শরীয়তপুর সদর উপজেলায় সরকারি একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য ভবন নির্মাণের পর তা হস্তান্তরের আগেই বিভিন্ন অংশে দেখা দিয়েছে ফাটল। খায়ের চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য পাঁচ কক্ষের নবনির্মিত ওই ভবনটি ঠিকাদার বিদ্যালয় কর্র্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের আগেই ছাদ চুইয়ে পড়ছে পানি, মেঝেতে সৃষ্টি হয়েছে গর্তের। এছাড়া জানালা-দরজাসহ আরও বিভিন্ন ত্রুটি রয়েছে। যেকোনো সময় ভবনটি ধসে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে বিদ্যালয় কর্র্তৃপক্ষ। এমনকি খোদ নির্মাণকাজ বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সদর উপজেলা প্রকৌশলী কেএম রেজাউল করিমও ভবনটি পরিদর্শন করে কিছু ত্রুটি খুঁজে পাওয়ার কথা জানিয়েছেন।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শরীয়তপুর সদর উপজেলার আংগারিয়া ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডে ৯৯নং খায়েরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০১৩ সালের ১ জানুয়ারি বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ করা হয়। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতায় ২০১৮ সালে এলজিইডি ৬৪ লাখ ৩৩ হাজার ৮৪৮ টাকা ব্যয়ে খায়েরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য একটি নতুন ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করে। চারতলা ভবনটির দোতলার নির্মাণকাজ শেষ হয় ২০২০ সালে। স্কুল কর্র্তৃপক্ষকে পাঁচ কক্ষের ভবনটি বুঝিয়ে না দিতেই বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দেওয়ার পাশাপাশি মেঝেতে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টি হলেই ছাদ চুইয়ে নিচে পড়ছে পানি। এছাড়া জানালা-দরজাসহ বিভিন্ন ত্রুটি রয়েছে ভবনটিতে। মেসার্স নিয়াজ ট্রেডার্স নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ভবনটি নির্মাণ করে।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের ক্লাস বন্ধ রয়েছে। বিদ্যালয়ের নতুন ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ। শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরু হওয়ার আগে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান করা উচিত। নতুন ভবনটিতে ফাটলসহ বিভিন্ন সমস্যার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।’
সরেজমিন বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, নিচতলার পূর্বপাশের কক্ষটির কলাম ও মেঝেতে বড় বড় ফাটল। মেঝে দেবে যাচ্ছে। বৃষ্টি হলেই ছাদ চুইয়ে নিচে পানি পড়ে মেঝেতে জমে থাকছে। বেশিরভাগ জানালা বন্ধ করা যায় না এবং দরজায় নিম্নমানের কাঠ ব্যবহার করা হয়েছে। ফ্যানের কোনোটিতেই রেগুলেটর দেওয়া হয়নি, ফ্যান ও বৈদ্যুতিক তার নিম্নমানের। ভবনের দেয়ালের বিভিন্ন অংশেও অসংখ্য ফাটল দেখা গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, খায়েরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্তমানে শিক্ষার্থী রয়েছে ১০০ জন। শিক্ষক আছেন চারজন।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জিয়াসমিন আক্তার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘যে ঠিকাদার ভবনটি নির্মাণ করেছেন তিনি অত্যন্ত নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করেছেন। প্রাথমিক শিক্ষার একটি সেøাগান আছে “নিরাপদ পরিবেশে পাঠদান”। কিন্তু আমরা নিরাপদ পরিবেশে নেই, আমরা ঝুঁকিতে আছি। তাই ভবনটির সংস্কার প্রয়োজন।’
ভবন নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদার সোহেল খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কাজটি মূলত মেসার্স নিয়াজ ট্রেডার্সের নামে। সব বিষয় নিয়ে কি নিউজ করতে হয়! আমি অসুস্থ হয়ে বাসায় আছি। এ বিষয়ে পরে কথা বলব।’
এ ব্যাপারে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিদ্যালয়ের ভবনটি করেছে এলজিইডি। ভবনের বিভিন্ন অংশে ফাটল ধরেছে ও বৃষ্টি হলেই ছাদ চুইয়ে নিচে পানি পড়ছে বলে শুনেছি। আমি পরিদর্শনে যাব। পরে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষকে জানাব।’
খায়েরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন নির্মাণে দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এলজিইডির প্রকৌশলী কেএম রেজাউল করিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘২০১৮ সালে ওই বিদ্যালয়ের ভবনটির কাজ শুরু হয়। ২০২০ সালের জুনের আগে কাজটি শেষ হয়। ঠিকাদার এলজিইডিকে ভবনটি এখনো বুঝিয়ে দেয়নি। ত্রুটির কথা শুনে আমি বিদ্যালয় ভবনটি পরিদর্শন করেছি। জানালা, ছাদ, ফ্লোর ও দরজাসহ বিভিন্ন ত্রুটি রয়েছে ভবনটিতে। তাই ঠিকাদারকে ত্রুটিগুলো সমাধানের জন্য নোটিস দেওয়া হয়েছে।’
