ফেইসবুকে মন্তব্য করা নিয়ে সংঘর্ষ কলেজছাত্র খুন

আপডেট : ০৬ জুলাই ২০২১, ০২:০০ এএম

ময়মনসিংহের ভালুকায় ফেইসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে এক কলেজছাত্র নিহত হয়েছেন। তার নাম সাঈম খান (১৮)। ওই সংঘর্ষে আহত হয়েছেন আরও পাঁচজন। গত রবিবার রাতে মেহেরাবাড়ি পশ্চিমপাড়া অ্যাপারেল চৌরাস্তায় সংঘর্ষে আহত হওয়ার পর ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল সোমবার সকালে মারা যান সাঈম খান।

এদিকে একই দিন রাতে জেলার গফরগাঁওয়ে মতিউর রহমান মোহন (৩০) নামে এক যুবককে কুপিয়ে এবং বগুড়া শহরে জোবায়ের হাসান (২০) নামে আরেক যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বিস্তারিত দেশ রূপান্তরের সংশ্লিষ্ট জেলা প্রতিনিধি ও উপজেলা সংবাদদাতাদের পাঠানো খবরে।

ভালুকার সংঘর্ষে নিহত সাঈম খান হবিরবাড়ি গ্রামের সিডস্টোর বাজার এলাকার নাজিম উদ্দিন খানের ছেলে এবং শ্রীপুর আব্দুল আউয়াল ডিগ্রি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন।

নিহত সাঈমের পরিবারের সদস্যরা এবং গ্রামের একাধিক বাসিন্দা জানান, গত শনিবার বিকেলে মেহেরাবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা এক কিশোর একই গ্রামের দুই কিশোর এবং মনির নামে এক তরুণকে জড়িয়ে ফেইসবুকে ‘নেশাখুর’ মন্তব্য করে একটি স্ট্যাটাস দেন। এর জেরে পরদিন রবিবার সন্ধ্যায় ফেইসবুকে পোস্ট দেওয়া ওই কিশোরের ‘বিচার’ করার জন্য মনির মোবাইল ফোনে কল করে নিহত সাঈম খানসহ ৭-৮ জনকে ডেকে আনেন। এ সময় দুপক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষ বেধে যায়। সংঘর্ষে সাঈম খান ও মিরাজ আহত হন। তাদের উদ্ধার করে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সাঈমকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে গতকাল সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাঈমের মৃত্যু হয়।

সাঈম খানের চাচা আফাজ উদ্দিন খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমার ভাতিজাকে মোবাইলে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে খুন করা হয়েছে।’

আর আহত মিরাজের বড় বোন সুইটি আক্তার বলেন, ‘রবিবার দুপুরে দুজন অপরিচিত ছেলে বাড়ি এসে আমার ভাইকে মারধর করে চলে যায়। রাতে এ ব্যাপারে সালিশ হলে সেখানেও মিরাজকে মারধর করলে আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ভালুকা সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করি।’

ভালুকা মডেল থানার ওসি মাহমুদুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ফেইসবুকে মন্তব্য করাকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’

বগুড়ায় ছুরিকাঘাতে যুবক খুন : বগুড়ায় পাল্টাপাল্টি ছুরিকাঘাতে জোবায়ের হাসান (২০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় ছুরিকাঘাতে আহত সাব্বির হোসেন (২০) নামে আরেক যুবক বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। গত রবিবার রাতে বগুড়া শহরের মালগ্রাম দক্ষিণপাড়ায় পাল্টাপাল্টি ওই ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটে।

নিহত জোবায়ের হাসান মালগ্রাম দক্ষিণপাড়ার টুলু মিয়ার ছেলে।

এলাকাবাসী জানান, গত রবিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে মালগ্রাম দক্ষিণপাড়ায় সাবেক মেম্বার বাদশা মিয়ার বাড়ির সামনে সাব্বির হোসেনকে ছুরিকাঘাত করে নিহত জোবায়ের ও তার সহযোগীরা। এর জেরে রাত ১১টার দিকে সাব্বিরের লোকজন জোবায়েরকে এলাকায় পেয়ে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে। পরে তাকে উদ্ধার করে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ১২টার দিকে জোবায়ের মারা যান।

বগুড়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সাব্বির ও জোবায়েরের মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ ছিল। সেই বিরোধের জের ধরেই ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটে। রাতেই পুলিশ ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চারজনকে আটক করেছে।’

গফরগাঁওয়ে যুবককে কুপিয়ে হত্যা : ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে মতিউর রহমান মোহন (৩০) নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গত রবিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে রাওনা ইউনিয়নের শিবগঞ্জ বাজারসংলগ্ন যাত্রীছাউনির নিচে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মোহন পাঁচুয়া ডাকাতপাড়া গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে।

নিহতের পরিবারের লোকজন জানান, মোহনকে বিকেল ৪টার দিকে ঘোপাঘাট গ্রামের মো. কাঞ্চন মিয়া বাড়ি থেকে ডেকে মোটরসাইকেলে করে শিবগঞ্জ বাজারে নিয়ে যায়। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তাকে কুপিয়ে আহত করে দুর্বৃত্তরা। লকডাউনের কারণে ঘটনার সময় শিবগঞ্জ বাজার এলাকা জনমানবশূন্য ছিল। খবর পেয়ে পুলিশ মোহনকে উদ্ধার করে গফরগাঁও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক সাবরিন হাসান জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই মোহনের মৃত্যু হয়েছে।

গফরগাঁও থানার ওসি অনুকূল সরকার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডের কারণ এখনো জানা যায়নি এবং দুর্বৃত্তদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কাঞ্চন নামে এক গ্রাম পুলিশকে আটক করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত