ঈদ পোশাকে বর্ষার আবহ

আপডেট : ০৩ জুলাই ২০২১, ১২:৫২ এএম

করোনা সংক্রমণ এড়াতে এবারও ঘরবন্দি হয়ে ঈদ কাটাতে হবে সবাইকে। এর মধ্যেও ঈদের নতুন পোশাক ও আনন্দ উপভোগের আয়োজন থেমে থাকবে না। ঈদের পোশাক নিয়ে ব্র্যান্ড ও নন-ব্র্যান্ড ফ্যাশন হাউজগুলোতে অনলাইন কেনাকাটা জমে উঠেছে। সঙ্গে রয়েছে নানা ছাড় ও উপহার। জেনে নিন ঈদে কোন ধরন ও ডিজাইনের পোশাক নিয়ে এসেছে ফ্যাশন হাউজগুলো। লিখেছেন মোহসীনা লাইজু

ঈদ পোশাকে প্রাধান্য পেয়েছে বৃষ্টি ও গরম। তাই পোশাকের কাটিং বৈচিত্র্যের পাশাপাশি পোশাকের ফেব্রিকসও গুরুত্ব পেয়েছে। অন্যান্য বছরের চেয়ে এবারের ঈদে ক্রেতারাও দেশীয় পোশাক কিনছে বেশি। গরম এবং বর্ষার কথা মাথায় রেখেই ঈদের পোশাকের ডিজাইন করেছে ডিজাইনাররা। বেছে নিয়েছে একই সঙ্গে জমকালো আর স্বস্তিদায়ক কাপড়। ঈদের রাতে পরার জন্য লাল, কালো, নীল, ম্যাজেন্টা, কমলা এবং দিনে গোলাপি, বেগুনি, আকাশি, অ্যাশ রংকে প্রধান্য দেওয়া হয়েছে। কাপড় হিসেবে থাকছে সুতি, মলমল কটন, শিফন, মসলিন ও জর্জেট। 

মেয়েদের পোশাক

ঈদে মেয়েদের পোশাকে সালোয়ার-কামিজ, টপস, সিঙ্গেল কামিজ, কুর্তার পাশাপাশি শাড়ির চাহিদাও অনেক। আর এসব পোশাকের নকশায় বেছে নেওয়া হয়েছে হাতের কাজ, মেশিন এমব্রয়ডারি, টাইডাই, ব্লক ও স্ক্রিন প্রিন্ট। ফ্যাশন হাউজগুলোর অনলাইন ঈদ আয়োজনে সুতির পাশাপাশি সিল্ক, জর্জেট ও মসলিনের পোশাক দেখা যাচ্ছে। সালোয়ার-কামিজ সেটে প্রধান্য পেয়েছে সালোয়ারের নানা কাটিং প্যাটার্ন। উৎসবের আমেজ আনতে ওড়নার নকশায় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দেখা যাচ্ছে সিম্পল সালোয়ার-কামিজের ওড়নাটা গর্জিয়াস। এছাড়াও বিভিন্ন ডিজাইনের ফতুয়া, টপসের ক্রেতাও অনেক। জেন্টল পার্ক ওমেনের ডিজাইনার সাহাদাত হোসেন বাবু বলেন, ‘ঈদ যেহেতু ঘরে থাকতে হবে। তাই অনেকে সালোয়ার-কামিজ পরতে চান না। সেই বিবেচনায় টপসে অনেক নতুন ডিজাইন নিয়ে এসেছি। আরামের বিষয়টি মাথায় রেখে স্ক্রিন প্রিন্ট, ভেজিটেবল ডাই, ব্লক, উল-সুতা, মিরর কাট, ফ্রিলের নকশা থাকছে  পোশাকে।’ হুরের ডিজাইনার ও স্বত্বাধিকারী সৌমিন আফরিন জানান, ‘যেহেতু ঈদের পোশাক। তাই একটু গর্জিয়াস না হলে মানায় না। আবার বর্ষাকাল প্রতিদিনই আবহাওয়ার রূপ বদলাচ্ছে, তাই অন্য কাপড়ের পাশাপাশি হালকা ও ভিজলে যাতে সহজেই শুকিয়ে যায় এমন কাপড় ব্যবহারের বিষয়টি মাথায় রেখে টপসের ডিজাইন করেছি। টাইডাই, সুতার কাজ, সব ধরনের স্ক্রিন প্রিন্ট, অ্যাসুস, মখমল ইত্যাদির ওপর জোর দিয়েছি। ব্র্যান্ড ও নন-ব্র্যান্ড প্রায় সব অনলাইন ফ্যাশন হাউজেই পাবেন বাহারি কাটের টপস। এসব হাউজের পেইজে গেলে  পোশাকের লাইভও দেখতে পাবেন।

মেয়েদের পোশাকে অনেক দিন ধরেই জনপ্রিয় সিঙ্গেল কামিজ। তাই সিঙ্গেল কামিজের কাটিংয়ে নানা ধরনের বৈচিত্র্য খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে। দেশীয় প্রায় সব ফ্যাশন হাউজের অনলাইন কালেকশনে সিম্পল ও গর্জিয়াস দু-ধরনের সিঙ্গেল কামিজই পাবেন। এসব কামিজের কোনোটার ঝুল কখনো পেছনে বেশি থাকছে আর সামনে কমে যাচ্ছে। কখনো সামনে-পেছনে ঝুল ঠিক আছে কিন্তু সাইড থেকে নেমে গেছে। র‌্যাকফিটের ডিজাইনার রেজাউল আফরোজ কমল বলেন, ‘এখন প্যাটার্ন আর নিত্যনতুন ডিজাইন পছন্দ তরুণীদের। আবহাওয়ার বিষয়টিও মাথায় রেখে কাজ করছি। বৈচিত্র্য আনতে চেষ্টা করেছি কামিজের কাটিং প্যাটার্নে। বৃষ্টি ও গরমে আরাম হবে এমন ফেব্রিকস বেছে নিয়েছি। কামিজ পরতে পারেন চুড়িদার, জিন্স, সালোয়ার বা পালাজ্জোর সঙ্গে। গরম ও বৃষ্টি দুটো সময়ের জন্যই আদর্শ এমন ফেব্রিকসই বেছে নেওয়া ভালো বলে মনে করেন ডিজাইনাররা। এ ক্ষেত্রে সুতি, লিলেন, জর্জেট ও শিফনের চাহিদাই বেশি। ঈদ উৎসবের জন্য ডিজাইনাররা বানিয়েছেন সিল্ক, মসলিন, তসর, নেট ও জর্জেটের সিঙ্গেল কামিজ। ফ্যাশন ব্র্যান্ড বিবিয়ানা স্বত্বাধিকারী ও ডিজাইনার লিপি খন্দকার বলেন, ‘সিঙ্গেল কামিজ এখন বেশ জনপ্রিয়। বিশেষ করে ক্যাজুয়াল ও ফরমাল দুটো লুকই পাওয়া যায়। তাই কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের মেয়ে ও টিনএজরা ঈদের পোশাক হিসেবে সিঙ্গেল কামিজ কিনছেন।

ফ্যাশনধারায় বেশ কয়েক বছর ধরে ম্যাক্সি ড্রেস, গাউন স্টাইল সিঙ্গেল কামিজ বা লং প্যাটার্ন পোশাক চলছে। এবার এই ধরনের কামিজে সুতির এবং ভেজিটেবল ডাইয়ের প্রাধান্য বেশি দেখা যাচ্ছে। ডিজাইনের বিশেষত্ব হলো ঢোলা, কার্ভ স্লিভ , বেল স্লিভ । নেকের কাটিংয়ে যোগ হয়েছে সেমি বোট নেক, পরট্রেইট, জুয়েল, স্কয়ার, গেদার্ড নেক, সেট ইন স্লিভ নেকের মতো প্যাটার্ন।

ক্লোজেট নাফিসার স্বত্বাধিকারী ও ডিজাইনার নাফিসা করিম জানালেন, ‘এবারকার ঈদে জমকালো শাড়ি থেকে হালকা নকশার শাড়ি বিক্রি হচ্ছে বেশি। শাড়ির জমিনে মোটিফ হিসেবে প্রাধান্য পেয়েছে ফুল ও প্রকৃতি। জামদানি, মসলিন, শিফন, তসর সিল্ক, সিল্ক, হাফ সিল্ক, অ্যান্ডি কটনের শাড়িতে প্রাধান্য পেয়েছে বর্ষার উজ্জ্বল রং।’ ঈদের শাড়ি হিসেবে টাঙ্গাইল তাত,মসলিন, বেনারসি,  জামদানি ও কাতান শাড়িই যেমন কিনছেন তেমনি সুতির ভেজিটেবল ডাই, ব্লক, বাটিকের শাড়িও অনেকের পছন্দের তালিকায় আছে। 

ছেলেদের পোশাক

ছেলেদের ঈদ পোশাকে পাঞ্জাবির বিকল্প নেই। ফ্যাশন হাউজগুলোর অনলাইন পেইজে  নানা রং ও কাটের পাঞ্জাবি দেখা যাচ্ছে । অঞ্জন’স-এর স্বত্বাধিকারী শাহীন আহম্মেদ জানান, ‘এবারকার ঈদ পাঞ্জাবিতে বাটন লাইনে নকশা যেমন দেখা যাচ্ছে তেমনি পাঞ্জাবিজুড়ে ছোট ছোট প্রিন্টও আছে। নকশা হিসেবে বেশি ব্যবহৃত হয়েছে  ফ্লোরাল ও জ্যামিতিক মোটিফ। কাটিং প্যাটান শর্ট আর সেমি লং । পাঞ্জাবিতে বডি ফিট ও লুজ ফিটিং দুটোই দেখা যাচ্ছে। ঈদের পোশাকের তালিকায় আছে শর্ট ফতুয়া এবং পোলো টি-শার্টও। এক রং, স্ট্রাইপ ও লাইট প্রিন্টের পোলোও বেশি চলছে। প্রাধান্য পেয়েছে স্ক্রিন প্রিন্টের সুতির ক্যাজুয়াল শার্ট। শার্টের ফেব্রিকস হিসেবে টুইল কটন, জুট কটন ও লিলেনের  চাহিদা বেশি। নানা ধরনের ওয়াশ করা ফেড শার্টও অনেকগুলো ফ্যাশন ব্র্যান্ডের অনলাইন পেইজে পাওয়া যাচ্ছে।

ছোটদের পোশাক

ঈদের আনন্দ সবচেয়ে বেশি ছুঁয়ে যায় ছোটদেরই। এবার শিশুদের পোশাকেও এসেছে ভিন্নতা। বৃষ্টি ও গরমের কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হয়েছে শিশুদের ঈদের পোশাক। বেমি কিনছে টিস্যু গ্রাউন, গারারা এবং ডিজে সেট। সেইলর-এর কিডস ডিজাইনার শায়লা নূর জানান, বড়দের মতোই ছোটদের পোশাকের নকশায় প্রাধান্য পাচ্ছে কারচুপি, মেশিন এমব্রয়ডারিসহ হাতের নানা কাজ। এছাড়া রয়েছে সিল্ক, মসলিন কাপড়ের পার্টি পোশাক। বাচ্চাদের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে উজ্জ্বল রং।’  আড়ং, বিশ্ব রঙ, নিত্য উপহার, মেঘ, কিডস জোন, শীতল, যাত্রাসহ ছোট-বড় সব ব্র্যান্ড ও নন-ব্র্যান্ড ফ্যাশন হাউজগুলোর অনলাইনে পাবেন শিশুদের রং-বেরঙের পোশাক। ছেলে শিশুদের জন্য প্রচলিত পাঞ্জাবি, টি-শার্টের পাশাপাশি বিভিন্ন রং ও ডিজাইনের ফতুয়াও আছে। গরমে শিশুদের প্রশান্তির কথা ভেবে গেঞ্জি কাপড়ের টপ, টি-শার্ট, প্যান্ট এনেছে বিভিন্ন ব্র্যান্ড। মেয়ে শিশুদের জন্য সুতির টু-পিস, থ্রি-পিস, ফ্রকের বড় সংগ্রহ আছে দারাজ ও আজকের ডেল মতো অনলাইন মার্কেট প্লেসে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত