টানা সাত দিন করোনাভাইরাসে শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মারা গেছেন ১৩৪ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এই সময়ে সবচেয়ে বেশি ৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে খুলনা বিভাগে। এরপর ঢাকায় ৩৮ জন, রাজশাহীতে ২৩, রংপুরে ১৫ ও চট্টগ্রাম বিভাগে মারা গেছে ১১ জন। বাকিরা অন্য বিভাগের। তবে দেশের বিভিন্ন এলাকার হাসপতাল থেকে পাওয়া তথ্যে ২৪ ঘণ্টায় করোনা উপসর্গ নিয়ে আরও অসংখ্য মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কয়েকটি অঞ্চল থেকে দেশ রূপান্তরের প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে কোনো কোনো এলাকায় করোনা শনাক্ত হয়ে মৃত্যুর তুলনায় উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু বেশি।
সাতক্ষীরার সিভিল সার্জন দপ্তরের দেওয়া তথ্যমতে জেলাটিতে করোনা সংক্রমণ শুরুর পর থেকে করোনায় আক্রান্ত হয়ে যেখানে ৭৪ জনের মৃত্যু হয়েছে সেখানে উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ৩৫৯ জনের। গতকালও করোনা ডেডিকেটেড সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যাওয়া ৫ জনেরই করোনার উপসর্গ ছিল।
সাতক্ষীরায় এক দিনে সব মৃত্যুই উপসর্গ নিয়ে : সাতক্ষীরার সিভিল সার্জন দপ্তরের মেডিকেল অফিসার জয়ন্ত সরকার জানান, জেলায় এ পর্যন্ত ১৩ হাজার ৩৩৮ জনের নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। এর মধ্যে ৩ হাজার ৫০১ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ২ হাজার ৬১৯ জন। করোনায় সংক্রমিত হয়ে মারা গেছেন ৭৪ জন। বর্তমানে করোনার রোগী রয়েছেন ৮০৮ জন। এর মধ্যে ৩৬ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। বাকিরা চিকিৎসা নিচ্ছেন বাড়িতে।
টাঙ্গাইলে ৯ মৃত্যুর ৬ জনই উপসর্গ নিয়ে : টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে ৩ জন করোনা শনাক্ত ও ৬ জনের করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়। গত ২৪ ঘণ্টায় ৩২টি নমুনা পরীক্ষা করে আরও ১০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। শতকরা হার ৩২ দশমিক ২৫ ভাগ। এ নিয়ে জেলায় মোট করোনা রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ৮ হাজার ২০৯ জন। এদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৪ হাজার ৭৫৫ জন।
রামেক হাসপাতালের ৮ মৃত্যু উপসর্গে : রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে মৃত্যু খানিকটা কমেছে। তবে এখনো দশের নিচে নামেনি এই সংখ্যা। শুক্রবার সকাল থেকে শনিবার সকালের মধ্যে এখানে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত ১৩ জনের মধ্যে ৫ জনের করোনা পজিটিভ ছিল। ৮ জন ভর্তি ছিলেন করোনার উপসর্গ নিয়ে।
ময়মনসিংহ মেডিকেলে ৯ মৃত্যুর ৭ জনই উপসর্গে : ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে আরও ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে ২ জন করোনা আক্রান্ত হয়ে এবং ৭ জন করোনা উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৩৬৬ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৭২ জনের করোনার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। জেলায় শনাক্তের হার ১৯ দশমিক ৬৭ শতাংশ।
যশোরে করোনা ও উপসর্গে ১৪ মৃত্যু : যশোরে শুক্রবার সকাল থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত করোনায় ও করোনা উপসর্গে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে করোনায় মৃত্যু হয়েছে ৮ জনের। বাকি ৬ জনের মৃত্যু উপসর্গ নিয়ে। যশোর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায় মো. আখতারুজ্জামান জানিয়েছেন, হাসপাতালে যাদের আনা হচ্ছে তাদের খুবই মুমূর্ষু অবস্থা থাকছে। ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যেই তাদের মৃত্যু হচ্ছে। এ অবস্থায় গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা উপসর্গে মৃত্যু হয়েছে ৬ জনের এবং করোনা আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন ৮ জন।
বাগেরহাটে ৪ মৃত্যুর ৩ জনই উপসর্গ নিয়ে : বাগেরহাটে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনার উপসর্গ ও আক্রান্ত হয়ে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। বাগেরহাট সদরের কভিড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় করোনা উপসর্গ নিয়ে দুজন এবং আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যু হয়। অন্যদিকে মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন একজনের মৃত্যু হয়েছে। এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৫ জনের শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। ৪৭ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১৫ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। গত ২৪ ঘণ্টায় সংক্রমণের হার ৩২ শতাংশ।
বরিশালে ৯ মৃত্যুর ৭ জনই উপসর্গে : গত পাঁচ দিন বরিশাল বিভাগে সংক্রমণের হার ঊর্ধ্বমুখী থাকার পর শনিবার এই সংখ্যাটা কিছুটা কমেছে। তবে বেড়েছে মৃত্যু। এই বিভাগটিতে মৃত্যু হয়েছে ৯ জনের। এর মধ্যে ২ জন করোনা পজিটিভ ও ৭ জন উপসর্গ নিয়ে মারা যান। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত এবং উপসর্গ নিয়ে মারা গিয়েছিলেন ৭ জন।
