দ্বিতীয় অধ্যায় : স্কাউটিং, গার্ল গাইডিং ও বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি
সাধারণ প্রশ্ন
১. ড্রেসিং কী? কীভাবে ক্ষতস্থানের যত্ন নিতে হয়?
ভূমিকা
যেকোনো দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিকে দ্রুত সেবা দেওয়া জরুরি এবং দ্রুত আরোগ্য লাভ সবারই কাম্য।
ড্রেসিং
ক্ষতস্থানকে ঢেকে রাখার জন্য যে গজ, ব্যান্ডেজ, তুলা ব্যবহার করা হয়, তাকে ড্রেসিং বলে। ড্রেসিং করে ক্ষতস্থানকে বেঁধে রাখার জন্য যে সাদা কাপড়টি ব্যবহার করা হয়, তাকে ব্যান্ডেজ বলে।
ক্ষতস্থানের যত্ন
ছুরি, কাঁচি, দা, বঁটি, ব্লেড ইত্যাদিতে কেটে গিয়ে রক্তপাত হলে তাকে ক্ষত বলে। হাতুড়ি, ইট, পাথরে থেঁতলে গিয়ে রক্তপাত হলে তাকেও ক্ষত বলা হয়। জীবজন্তুর কামড়েও রক্তপাত হলে ক্ষতের সৃষ্টি হয়। নিম্নে ক্ষতস্থানের যত্ন নেওয়ার প্রক্রিয়ার বর্ণনা করা হলো :
১. প্রথমেই নিজের হাত জীবাণুমুক্ত করতে হবে।
২. ক্ষতস্থানে বরফ দিয়ে বা অন্য কোনো উপায়ে রক্ত বন্ধ করার চেষ্টা করতে হবে।
৩. রোগীকে নিশ্চলভাবে শুইয়ে রাখতে হবে। এতে রক্তপাত কম হয়।
৪. ক্ষতস্থানে কিছু থাকলে তা বের করতে হবে।
৫. বড় কিছু ঢুকে গেলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে হবে।
৬. ক্ষতস্থান জীবাণুনাশক ওষুধের সাহায্যে পরিষ্কার করে ড্রেসিং করতে হবে।
৭. ক্ষতের চারপাশ স্পিরিট বা ডেটল দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে।
৮. ক্ষতে কখনো হাত লাগাতে নেই।
উপসংহার
পরিশেষে আমরা বলতে পারি ক্ষতস্থানের বিশেষ যতœ নেওয়া উচিত, যেন দ্রুত ক্ষত ভালো হয়ে যায়। আমাদের লক্ষ রাখতে হবে একটা ক্ষত যেন আরেকটা ক্ষতের কারণ না হয়।
২. রেডক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট বলতে কী বোঝায়? আন্তর্জাতিক রেডক্রস ও রেড ক্রিসেন্টের মূলনীতিগুলো লেখো।
ভূমিকা
বিশ্বমানবতা যখন হুমকির মুখে পড়ে, বিপর্যয়ের মুখে পড়ে তখন মানবতা রক্ষায় এগিয়ে আসেন অনেক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান। রেডক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি তাদের মধ্যে অন্যতম একটি। রেড ক্রিসেন্টের জন্ম মানবসেবার মধ্য দিয়ে। রেড ক্রিসেন্টের মূলনীতিগুলো মানবসেবার লক্ষ্যে গৃহীত। তাই রেড ক্রিসেন্টের সদস্য হলে মানবসেবার সুযোগ পাওয়া যায়।
রেডক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট
রেডক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট আন্তর্জাতিক মানবতাবাদী সেবামূলক সংগঠন। এগুলো দুস্থ মানবতার সেবায় নিয়োজিত। বর্তমানে এই সংস্থাটি দুটি নামে বিভক্ত। মুসলিম বিশ্বে রেড ক্রিসেন্ট আর অন্যান্য দেশে রেডক্রস নামে পরিচিত। ১৮৬৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি এই আন্দোলন প্রতিষ্ঠিত হয়। এর সদর দপ্তর জেনেভা, সুইজারল্যান্ড। জিন হেনরি ডুনান্টের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য ৮ মে তার জন্মদিবসকে বিশ্ব রেডক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট দিবস হিসেবে পালন করা হয়।
আন্তর্জাতিক রেডক্রস ও রেড ক্রিসেন্টের মূলনীতি
১৯৬৫ সালে ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত রেডক্রস ও রেড ক্রিসেন্টের ২০তম আন্তর্জাতিক সম্মেলনে নিম্নলিখিত সাতটি মৌলিক নীতি গৃহীত হয়।
১. মানবতা : কোনো ধরনের ভেদাভেদ ছাড়া যুদ্ধক্ষেত্রে আহতদের সাহায্য করা।
২. পক্ষপাতহীনতা : এই আন্দোলন, জাতি, গোত্র, ধর্মীয় বিশ্বাস শ্রেণি বা নিরপেক্ষতার ভিত্তিতে বিপদাপন্ন ব্যক্তিকে সাহায্য করে।
৩. নিরপেক্ষতা : সবার আস্থা ও বিশ্বাস অর্জনের উদ্দেশ্যে এই আন্দোলন সংঘর্ষকালে কোনো পক্ষ অবলম্বন করে না।
৪. স্বাধীনতা : এই আন্দোলন স্বাধীন। মানবসেবামূলক কাজে নিজ নিজ দেশের আইনের অধীনে সরকারের সহায়ক হিসেবে কাজ করে।
৫. স্বেচ্ছাসেবা : একটি স্বেচ্ছাসেবামূলক ত্রাণ সংগঠন হিসেবে এই আন্দোলন কোনো ধরনের স্বার্থ বা লাভ অর্জনের উদ্দেশ্যে কাজ করে না।
৬. একতা : কোনো দেশে কেবল একটি মাত্র রেডক্রস বা রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি থাকবে। দেশের সর্বত্র এর মানবসেবামূলক কর্মকা- বিস্তৃত থাকবে।
৭. সর্বজনীনতা : সমমর্যাদাসম্পন্ন এবং পরস্পরকে সাহায্যের জন্য সমান দায়িত্ব ও কর্তব্যের অধিকারী জাতীয় সোসাইটিসমূহকে নিয়ে গঠিত আন্তর্জাতিক রেডক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট বিশ্বব্যাপী একটি সর্বজনীন আন্দোলন।
রেড ক্রিসেন্টের মূলনীতিগুলো মানবসেবার লক্ষ্যে গৃহীত। তাই রেড ক্রিসেন্টের সদস্য হলে মানবসেবার সুযোগ পাওয়া যায়।
উপসংহার
আমরা বলতে পারি রেডক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি বিশ্বব্যাপী একটি সর্বজনীন মানবতাবাদী আন্দোলন।
