বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতাল থেকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে (কেরানীগঞ্জ) নেওয়া হয়েছে ডেসটিনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রফিকুল আমীনকে। গতকাল শনিবার বিকেল পৌনে ৪টায় তাকে কারাগারে নেওয়া হয়।
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার সুভাষ কুমার দেশ রূপান্তরকে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, ‘আজ (গতকাল) বিকেলে রফিকুল আমীনকে কারাগারে আনা হয়েছে। তিনি গত ১১ এপ্রিল থেকে বিএসএমএমইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এখানে তাকে ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনে রাখা হবে। রফিকুল আমীন তার হৃদযন্ত্র, কিডনি, অর্থোপেডিকস ও ডায়াবেটিসের সমস্যার কথা জানিয়েছেন। রফিকুল আমীন অসুস্থ বলে তাকে এত দিন হাসপাতালে রাখা হলেও সেখান থেকে তিনি দিব্যি ব্যবসা পরিচালনা করে যাচ্ছিলেন। মোবাইল-ইন্টারনেট ব্যবহার করে জুম অ্যাপে নিয়মিত মিটিংও করেছেন। তার এমন জুম মিটিংয়ের দুটি ভিডিও চিত্র রয়েছে।’
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মানি লন্ডারিং মামলায় রফিকুল আমীনকে ২০১২ সালের অক্টোবরে গ্রেপ্তার করা হয়।
কর্মকর্তারা জানান, এরপর থেকে রফিকুল আমীন একেক সময় একেক রোগের কথা বলে হাসপাতালের প্রিজন সেলে থেকেছেন। তিনি মূলত ঘুরেফিরে বিএসএমএমইউ ও বারডেম হাসপাতালে আসা-যাওয়ার মধ্যে ছিলেন। তারমধ্যে বেশির ভাগ সময় ছিলেন বিএসএমএমইউতে। তবে এবারের মতো একটানা এত লম্বা সময় তিনি এর আগে ছিলেন না। এর আগে সেখানে সর্বোচ্চ টানা দেড় মাস থেকেছেন। সর্বশেষ চলতি বছরের ১১ এপ্রিল তিনি কারাগার থেকে বিএসএমএমইউর প্রিজন সেলে যান।
এদিকে, কারাগারের অধীনে হাসপাতালে থাকা ডেসটিনি-২০০০ লিমিটেডের এমডি রফিকুল আমীনের মোবাইল ফোন ও জুম মিটিংয়ে অংশ নেওয়ার ঘটনায় ১৩ কারারক্ষীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে। এছাড়া সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে চার কারারক্ষীকে।
কারাগারের এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘চলতি বছরের মে ও জুন মাসে ব্যবসা নিয়ে রফিকুল আমীন জুম মিটিং করেন। ভিডিওতে দেখা গেছে রফিকুল আমীন ডেসটিনির মতোই নতুন আরেকটি এমএলএম ব্যবসার বিষয়ে আলোচনা করছেন। ইতিমধ্যে সেই ব্যবসা শুরুও করেছেন তিনি। ব্যবসার জন্য শিগগিরই ১৩০০ মার্কেটিং এজেন্ট নিয়োগের কথা বলেছেন। জুমে তিনি ‘মিস্টার এ’ নামে রেজিস্ট্রি করেছেন। তার প্রোফাইল ছবিতে ইংরেজি বর্ণের বড় হাতের ‘আর’ লেখা। ব্যবসার বিষয়ে আলাপকালে তার নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠান ডেসটিনি-২০০০ লিমিটেডের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে কথাও বলেছেন তিনি। বিষয়টি আমরা আরও তদন্ত করছি।’
