করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় সরকারের ঘোষিত লকডাউনের ৪র্থ দিনে রাস্তায় মানুষ ও যানবাহনের সংখ্যা বেড়েছে। এমনকি অলিগলিতে মানুষের জটলাও বেড়েছে। পাশাপাশি মামলার সংখ্যা ও গ্রেপ্তারের সংখ্যা বাড়ছে। গতকাল রবিবার ঢাকায় ৬১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভ্রামামাণ আদালত ১৬১ জনকে ৫৪ হাজার ৪৫০ টাকা ও ৪৯৬টি যানবাহনকে ১২ লাখ ৮১ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, ঢাকার বিভিন্নস্থানে ব্যক্তিগত প্রাইভেট কার চলাচল করেছে বেশি। আবার ঢাকার বাইরে ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে যেতেও দেখা গেছে। কিছু কিছু স্থানে যানবাহনের জটলা সৃষ্টি হয়েছে। ঢাকার বাইরে যাওয়ার তল্লাশি চৌকিগুলোতে যানবাহন ঠেকানো ও তল্লাশি করতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে বেগ পোহাতে হয়েছে। সড়কে সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও র্যাব সদস্যরা টহল দিয়েছেন। তবে অলিগলিতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর টহল চোখে পড়েনি।
সংশ্লিষ্টরা দেশ রূপান্তরকে জানান, ঢাকাসহ সারা দেশই করোনাভাইরাসের সংক্রমণে ভয়ংকর রূপ ধারণ করেছে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় ও জেলা হাসপাতালগুলোতে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে গত ২৮ জুন থেকে সারা দেশে ‘আংশিক লকডাউন’ শুরু হয়। পরে ‘কঠোর লকডাউন’ শুরু হয় ১ জুলাই থেকে। চলতি বছরের বিভিন্ন সময়ে ঘোষিত কয়েক দফা বিধিনিষেধের মতো এবার ‘লকডাউন’ বাস্তবায়নে শিথিলতা দেখাচ্ছে না পুলিশ। ইতিমধ্যে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, বিনা প্রয়োজনে কেউ বাইরে বের হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমনকি ২৬৯ ধারায় গ্রেপ্তার করা হবে। তাছাড়া লকডাউন আরও কঠোর করতে প্রতিদিনই পুলিশ সদর দপ্তর, সবকটি মেট্রোপলিটন পুলিশ, রেঞ্জ ও জেলার এসপিসহ পুলিশের অন্য ইউনিটগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠক করছেন।
লকডাউনে জরুরি প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পরিচয়পত্র দেখিয়ে গন্তব্যে যেতে পারছেন। ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক কাজে ব্যক্তিগত গাড়ি ও মাইক্রোবাসে চড়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় যাওয়ার জন্য বের হয়েছেন অনেকে। বিধিনিষেধের আওতামুক্ত ব্যক্তি ও যারা যৌক্তিক কারণ বলতে পারছেন, তাদেরই ঢাকা ছাড়তে দেওয়া হচ্ছে। অন্যদের গাবতলী, সায়েদাবাদ ও আব্দুল্লাপুর চেকপোস্ট থেকে ফিরিয়ে দিচ্ছে পুলিশ। আর যাদের বের হওয়ার কারণ যৌক্তিক মনে হচ্ছে না, তাদের বিরুদ্ধে সড়ক পরিবহন আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ঢাকার একাধিক স্থানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছে পুলিশ ও র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা। তৎপর রয়েছে ঢাকা জেলা প্রশাসনও।
পুলিশের এক কর্মকর্তা গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, জরুরি সেবা ছাড়া অন্যসব সরকারি-বেসরকারি অফিস বন্ধ রাখার কথা বলেছে সরকার। তবে এদিন সড়কে যান চলাচল গত তিন দিনের তুলনায় বেশি দেখা গেছে। ব্যক্তিগত গাড়ির ছিল দীর্ঘ সারি। শাটডাউনের বিধিনিষেধ কিংবা বৃষ্টি উপেক্ষা করে যারা সড়কে বেরিয়েছেন তারা জরুরি কাজেই বের হচ্ছেন বলে দাবি করছেন। অযৌক্তিক কারণে অনেকে বের হয়েছে। তাদের কাউকে কাউকে জরিমানা করা হয়েছে। আবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের প্রতিটি সদস্য কঠোর অবস্থানে আছে। প্রতিটি গাড়ি থামিয়ে সেখানে জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে বের হওয়ার কারণ। তাছাড়া র্যাব, বিজিবি, আনসার, কোস্ট গার্ড। পাশাপাশি সারা দেশেই স্বাস্থ্যবিধি মানাতে কঠোর হয় সেনাবাহিনী।
মিরপুর দারুস সালাম জোনের (ট্রাফিক) সহকারী কমিশনার ইত্তেখায়রুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, সড়কে যান চলাচল বেড়েছে। সকাল থেকেই ব্যক্তিগত ও অফিসিয়াল কাজে ঢাকার বাইরে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ঢাকার বাইরে ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে যেতে চাওয়া মানুষদের একটা বড় অংশ বিভিন্ন কারখানায় কাজ করেন।
তিনি আরও বলেন, বিধিনিষেধের মধ্যেও যাদের চলাচলের অনুমতি আছে, তাদের আমরা পার করে দিচ্ছে। তাছাড়া ব্যক্তিগত কাজেও অনেকে ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জেলায় যেতে চাচ্ছেন, তাদের আমরা যেতে না দিয়ে ঢাকায় ফিরিয়ে দিচ্ছি। যারা বের হওয়ার যৌক্তিক কারণ দেখাতে পারছেন না, তাদের বিরুদ্ধে সড়ক পরিবহন আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অনেক গাড়ির চালকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
পুলিশের পাশাপাশি র্যাব, সেনাবাহিনী ও বিজিবির টহল রয়েছে। ডিএমপির এডিসি (জনসংযোগ) ইফতেখায়রুল ইসলাম জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় বিনা প্রয়োজনে রাস্তায় বের হওয়ায় ৬১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১৬১ জনকে ৫৪ হাজার ৪৫০ টাকা ও ৪৯৬টি যানবাহনকে ১২ লাখ ৮১ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
