করোনার সংক্রমণ রোধে দেশজুড়ে সরকার ঘোষিত ‘লকডাউনে’ কর্মহীনদের অনেকেই রাজধানী ছেড়েছেন। যারা রয়েছেন তাদের অনেকেই আবার খাদ্য সংকটে ভুগছেন। ‘লকডাউনে’ উপার্জন হারিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন অনেক নিম্ন আয়ের মানুষ। এ অবস্থায় রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে খোলাবাজারের ওএমএস পণ্যের চাহিদা বেড়েছে। শহরের মোড়ে মোড়ে ওএমএস পণ্য বিক্রির লাইনে নিম্ন আয়ের মানুষের ভিড় বাড়ছে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের আগেই পণ্য বিক্রি শেষ হয়ে যাওয়ায় দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে ক্রেতাদের। গত রবিবার দুপুরে রাজধানীর মধ্য বাসাবোর সবুজবাগ এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, লাইনে দাঁড়িয়ে পণ্য কিনছেন মানুষ। হঠাৎ মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হওয়ায় ডিলার বিক্রি বন্ধ করে দিলেও লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন শতাধিক নারী-পুরুষ।
লায়লা বেগম নামে লাইনে দাঁড়ানো এক নারী জানান, পাশের একটি বস্তিতে থাকেন। তার স্বামী সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক। লকডাউনে কাজ হারিয়েছেন। তিনি নিজেও বাসাবাড়িতে ঝিয়ের কাজ করেন। হঠাৎ করোনার বিস্তার বাড়ায় কাজে কিছুদিন আসতে নিষেধ করেছেন বাড়িওয়ালা। মেয়ে কুসুমকে নিয়ে এসেছেন লাইনে দাঁড়িয়ে চাল-আটা কিনতে। হঠাৎ মুষলধারে বৃষ্টিতে মা-মেয়ে দুজনই ভিজছেন। তিনি বলেন, ‘তাও যদি গতকালের মতো খালি হাতে ফিরতে না হয়।’ ওই সময় দেখা যায় মা লায়লা বেগম নিজের ওড়না দিয়ে মেয়ের মাথা ডেকে দিচ্ছেন। বৃষ্টির তীব্রতা বাড়লেও তারা লাইন ছেড়ে যায়নি। মা-মেয়ে দুজনই বৃষ্টিতে ভিজে জবুথবু। এক প্রশ্নের উত্তরে লায়লা বেগম বলেন, ‘লাইন ছেড়ে গেলে ওরা (অন্যরা) জায়গা দিব না। মেয়েটার জ্বর, তবুও আইছে আমার লগে। ওর বাপটা তো ঘরে বইয়াই রইছে। বলেন দেহি স্যার, এসব লকডাইন কি শুধু আমাগো গরিবের লাইগা।’
আছমা নামে মধ্যবয়সী এক নারী জানান, একটি কিন্ডারগার্টেনে পড়াতেন তিনি। প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হয়েছে এক বছর আগেই। টিউশনি করালেও এখন তাও বন্ধ। কিছু কমে পণ্য পাওয়ার আশায় দাঁড়িয়েছেন লাইনে। তিনি বলেন, ‘এত বড় লাইন, বুঝতে পারছি না, আজও পাব কি না।’
ওএমএস সংশ্লিষ্টরা বলছেন, লকডাউন শুরু হওয়ার পর থেকেই ওএমএসের ট্রাকে চাল বিক্রি বেড়েছে। নিম্ন আয়ের মানুষের ভিড় আগের তুলনায় বেড়েছে দ্বিগুণ।
খাদ্য অধিদপ্তর সূত্র বলছে, ওএমএসের দোকানে কিংবা ট্রাকে ৩০ টাকা কেজিতে চাল ও ১৮ টাকা কেজিতে খোলা আটা বিক্রি করা হয়। এসব কেন্দ্র থেকে একজন ক্রেতা সর্বোচ্চ পাঁচ কেজি চাল ও পাঁচ কেজি আটা নিতে পারেন। ঢাকা নগরীর ৯৪টি ওএমএস দোকান ও ১০টি ট্রাকে এসব চাল ও আটা ডিলারদের মাধ্যমে সরকার বিক্রি করছে।
ওএমএসের ডিলার জালাল উদ্দিন রাজ বলেন, ‘লকডাউনের আগে যতগুলো ট্রাকে নগরীর যেসব জায়গায় ট্রাক সেল করা হতো এখনো তাই হচ্ছে। চাহিদা বাড়লেও পরিমাণ বাড়েনি।’
