তিউনিসিয়া উপকূলে নৌকাডুবি

বাংলাদেশিসহ ৪৩ অভিবাসনপ্রত্যাশীর সলিলসমাধি!

আপডেট : ০৪ জুলাই ২০২১, ০১:৪৩ এএম

লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালি যাওয়ার চেষ্টাকালে তিউনিসিয়া উপকূলে জাহাজ ডুবে বাংলাদেশিসহ ৪৩ অভিবাসনপ্রত্যাশীর সলিলসমাধি হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তিউনিসিয়ার কোস্ট গার্ড উপকূলে একটি বিধ্বস্ত নৌকা থেকে অন্য ৮৪ জনকে উদ্ধার করেছে।

গতকাল শনিবার তিউনিসীয় রেড ক্রিসেন্টের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, লিবিয়ার উত্তর-পশ্চিম উপকূলের জুওয়ারা থেকে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জাহাজটি রওনা হয়েছিল। এতে মিসর, সুদান ও ইরিত্রিয়ার অভিবাসন প্রত্যাশীরাও ছিলেন। সংবাদমাধ্যমটি বলছে, সম্প্রতি আবহাওয়ার উন্নতি হওয়ায় তিউনিসিয়া ও লিবিয়া থেকে সাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা বেড়ে গেছে। এর মধ্যে তিউনিসিয়া উপকূলে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের বহনকারী আরও কয়েকটি জাহাজডুবির ঘটনা ঘটেছে।

রেড ক্রিসেন্টের কর্মকর্তা মোঙ্গি স্লিম জানান, গত ২৮ ও ২৯ জুন তারা লিবিয়ার জুয়ারা উপকূল দিয়ে অবৈধভাবে ইতালি পৌঁছাতে ভূমধ্যসাগরে যাত্রা করেছিলেন। লিবিয়ার জুওয়ারা থেকে ইউরোপের পথে রওনা হওয়া জাহাজটির ৮৪ অভিবাসীকে উদ্ধার করেছে নৌবাহিনী আর আরও ৪৩ জন ডুবে গেছেন।

তারা জানিয়েছেন, গত ২৮ ও ২৯ জুন তারা লিবিয়ার জুয়ারা উপকূল দিয়ে অবৈধভাবে ইতালি পৌঁছাতে ভূমধ্যসাগরে যাত্রা করেছিলেন। উদ্ধার ব্যক্তিদের জারজিসে নিয়ে কোয়ারেন্টাইনে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) তথ্য অনুযায়ী, এ বছরের প্রথম ছয় মাসে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে বিভিন্ন দেশের ৩৫ হাজারের বেশি মানুষ ইতালি, গ্রিস, স্পেন, সাইপ্রাস ও মাল্টায় পৌঁছেছে। ইতালি যেতে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপগামী অভিবাসীদের ৬০ শতাংশের বেশি লিবিয়া থেকে যাত্রা করেন।

ইউরোপে প্রবেশের অন্যতম প্রধান রুট ইতালি। গত কয়েক বছর ধরে দেশটিতে হাজির হওয়া অভিবাসনপ্রত্যাশীদের সংখ্যা কমে এলেও ২০২১ সালে আবার তা বেড়ে গেছে। ইউএনএইচসিআর জানায়, চলতি বছর ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে ৮২৩ জন মারা গেছেন। এর মধ্যে এপ্রিলে তিউনিসিয়ার উপকূলে এক নৌকাডুবিতে ৪০ জনের বেশি মানুষ ভূমধ্যসাগরে ডুবে মারা যান। আর মার্চে মারা যান ৩৯ জন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত