ছোট সাব্বির নামে পরিচিত সাব্বির আহমেদ শ্যাম বেনেগালের ‘বঙ্গবন্ধু’ বায়োপিকে তোফায়েল আহমেদ চরিত্রে অভিনয় করছেন। এ ছাড়া নিয়মিত কাজ করছেন ছোটপর্দায়। তার সঙ্গে কথা বলেছেন রণ
বঙ্গবন্ধুর বায়োপিকে...
শ্যাম বেনেগালের মতো প্রখ্যাত বলিউড নির্মাতার নির্দেশনায় জাতির জনকের বায়োপিকে কাজ করাটাই ভীষণ গৌরবের বিষয়। কিন্তু আমি ভাগ্যবান যে, তোফায়েল আহমেদের মতো বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদের চরিত্রে অভিনয় করার সুযোগ পেয়েছি। এই ছবিতে আমাকে তার ২৫ থেকে ৩৩ বছর বয়সী চরিত্রে তাকে দেখা যাবে, যখন তিনি ছিলেন ছাত্রনেতা। এরই মধ্যে ভারতের মুম্বাইয়ে ছবিটির শ্যুটিংয়ে অংশ নিয়েছি। ফজলুর রহমান বাবু ভাই আর আমি পাশাপাশি রুমে ছিলাম সেখানে। তার সঙ্গেই বেশি সময় কাটত। অনেক কিছু শিখেছি তার থেকে। আর বলিউডের টিমের সঙ্গে কাজ করাটাও আমার কাছে অন্যরকম শিক্ষণীয় অভিজ্ঞতা। আরও কিছু কাজ বাকি আছে। আশা করছি ছবিটি দর্শকের খুব ভালো লাগবে।
শুরুর কথা...
বঙ্গবন্ধুর বায়োপিক হচ্ছে বড় আয়োজনে এটা জানার পরই একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে আমার কাজ করার ইচ্ছা করছিল। কিন্তু কারা এর সঙ্গে জড়িত, কার সঙ্গে যোগাযোগ করব কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। বিটিভির প্রযোজক ফজলে আযিম জুয়েল এই ছবির কাস্টিং-এর সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি আমাকে একদিন ফোন করে কিছু ছবি পাঠাতে বলেন। এরপর একদিন ফোন করে বলেন, বিটিভিতে অডিশন দিতে। গিয়ে বাংলাদেশের অনেকের সঙ্গে শ্যাম বেনেগালের কাস্টিং ডিরেক্টর শ্যাম রাওয়াতের সামনে অডিশন দিই। এর এক মাস আবার এফডিসিতে অডিশন হয়। সেখানে পরিচালক উপস্থিত ছিলেন। তখন আমাকে শেখ জামালের চরিত্রে ভাবা হচ্ছিল। আমি বলেছিলাম, চরিত্র অনুযায়ী নিজেকে প্রস্তুত করার সময় যেহেতু আছে, আমি পারব। কিন্তু এরপর যখন সরকারি প্রজ্ঞাপন আসে সেখানে গুরুত্বপূর্ণ কোনো চরিত্রে নিজের নাম দেখতে পাইনি। এজন্য এই ছবি নিয়ে কোনো কথাই বলিনি। তবে মনে মনে ভাবছিলাম, আমি হয়তো সুপারস্টার হতে পারব পরিশ্রম করলে, কিন্তু এই ছবিতে আর সুযোগ পাব না। তাই একটা দৃশ্যে হলেও কাজ করব। পরে একদিন এফডিসি থেকে ফোন করে বলা হলো, আমি তোফায়েল আহমেদের চরিত্রটি করছি। প্রজ্ঞাপনে প্রিন্টিং মিসটেকের কারণে আমি বুঝতে পারিনি কোন চরিত্রে আমাকে ভাবা হয়েছে। তাছাড়া অনেক শিল্পী শেষ পর্যন্ত পরিবর্তনও হয়েছেন। এমন অনেকে কাজ করেছেন যাদের আমি অন্তত অডিশন কিংবা শুরুর দিকে দেখিওনি।
চরিত্রায়ণ...
আমার সুবিধা হলো, তোফায়েল আহমেদ এখনো আমাদের মাঝে আছেন। তার সঙ্গে একাধিকবার দেখা করেছি। সেই সময় সম্পর্কে জেনেছি। একদিন শ্যুটিংয়ে একটা বিষয় নিয়ে ঝামেলা হচ্ছিল। আমি সরাসরি তাকে হোয়াটসঅ্যাপে কল করি। তিনি সঙ্গে সঙ্গে ফোন রিসিভ করেন। আমি জানতে চাই, যখন আপনি সোহরাওয়ার্দীতে বিপুল সংখ্যক মানুষের সামনে শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি দিলেন তখন আপনার বয়স কত? তিনি কম্পিউটারের মতো বলে দিলেন, সেটি ১৯৬৯-এর ফেব্রুয়ারি। আমার বয়স তখন ২৫ বছর ৪ মাস। তার এই সাপোর্টের কথা ভুলব না।
নতুন কাজ...
গত ২০ জুন বাবা দিবসেই প্রথম সন্তানের (কণ্যা) বাবা হয়েছি। তাই কিছু দিন কাজ করিনি। এছাড়া লকডাউনের জন্য বেশকিছু কাজ পিছিয়ে গেছে। তার পরও কিছু কাজ শেষ করেছি। এরমধ্যে রিফাত সিদ্দিকীর ‘চিরকুমারী সংঘ’ ধারাবাহিকটি আগামী ১৬ জুলাই থেকে চ্যানেল নাইনে প্রচার শুরু হবে। এটিএন বাংলায় চলছে মুরাদ পারভেজের ধারাবাহিক ‘স্মৃতির আলপনা আঁকি’। সম্প্রতি খন্ড নাটক করেছি এসকে শুভর ‘সেকেন্ড হ্যান্ড জামাই’, রায়হান পিয়ালের ‘আমার ভালোবাসা’, অপূর্ব আমিনের ‘সব বাবার বড় বাবা’ ও হারুন রুশোর একটি সরকারি প্রজেক্ট। আগামীকাল নাসিরুদ্দিন মাসুদের একটি খ- নাটকের শ্যুটিং করব।
