গ্রামের মানুষের অসচেতনতার কারণে দেশে করোনা সংক্রমণ বাড়ছে বলে মনে করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। অধিদপ্তরের তথ্যমতে, সারা দেশে হাসপাতালগুলোয় যত করোনার রোগী, তার ৫০ শতাংশের বেশি গ্রাম থেকে আসা। তারা এমন সময়ে আসছেন, যখন পরিস্থিতি খুব জটিল এবং চিকিৎসা দিয়েও বাঁচানো যাচ্ছে না। গ্রামের মানুষের কারণে মৃত্যু বাড়ছে।
এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম বলেন, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে যেসব হাসপাতাল আছে, সেখানে চিকিৎসা নেওয়া গ্রামের মানুষের কারণে রোগী ও মৃত্যু বাড়ছে। করোনাভাইরাসের ডেল্টা ধরনের সামাজিক বিস্তার ঘটায় কভিড ছড়িয়ে পড়েছে গ্রামপর্যায়ে; হাসপাতালে এখন যে রোগীরা আসছেন, তাদের অর্ধেকই গ্রামের। এখন যে সংক্রমণ হচ্ছে তা কমিউনিটিতে ছড়িয়ে গেছে। সংক্রমণ গ্রামের লোকজনের মধ্যে বেশি হচ্ছে। আমাদের কাছে যে হিসাব, তাতে দেখা গেছে ৫০ শতাংশের বেশি রোগী গ্রাম থেকে আসছে। বর্ষা মৌসুম চলায় করোনাভাইরাস আক্রান্ত হলেও মানুষ একে জ্বর, সর্দি-কাশি ভাবছেন। সে কারণে হাসপাতালে আসছে কম। সময়মতো চিকিৎসার অভাবে মৃত্যু বেশি হচ্ছে।
বেশি মৃত্যুর কারণ হিসেবে মহাপরিচালক বলেন, আমরা সবগুলো উপজেলায় কথা বলেছি। সবার পর্যবেক্ষণ একটাই, রোগীদের অনেকেই অক্সিজেন স্যাচুরেশন কমে ৪০-৫০-এ নেমে গেলে হাসপাতালে আসছেন। অক্সিজেন স্যাচুরেশন কমে গেলে আগেই ব্রেইন ড্যামেজ হয়ে যায়। এ ধরনের রোগীদের বাঁচানো খুব কঠিন হয়। গ্রামের রোগীরা অসতর্ক, গ্রামের বয়স্ক মানুষ হাসপাতালে আসেন অনেক পরে, এ কারণে মৃত্যুর হার বেশি হচ্ছে।
এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জনস্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষজ্ঞ কমিটির সদস্য ডা. আবু জামিল ফয়সাল গতকাল সোমবার রাতে দেশ রূপান্তরকে বলেন, আগে যেখানে করোনা রোগী শহরে ৭০-৮০ শতাংশ ছিল, এখন তা গ্রামে দেখা যাচ্ছে। গ্রামে সংক্রমণের হার ক্রমশ বেড়ে যাচ্ছে। গ্রামের মানুষ মনে করে বৃষ্টি বাদলের দিন সবারই জ্বর-কাশি হয়, এটা সেরে যাবে। তারা কোনোভাবেই করোনাকে গুরুত্ব দিচ্ছে না। জ্বর-কাশি দেখা দিলে করোনা টেস্ট করাচ্ছে না। অসচেতনতার অভাবে গ্রামে বেশি মানুষ করোনা আক্রান্ত হচ্ছে।
