রাজধানীর মগবাজারে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় চিকিৎসাধীন আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) তাদের মৃত্যু হয়। এ নিয়ে মগবাজার ট্র্যাজেডিতে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ১১।
গতকাল দুপুর ২টার দিকে শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটের আইসিইউতে মারা যান রাসেল (৩৫)। মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন ইনস্টিটিউটের সমন্বয়কারী ডা. সামন্ত লাল সেন।তিনি বলেন, রাসেলের শরীরের ৯০ শতাংশ দগ্ধ ও শ্বাসনালি পুড়ে গিয়েছিল। তাকে প্রথমে এইচডিইউতে রাখা হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় আইসিইউতে নেওয়া হয়। তার শরীরে কাটাছেঁড়ার ক্ষতও ছিল। বর্তমানে ইনস্টিটিউটে কালু নামে একজন ও ঢাকা মেডিকেলে আরও তিনজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
রাসেলের চাচা মানারুল হক জানান, রাসেলের বাবার নাম জসিম উদ্দিন। তার বাড়ি ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুর উপজেলার বনগাঁও গ্রামে। মগবাজার এলাকার একটি কলেজে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে পড়তেন তিনি। করোনার কারণে দুর্ঘটনার এক সপ্তাহ আগে তিনি মগবাজারের বেঙ্গল মিটে সেলন্সম্যানের চাকরি নেন।
এর আগে গতকাল ভোরে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন নুরুন্নবীর ম-লের (৩৫) মৃত্যু হয়। তিনিও শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন ছিলেন। ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ইনস্টিটিউটের আইসিইউতে তার মৃত্যু হয়। ইনস্টিটিউটের সমন্বয়কারী ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, নুরুন্নবীর শরীরের ৯০ শতাংশ দগ্ধ ছিল। এ ছাড়া শরীরে গ্লাসের কাটা যখমও ছিল। পাশাপাশি তার শ^াসনালিও দগ্ধ হয়েছিল।
এ নিয়ে ইনস্টিটিউটের আইসিইউতে থাকা তিনজনই মারা গেলেন। একই ঘটনায় ঢাকা মেডিকেলে আরও তিনজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মৃত নুরুন্নবীর স্ত্রী পপি আক্তার জানান, তাদের বাড়ি রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হাবাসপুর গ্রামে। নুরুন্নবীর বাবার নাম ইসলাম ম-ল। তিনি ভ্যান চালাতেন। থাকতেন হাতিরপুল বাটা সিগন্যাল মোড়ে একটি মেসে। পপি এক ছেলে নিয়ে গ্রামে থাকতেন। স্বামীর দুর্ঘটনার সংবাদ পেয়ে ঘটনার পরদিন ঢাকায় আসেন।
গত রবিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রাজধানীর মগবাজার ওয়্যারলেস গেট এলাকায় তিনতলা ভবনের নিচতলায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ হয়। এ ঘটনায় গতকাল পর্যন্ত ১১ জন নিহত হয়। বিস্ফোরণে দুই শতাধিক মানুষ আহত হয়েছে। বিস্ফোরণে অন্তত ১৫টি যানবাহন ও আশপাশের ৭টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিস্ফোরণের পর ফায়ার সার্ভিস, বিস্ফোরক অধিদপ্তর ও পুলিশ আলাদাভাবে তদন্ত করছে।
