দেশে টানা ছয় দিন ধরে করোনায় শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। সর্বশেষ গত ২৪ ঘণ্টায় ১৩২ জন মারা গেছেন। এর আগে ১১৯ জন মারা গিয়েছিলেন গত ২৭ জুন। এ নিয়ে দেশে মোট মারা গেলেন ১৪ হাজার ৭৭৮ জন।
টানা তিন দিন ধরে আট হাজারের বেশি রোগী শনাক্ত হচ্ছে। গতকাল শনাক্ত হয়েছেন ৮ হাজার ৪৮৩ জন। এর আগে গত ৩০ জুন এক দিনে শনাক্ত হয়েছিলেন ৮ হাজার ৮২২ জন এবং সেটিই এখন পর্যন্ত দেশে এক দিনে শনাক্ত সর্বোচ্চ রোগীর সংখ্যা। এ নিয়ে দেশে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ৯ লাখ ৩০ হাজার ৪২ জন।
বিশেষ করে শনাক্ত হার বাড়ছে গত টানা ১২ দিন ধরে। গত ২০ জুন পরীক্ষা অনুপাতে রোগী শনাক্ত হার ছিল ১৬ শতাংশ। গতকাল তা বেড়ে ২৮ শতাংশে উঠেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু, রোগী ও শনাক্ত হার এই তিন সূচকেই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেকর্ড হয়েছে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যু ছিল গত ২৭ জুন, ১১৯ জন। সে রেকর্ড ভেঙে গতকাল দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে। একইভাবে এর আগে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শনাক্ত রোগী ছিল গত ২৮ জুন ৮ হাজার ৩৬৪ জন। গতকাল তা বেড়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রোগী শনাক্ত হয়েছে ৮ হাজার ৪৮৩ জন।
তবে রোগী শনাক্ত হারে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেকর্ড হলো ১১ মাস পর। এর আগে দেশে এ যাবৎকালের সবচেয়ে বেশি শনাক্তের হার ছিল গত বছরের ৩ আগস্ট ৩২ শতাংশ এবং সেটি এক দিনই ছিল। গত ১৬ মাসে সর্বোচ্চ গড় শনাক্ত হার ছিল ২৩-২৪ শতাংশের মধ্যে। এরপর গতকাল ২৮ শতাংশের মধ্য দিয়ে শনাক্তের হারে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেকর্ড হলো।
গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে খুলনা বিভাগে ৩৫ জন। এ নিয়ে এই বিভাগে মোট মারা গেলেন ১ হাজার ৩৪৬ জন। এখানে মোট মৃত্যু হার আট বিভাগের মধ্যে তৃতীয় সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ। টানা আট দিন ধরে খুলনায় মৃত্যু বেশি। এর আগে গত বৃহস্পতিবার দেশে এ যাবৎকালে করোনায় সর্বোচ্চ ১৪৩ জন মৃত্যুর মধ্যে খুলনা বিভাগের ছিলেন ৪৬ জন। গত ৩০ জুন মারা যাওয়া ১১৫ জনের মধ্যে ৩০ জন ছিলেন খুলনার। ২৯ জুন মারা যাওয়া ১১২ জনের মধ্যে ৩৫ জন, ২৮ জুন ১০৪ জনের মধ্যে ৩৫ জন, ২৭ জুন ১১৯ জনের মধ্যে ৩২ জন, ২৫ জুন ১০৮ জনের মধ্যে ২৭ জন, ২৪ জুন ৮১ জনের মধ্যে ২৩ জন, ২৩ জুন ৮৫ জনের মধ্যে ৩৬ জন এবং গত ২২ জুন মারা যাওয়া ৭৬ জনের ২৭ জনই ছিলেন খুলনার বাসিন্দা। কেবলমাত্র ২৬ জুন এক দিনে চট্টগ্রাম বিভাগে মৃত্যু হয়েছিল ২০ জনের।
গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ১৩২ জনের মধ্যে ঢাকা বিভাগের রয়েছেন ৩০ জন, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিভাগের ২৪ জন করে, বরিশাল ও সিলেট বিভাগে ২ জন করে, রংপুর বিভাগে ৯ জন এবং ময়মনসিংহ বিভাগের রয়েছেন ৬ জন। এ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি মারা গেছেন ঢাকা বিভাগে ৭ হাজার ৬৪৪ জন, যা মোট মৃত্যুর ৫২ শতাংশ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংখ্যক মৃত্যু হয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগে ২ হাজার ৭৮৯ জনের, যা মোট মৃত্যুর ১৯ শতাংশ।
গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে ঢাকা বিভাগে ৩ হাজার ৮৪১ জন। এ নিয়ে এখানে মোট রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল সবচেয়ে বেশি ৬ লাখ ৯ হাজার ৬৩ জন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রোগী শনাক্ত হয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগে ১ লাখ ১৯ হাজার ৩৩৭ জন। এরপর সবচেয়ে বেশি রোগী পাওয়া গেছে খুলনা বিভাগে ৫৮ হাজার ৫৫৩ জন, রাজশাহী বিভাগে ৫৭ হাজার ৫৮৭ জন, রংপুর বিভাগে ২৭ হাজার ১৮৩ জন, সিলেট বিভাগে ২৫ হাজার ৭৯৭ জন, বরিশাল বিভাগে ১৮ হাজার ১৭৫ জন ও সবচেয়ে কম রোগী পাওয়া গেছে ময়মনসিংহ বিভাগে ১৪ হাজার ৩৪৭ জন।
সরকারি হিসাবে গত এক দিনে আরও ৪ হাজার ৫০৯ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ৮ লাখ ২৫ হাজার ৪২২ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় যে ১৩২ জন মারা গেছেন, তাদের মধ্যে ৬৭ জনেরই বয়স ৬০ বছরের বেশি। ৩০ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে, ২০ জনের ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে, ১৪ জনের ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে এবং ১ জনের বয়স ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে ছিল। তাদের মধ্যে ৮১ জন পুরুষ, ৫১ জন নারী। ৯৯ জন সরকারি হাসপাতালে, ২০ জন বেসরকারি হাসপাতালে এবং ১৩ জন বাসায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
দেশে এ পর্যন্ত মোট শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৯৪ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৮৮ দশমিক ৭৫ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৫৯ শতাংশ।
