ইন্টারনেট ও ওয়েবসাইট পরিচালনা কমিটি প্রতিবেদন দিলে সেই প্রেক্ষিতে প্রশাসন সিদ্ধান্ত নেবে। তবে নতুন কমিটি বন্ধ ক্যাম্পাসে পূর্বের ন্যায় একই পরিমাণ ইন্টারনেট সেবার প্রয়োজন বোধ করছে না বলে ডাটার পরিমাণ কমিয়ে বর্তমানে ৩০ এমবিপিএসে নিয়ে এসেছে।
ইন্টারনেট সেবার অর্থমূল্য সম্পর্কে ত্রিশাল নেটের সিইও আনিসুর রহমান জুয়েল বলেন, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারনেট স্পিড ৩০ এমবিপিএস। যার অর্থমূল্য ২০ হাজার টাকার কম।
২০২০ সালের মার্চ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকলেও স্বাভাবিক সময়ের মতোই কেনা হতো ইন্টারনেট সেবা, যার মাসিক মূল্য ৭৫ হাজার টাকা, বর্তমানে সেই মূল্য মাসে ২০ হাজার টাকার কম। যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারনেট খাতে বছরে অর্থ সাশ্রয় হচ্ছে প্রায় ৭ লাখ টাকা।
