ফল প্রকাশে দেরি: জানতে চাওয়ায় সাংবাদিককে ধমক অধ্যাপকের

আপডেট : ০৬ জুলাই ২০২১, ০৭:১৪ পিএম

‘তুমি কি ভাইস চ্যান্সেলর?’ সাংবাদিককে এমন প্রশ্ন করলেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. ফিরোজ আহমেদ। চূড়ান্ত পরীক্ষার ফলাফল দিতে বিলম্বের কারণ জানতে চাইলে তিনি এ প্রশ্ন করে বলেন, ‘আমার বিভাগ আমি বুঝব, আমার বিরুদ্ধে যা লিখার লিখে যাও’।

সংশ্লিষ্ট বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এ বিভাগের স্নাতকোত্তরের একটি চূড়ান্ত পরীক্ষার ফলাফল চার মাস ধরে আটকে আছে। ২০২০ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ওই পরীক্ষা করোনায় স্থগিত হলে পরবর্তীতে ২০২১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি সম্পন্ন হয়। ছয় কোর্সের এ পরীক্ষা শুরু হওয়ার ১৬ মাস পেরিয়ে গেলেও ফল প্রকাশ হয়নি। এর মাঝে একই বিভাগে চলতি বছর জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত স্নাতক শেষ সেমিস্টারের চূড়ান্ত পরীক্ষার ফল দুই সাপ্তাহে প্রকাশিত হয়।

বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা। ফল প্রকাশ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী জানান, ডিপার্টমেন্টের সদিচ্ছার অভাবেই ফল প্রকাশে দেরি হচ্ছে। এজন্য নানা ধরনের অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে তাদের। কেউ কেউ বিভিন্ন কোম্পানিতে চাকুরিরত। মাস্টার্সের রেজাল্ট দেখাতে না পারায় কোনো পদোন্নয়ন পাচ্ছে না তারা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগের বিষয়ে ওই ব্যাচের কোর্স কো-অর্ডিনেটর মাহিন রেজা বলেন, বিভাগের চেয়ারম্যান এসব ব্যাপারে জানেন।

জানতে চাইলে অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ও অধ্যাপক ড. ফিরোজ আহমেদ বলেন, ‘তুমি কি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর হইছো নাকি? তুমি কি বলবা আমাকে আমার টিচার ফোন করছে আমি জানি। কোন ডিপার্টমেন্ট কবে রেজাল্ট হইছে না হইছে এত কিছু তোমরা জানতে চাও কি শুরু হইছে এগুলা’?

ওই সাংবাদিক শিক্ষার্থীদের অভিযোগের কথা বললে উত্তরে এ অধ্যাপক আরো বলেন, ‘কোন শিক্ষার্থী অভিযোগ করেছে আমার ডিপার্টমেন্টের নাম বলো’।

সাংবাদিকের জানার অধিকার রয়েছে বললে এ শিক্ষক উত্তর দেন, ‘না তোমার জানার অধিকার নাই।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমার বিভাগের সেই শিক্ষার্থীরা অলরেডি থিসিস করতেছে, টিচাররা যেতে পারে না রেজাল্ট দিতে। তুমি দেখতেছ যে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ। প্রথম কজ হচ্ছে সরকার। তোমরা প্রত্যেকটা বিষয়ে নিয়ে এত বাড়াবাড়ি করতেছ কেন? আমি আমার ডিপার্টমেন্টের রেজাল্ট দিয়ে দেব। এটা আমার বিষয় আমি বুঝব, ঠিক আছে’?

তিনি বলেন, ‘পরবর্তী পরীক্ষা শুরুর আগে রিজাল্ট দিয়ে দেব। কে অভিযোগ করেছে সে লিখিত অভিযোগ আমাকে দেখাও। অভিযোগ করবে কারা! আমার ডিপার্টমেন্টের কোন ছাত্র তোমাদের মতো সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করবে এটা আমি মনে করি না’।

ফলাফল দিতে দীর্ঘ বিলম্ব নিয়মের মধ্যে পড়ে কি না জানতে চাইলে পরবর্তীতে ড. ফিরোজ আহমেদ বলেন, ‘পরীক্ষা কমিটির সভাপতি অন্য জায়গায় এবং শিক্ষকরা ডিপার্টমেন্টে যেতে না পারার কারণে মডারেশন করা যায়নি। লকডাউন উঠে গেলে ২/৩ দিনের মধ্যেই ঈদের আগে রেজাল্ট পাবলিশ করা হবে’।

এ ছাড়া এর মধ্যে অন্য ব্যাচের ফল কীভাবে প্রকাশ হয়েছে, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তোমাদের কাছে কে অভিযোগ করল? তুমি এত কথা বলছো কেন? আমার বিরুদ্ধে যা লিখার লিখ যাও’!

এ বিষয়ে সাংবাদিক খবর নেয়ার অধিকার রাখে উল্লেখ করে উপাচার্য ড. মো দিদার-উল-আলম বলেন, ‘সব শিক্ষার্থীর যেহেতু শিক্ষক অথবা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব নয়, এ ক্ষেত্রে ক্যাম্পাস সাংবাদিকদের মাধ্যমেই শিক্ষার্থীরা খোঁজ নিয়ে থাকে। সাংবাদিকরা খবর নিয়ে সবাইকে জানিয়ে দেয়’।

ড. ফিরোজের আচরণ নিয়ে জানালে উপাচার্য আরো বলেন, ‘সাংবাদিকের সঙ্গে তার এমন প্রতিক্রিয়া দেখানো ঠিক হয়নি। রেজাল্ট দিতে অসুবিধা কোথায় সেটা সুন্দর মতো বুঝিয়ে বললেই হতো। কেন রেজাল্ট দিতে দেরি হচ্ছে এবং এই শিক্ষক কেন এমন আচরণ করল বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দেখবে’।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত