সপ্তাহে মৃত্যু বেড়েছে ৪৬ শতাংশ

আপডেট : ০৪ জুলাই ২০২১, ০১:৩৯ এএম

দেশে করোনা মহামারীর ২৬তম সপ্তাহ শেষ হয়েছে গতকাল শনিবার। এক সপ্তাহের ব্যবধানে মৃত্যু বেড়েছে ৪৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ। এ সময় শনাক্ত বেড়েছে ৫১ দশমিক ২৯ শতাংশ। এর আগে ২৫তম সপ্তাহে মৃত্যু ছিল ৫৮৭ জন। নমুনা পরীক্ষায় শনাক্ত হয়েছে ৩৫ হাজার ১১১ জন। দেশে সাত দিন ধরে করোনাভাইরাসে শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো করোনাবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ১৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা এ যাবৎকালের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এর আগে গত বৃহস্পতিবার এক দিনে দেশে সর্বোচ্চ ১৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল। এ ছাড়া ২ জুলাই মারা যায় ১৩২ জন। এরও আগে গত ৩০ জুন ১১৫, ২৯ জুন ১১২, ২৮ জুন ১০৪ আর ২৭ জুন মারা যায় ১১৯ জন।

এক বছরের বেশি সময়জুড়ে প্রাণঘাতী এ ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে ইতিমধ্যে মৃত্যুর সংখ্যা সাড়ে ১৫ হাজার ছুঁইছুঁই করছে। এ পর্যন্ত দেশে মৃত্যু হয়েছে ১৪ হাজার ৯১২ জনের। সরকারি হিসাবে এক দিনে সেরে উঠেছেন ৩ হাজার ৭৭৭ জন। তাদের নিয়ে এ পর্যন্ত সুস্থ হলেন ৮ লাখ ২৯ হাজার ১৯৯ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এক দিনের ব্যবধানে সংক্রমণের হার কিছুটা কমেছে। গতকাল সকাল পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ৬ হাজার ২১৪ জনের মধ্যে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। তিন দিন ধরে শনাক্তের হার ৮ হাজারের বেশি ছিল। এর আগের দিন শুক্রবার করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয় ৮ হাজার ৪৮৩ জন। এক দিনের ব্যবধানে দুই হাজারের মতো আক্রান্ত কমেছে। নতুন রোগীদের নিয়ে দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছেছে ৯ লাখ ৩৬ হাজার ২৫৬।

গত কয়েক দিনের মতো খুলনা ও ঢাকা বিভাগে মৃত্যুর সংখ্যার ঊর্ধ্বগতি রয়েছে। এক দিনে খুলনায় মৃত্যু হয়েছে ৩৯ জনের এবং ঢাকায় মৃত্যু হয়েছে ৩৮ জনের। এরপর সর্বাধিক মৃত্যু ঘটেছে রাজশাহী বিভাগে ২৩ জন। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ১১, ময়মনসিংহে ৪, রংপুরে ১৫, বরিশালে ৩, সিলেটে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

জেলার হিসাবেও সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে ঢাকায় ২ হাজার ৮৫৪ জন। এরপর দিনাজপুরে ২৫৮, যশোরে ২৫০, চট্টগ্রামে ২৬২, কুমিল্লায় ১৭০, ফরিদপুরে ১৪৮, সিলেটে ১২২, পাবনায় ১১৮, বগুড়ায় ১১২, কক্সবাজারে ১০১, নোয়াখালীতে ১০২ ও রাজশাহীতে ১০০ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় যে ১৩৪ জনের মৃত্যু ঘটেছে, তাদের ৬৫ জনের বয়স ৬০ বছরের বেশি। ৩০ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে, ২৪ জনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে। বাকিদের বয়স এর নিচে। মৃতদের মধ্যে পুরুষ ৮৪ ও নারী ৫০ জন । এদের মধ্যে ১০৭ জন সরকারি হাসপাতালে, ২০ জন বেসরকারি হাসপাতালে এবং ৭ জন বাসায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত