বিপর্যয় বাঁচিয়েও সেঞ্চুরির আক্ষেপ লিটনের

আপডেট : ০৭ জুলাই ২০২১, ১১:৪২ পিএম

দুর্ভাগ্য লিটন দাশের। এত সুন্দর ইনিংসের এমন সমাপ্তি! লিটন যেদিন ছন্দে থাকেন তার প্রতিটি শটই যেন তুলির আঁচড়। সেই ছন্দটা কাল পেয়েছিলেন। শুরু করেন দারুণ দুই কভার ড্রাইভে। এরপর ক্রিকেটীয় স্ট্রোক প্লের সব উদাহরণ দিয়ে ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি খুব কাছে চলে যান। অথচ মাত্র ৫ রান দূরে থামতে হলো। বাংলাদেশকে খাদের কিনারা থেকে তুলে ক্যারিয়ার সেরা ৯৫ রানের টেস্ট ইনিংস খেলে ফাইন লেগে ধরা পড়েন লিটন। দল যখন ১০৯ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছে সে সময় ক্রিজে এসে ফেরেন ৭ উইকেটে ২৭০ রানে। জিম্বাবুয়ের সঙ্গে একমাত্র টেস্টের প্রথম দিন ৮৩ ওভারে ৮ উইকেটে ২৯৪ রানে থামে বাংলাদেশ। ১৬ মাস পর টেস্ট দলে সুযোগ পেয়েই হাফসেঞ্চুরি করা মাহমুদউল্লাহ ৫৪ রানে অপরাজিত। তার সঙ্গে ১৩ রানে আছেন তাসকিন আহমেদ।

একাদশে মেহেদী হাসান মিরাজ পর্যন্ত ৯ ব্যাটসম্যান। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এত ব্যাটসম্যান নিয়ে খেলা একরকম রক্ষণাত্মক মানসিকতা কি না সেটা বাংলাদেশ দলের টিম ম্যানেজমেন্টই বলতে পারবে। মাঠের খেলায় ৯ ব্যাটসম্যানের সুফল কিন্তু পাওয়া গেল না। সপ্তম উইকেটে লিটন ও মাহমুদউল্লাহর ১৩৮ রানের জুটিটি না থাকলে বিশাল বিপদেই পড়তে হতো বাংলাদেশকে।

দিনের শুরুটা বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য অশনি সংকেত। তামিম ইকবাল না থাকা যে টেস্টে বাংলাদেশের জন্য কতটা ক্ষতির তা টের পাওয়া গেল। ইনজুরির কারণে শেষ পর্যন্ত খেলতে না পারা অভিজ্ঞ এই ব্যাটসম্যানের বদলে দুই তরুণ সাইফ হাসান ও সাদমান ইসলাম ওপেন করেন। কিন্তু মুজারাবানির ৫ বলেই বোল্ড সাইফ। ক্যারিয়ারের ৮ ইনিংসে মাত্র তিনবার দু’অঙ্কের ঘরে রান করেছে এ ওপেনার। উইকেটে আসা শান্তও মাত্র ২ রান করে রিচার্ড নারাভার উঠতি বলটায় দ্বিতীয় সিøপে ধরা পড়েন। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১৬৩ রানের পর থেকে ব্যাটিং ভুলে যাওয়া শান্তর ইনিংস যথাক্রমে ০, ০, ২৬ ও ২। ৮ রানে ২ উইকেট হারানো দলকে প্রাথমিক ক্ষতি থেকে টেনে তোলেন অধিনায়ক মুমিনুল। ২৩ রান করা সাদমানকে নিয়ে ৬০ রানের জুটি গড়েন। দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম অবশ্য দুর্ভাগ্যের শিকার। মুজারাবানির বলে ১১ রান করে আম্পায়ারের ভুল সিদ্ধান্তে ফেরেন। এলবিডব্লিউ সিদ্ধান্তের রিভিউয়ে স্পষ্ট বল উইকেট মিস করছে। কিন্তু সাকিব আল হাসান মুশফিকের অভাব ঘোচাতে পারেননি। প্রস্তুতি ম্যাচের পুনরাবৃত্তি করতে ব্যর্থ সাকিব মাত্র ৫ বলে করেন ৩ রান। দল তখন ৫ উইকেটে ১০৯-এ।

বাংলাদেশের সংগ্রাম শুরু তখন থেকেই। বিদেশের মাটিতে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরির পথে এগোতে থাকা মুমিনুল অবশ্য ৫২ ও ৬০ রানে জীবন পেয়েও তা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন। ৭০ রানে নায়াউচি’র বলে পয়েন্টে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। এরপর জুটি বেঁধে বাংলাদেশকে ম্যাচে ফেরান লিটন-মাহমুদউল্লাহ। ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়াবার নার্ভাস নাইনটির শিকার হয়ে লিটন ফিরলেও মাহমুদউল্লাহ নিজের ৫০তম টেস্ট হাফসেঞ্চুরি তুলে অপরাজিত।

৪৮ রানে ৩ উইকেট নিয়ে জিম্বাবুয়ের সেরা বোলার সম্প্রতি মুলতান সুলতানদের হয়ে পিএসএল জিতে আসা মুজারাবানি। এছাড়া দিনের শেষে লিটন-মিরাজকে পরপর দুই বলে ফেরানো টিরিপানো নিয়েছেন ৩৬ রানে ২টি।  

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত