বাংলাদেশের তরুণ এক ফ্রিল্যান্সারকে নিয়ে তুমুল আলোচনা চলছে নিউজিল্যান্ডে। দেশটির এক নারীকে অনলাইন থেকে ‘দুষ্প্রাপ্য’ ‘ম্যানেজ আইসোলেশন অ্যান্ড কোয়ারেন্টিন-এমআইকিউ’ নামের ভ্রমণ ভাউচার সংগ্রহ করে দিয়েছেন তিনি।
এই মুহূর্তে নিউজিল্যান্ডে ভ্রমণ করতে চাইলে কিংবা দেশটি থেকে অন্য দেশে যেতে চাইলে সরকারি ওয়েবসাইট থেকে বিশেষ এই ভাউচার নিতে হচ্ছে। নিউজিল্যান্ড সরকার যার নাম দিয়েছে ম্যানেজ আইসোলেশন অ্যান্ড কোয়ারেন্টিন বা এমআইকিউ। এই নামে একটি ওয়েবসাইট চালু হয়েছে। অনলাইনে সেখান থেকেই ভাউচার নিতে হচ্ছে।
ওই ভাউচার কিউইদের কাছে রীতিমতো ‘সোনার হরিণে’ পরিণত হয়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা চেষ্টা করেও সেটি পাচ্ছেন না অনেকে।
নিউজিল্যান্ডের সবচেয়ে বড় মিডিয়া কোম্পানি স্ট্যাফ লিমিটেডের মালিকানাধীন স্ট্যাফ.কো.এনজেডের একটি প্রতিবেদনে সোমবার বলা হয়েছে, বটের (এক ধরনের স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যার অ্যাপ্লিকেশন) মাধ্যমে কিউই নাগরিকেরা এই ভাউচার পাওয়ার চেষ্টা করছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডেভিড আইজ্যাকস নামের এক কিউই নাগরিক সিঙ্গাপুর থেকে বড়দিনের ছুটিতে নিউজিল্যান্ডে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। কিন্তু কিছুতেই ভাউচার পাচ্ছেন না। তখন তাকে অনেকেই ওই বাংলাদেশি তরুণের সাহায্য নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
দেশটির আরও কয়েকটি প্রভাবশালী গণমাধ্যমে এ বিষয়ে খবর প্রকাশিত হয়েছে।
প্রতিবেদনগুলোতে এমন তথ্য দেখার পর ওই ফ্রিল্যান্সারের খোঁজ করে দেশ রূপান্তর। এই প্রতিবেদক জানতে পেরেছেন, অকল্যান্ডের আম্বর কসবে নামের এক নারী অনলাইন মার্কেটপ্লেস ফাইভারে বাংলাদেশি ফ্রিল্যান্সারের খোঁজ পান। টানা পাঁচ দিন চেষ্টা করেও ভাউচার না পেয়ে তিনি ফাইভারে বিজ্ঞাপন দেন।
ফেইসবুক মেসেজে তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে অন্য সবার মতো আমিও চেষ্টা করেছি সংগ্রহ করার। রিফ্রেশ করতে করতে ক্লান্ত হয়ে যাই। রাত তিনটায় উঠেও চেষ্টা করেছি।’
‘তখন ফাইভারে নোটিশ দেই। ৪০ জন সাড়া দেন। এক বাংলাদেশি আমাকে এটি ম্যানেজ করে দেন।’
আম্বর কসবে বিনিময়ে ১০ হাজার টাকা দেন ওই তরুণকে।
কসবে সেপ্টেম্বরে মেয়ের চিকিৎসার জন্য পানামা যাবেন। তার মেয়ের যে সমস্যা, তার চিকিৎসা নিউজিল্যান্ডে নেই। ওদিকে অক্টোবর পর্যন্ত ভাউচার পাওয়া দুষ্কর ছিল।
‘আট বছর বয়সী মেয়েকে নিয়ে আমাকে পানামা যেতেই হবে। কিন্তু যে পদ্ধতিতে এমআইকিউ ভাউচার দেয়া হচ্ছে তা জটিল। বিব্রতকর।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলাদেশি তরুণ এই প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, ৩০ ঘণ্টা চেষ্টা করে তিনি ভাউচারটি সংগ্রহ করতে সক্ষম হন! তার দাবি, কাজটি তিনি ম্যানুয়ালি করেছেন। কোনো ‘বট’ ব্যবহার করেননি।
ওই তরুণ এ বিষয়ে নিজের ফেইসবুকে একটি বিজ্ঞাপনও দিয়েছিলেন। এরপর অসংখ্য কিউই নাগরিক তার পেছনে ঘুরতে থাকেন। শুরু হয় সমালোচনা। পরে বাধ্য হয়ে পোস্টটি তিনি ডিলিট করে দেন।
একপর্যায়ে নিউজিল্যান্ড সরকার তাদের নাগরিকদের সতর্ক করে বিবৃতি দিয়েছে। এভাবে ভাউচার সংগ্রহ না করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
নিউজিল্যান্ডের আরেকটি গণমাধ্যমের পুরোনো প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, কোডিংয়ের মাধ্যমে বিশেষ ‘বট’ তৈরি করে সেই জানুয়ারি থেকে এভাবে ভাউচার সংগ্রহ শুরু হয় ওয়েবসাইটটি থেকে।
‘বট’ মূলত বিশেষ কাজের জন্য বিশেষ ধরনের প্রোগ্রামে ব্যবহার করা হয়। কিছু ‘বট’ নিজে থেকেই কাজ করে আবার কিছু ‘বট’ কাজ করে যখন কেউ ইনপুট ব্যবহার করে। কিছু ম্যালিসিয়াস ‘বট’ আছে যা কম্পিউটার হ্যাকও করতে পারে।
