দেশে করোনা রোগীর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ বাড়ছে। চলমান তৃতীয় ঢেউয়ে সংক্রমণ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। সে চাপ এসে পড়ছে রাজধানীর হাসপাতালগুলোতে। গত দুই সপ্তাহ ধরে ঢাকা শহরের সরকারি ও বেসরকারি কভিড হাসপাতাল ও কভিড ইউনিটে গত এপ্রিল-জুনের চেয়ে রোগী বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি। বিশেষ করে এই মুহূর্তে ঢাকার হাসপাতালগুলোতে যত রোগী, তাদের ৬০-৭০ শতাংশই বিভিন্ন জেলা ও গ্রাম থেকে আসা।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, গ্রামে চিকিৎসার সংকুলান না হওয়ায় রোগীরা ঢাকায় চলে আসছে। কখনো কখনো এসব রোগী সরাসরি চলে আসছে। এমনকি ভর্তির জন্য বিভিন্ন হাসপাতালে ঘুরতে ঘুরতে এখন জটিল রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। এসব হাসপাতালে ভর্তি ১৫ শতাংশ রোগীর অবস্থা খুবই জটিল।
এমন পরিস্থিতিতে গতকাল বৃহস্পতিবার দেশে করোনায় এযাবৎ কালের সর্বোচ্চ ১১ হাজার ৬৫১ রোগী শনাক্তের রেকর্ড হয়েছে। এর আগের দিন শনাক্তের রেকর্ড ছিল ১১ হাজার ১৬২ জন। এক দিনে ৪৮৯ রোগী বেড়েছে। এ নিয়ে দেশে মোট রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ৯ লাখ ৮৯ হাজার ২১৯ জন।
এমন পরিস্থিতিতে হাসপাতালগুলো খুবই ‘ক্রিটিক্যাল’ সময় পার করছে বলে হাসপাতাল পরিচালকরা জানিয়েছেন। তারা বলেন, এখনো পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যাচ্ছে। তবে এভাবে বাড়তে থাকলে এবং সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে, সামনে বিপদ হবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল) ডা. ফরিদ উদ্দিন মিয়া গতকাল রাতে দেশ রূপান্তরকে বলেন, এখনো পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যাচ্ছে। ঢাকায় যেসব হাসপাতাল আছে, সেগুলোতে ৩০ শতাংশ সিট খালি আছে। আইসিইউ অনেক জায়গায় খালি নেই। রোগী বেড়ে গেছে। ভালোই বেড়েছে। ভারতের ডেল্টা ধরনের কারণে রোগী বেড়ে গেছে। এখন ১১ হাজারের মতো আক্রান্ত হচ্ছে। যত আক্রান্ত হয় তার ১০-২০ শতাংশ হাসপাতালে ভর্তি হয়। যারা হাসপাতালে ভর্তি হয় তার ২ শতাংশ মৃত্যুবরণ করেন। দ্বিতীয় ঢেউয়ের শেষের দিকের অর্থাৎ এপ্রিল-জুনের তুলনায় এখন রোগী দ্বিগুণ বেড়েছে।
এই কর্মকর্তা আরও বলেন, এখনো কোনো সমস্যা হচ্ছে না। তবে এ রকম যদি বাড়তে থাকে, তবে চিন্তার বিষয়। ঢাকার বাইরে সাতক্ষীরা, খুলনা, যশোর, কুষ্টিয়া, রাজশাহী, নাটোর, নওগাঁ এসব এলাকায় পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। তারাও সামাল দিতে পারছে। সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে রোগী বেশি থাকলেও এখনো সেখানে সামাল দেওয়া যাচ্ছে।
রোগী দ্বিগুণ বেড়েছে : বেসরকারি হেল্থ অ্যান্ড হোপ হাসপাতালের প্রিভেন্টিভ মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, ‘গত এক সপ্তাহ ধরে হাসপাতালের সাধারণ ও নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) শয্যার কোনোটাই খালি নেই। এমনও হচ্ছে যে, একজন রোগীর ছুটি হবে ও বেড খালি হবে, সেই বেডের জন্য দুই থেকে চারটি অনুরোধ থাকে। একটা সময় ছিল, উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ যারা বেসরকারি হাসপাতালে কেবিন না হলে ভর্তি হতো না, তাদের এখন কেবিনের ভাবনা নেই, একটা বেড হলেই হয়। এই পর্যায়ে চলে গেছে। এই চেহারা আমরা আগে দেখিনি।’
এই চিকিৎসক আরও বলেন, ‘ইতিমধ্যেই অনেক হাসপাতাল কভিড চিকিৎসায় তাদের সামর্থ্য বাড়িয়েছে। আগে যে হাসপাতালে ১০ শয্যার কভিড ইউনিট ছিল, সেটা এখন ১০-২০ শয্যার হয়েছে। তারপরও বেড সংকট কাটছে না। গত এপ্রিল-জুনের তুলনায় এখন রোগী দ্বিগুণ হয়ে গেছে।’
এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি ভ্যাকসিনেটেড রোগী : ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, করোনার টিকা নেয়নি ও টিকা নিয়েছেন, উভয় ধরনের রোগীই ভর্তি হচ্ছে। তবে যারা টিকা নিয়েছে তাদের তীব্রতা কম। তাদের অক্সিজেনও কম লাগে। তবে টিকা নেওয়া আছে, কিন্তু নানা রোগে আক্রান্ত, তাদের ক্ষেত্রে তীব্রতা একটু বেশি হয়। টিকা নেওয়াদের মধ্যে যদি তীব্রতা থাকত, তা হলে মৃত্যুর সংখ্যা অনেক বেড়ে যেত। অর্থাৎ টিকা যারা নিয়েছে, তাদের মধ্যে মৃত্যু হার একেবারেই কম এবং আইসিইউতে যাওয়ার হারও অনেক কম।
এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি ভ্যাকসিনেটেড রোগী পাওয়া যাচ্ছে বলে জানান এই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। তিনি বলেন, ৪০-৫০ শতাংশ রোগী ভ্যাকসিনেটেড।
ঢাকার বাইরের রোগী ৬০-৭০ শতাংশ : শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. খলিলুর রহমান বলেন, রোগীর চাপ আগের চেয়ে দ্বিগুণ বেড়েছে। গত এক সপ্তাহ ধরে প্রতিদিনই ১০-২০ শতাংশ রোগী বাড়ছে। যেসব রোগী ভর্তি হচ্ছেন, তাদের অবস্থা খারাপ। রোগী ঢাকার না। সব রোগী ঢাকার বাইরের। তারা খারাপ অবস্থায় আসছে। এখন চাপ বাড়ছে কারণ দূরবর্তী জেলা থেকে রোগীরা এখানে চলে আসছে। ওখানে ভর্তি হতে পারছে না। এখন ঢাকার হাসপাতালে যত রোগী, তার ৬০-৭০ শতাংশই ঢাকার বাইরের। ঢাকায় অত রোগী নেই। কিন্তু বাইরের রোগীর অবস্থা খারাপ। এসব রোগী সরাসরি ঢাকায় চলে আসছে এবং খুব ক্রিটিক্যাল অবস্থা।
তিনি আরও বলেন, ‘এই হাসপাতালে কভিড বেড ২৯৮টি। গতকাল রোগী ভর্তি ছিলেন ২০৯ জন। ১০ শয্যার আইসিইউ পুরোটাই ভরা। সব রোগীরই অক্সিজেন লাগছে। পরিমাণ কমবেশি হলেও প্রথম দিকে সবারই লাগছে। আমরা যাদের শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা ৯৫-৯৬, তাদের ভর্তি করি না। বাসায় পাঠিয়ে দিই। যাদের অক্সিজেন ৯০’র নিচে নেমে গেছে, তাদেরই ভর্তি করছি। এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি সামাল দিতে পারছি। যাদের অবস্থা একটু ভালো হচ্ছে, অক্সিজেন লাগছে না, তাদের ছুটি দিয়ে দিচ্ছি।’
মুগদা জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক ডা. অসীম কুমার নাথ বলেন, রোগী অনেক বেড়ে গেছে। যেমন গত সপ্তাহেও এই হাসপাতালে গড়ে দৈনিক রোগী ভর্তি হয়েছে ২৫ জন। এই সপ্তাহে সেটা হয়ে গেছে ৪০-৪৫ জন। গত বুধবার এখানে ভর্তি হয়েছেন ৫৭ রোগী। এখানে এখনো সিট খালি আছে। কিন্তু যে হিসাবে রোগী বাড়ছে, খুব বেশি দিন সিট খালি থাকবে না। তিন-চারদিন পর আর সিট খালি থাকবে না। তখন ঢাকা শহরে সিট সংকট দেখা দেবে। ঢাকার বাইরের রোগী ৫০ শতাংশের বেশি।
রোগীদের অবস্থা কেমন জানতে চাইলে এই চিকিৎসক কর্মকর্তা বলেন, ‘এখন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান অক্সিজেন সরবরাহের বিজ্ঞাপন দিচ্ছে। এই যত্রতত্র অক্সিজেন ব্যবহার রোগীদের অবস্থা খারাপ হওয়ার জন্য দায়ী মনে হচ্ছে। কারণ রোগীরা অক্সিজেন দরকার থাকলেও দিচ্ছে, না থাকলেও দিচ্ছে। তার যখন অক্সিজেনের প্রয়োজন বেড়ে যাচ্ছে এবং বাসার অক্সিজেন আর কাজে আসছে না, তখন উনি হাসপাতালে দৌড়াচ্ছেন। এভাবে দুই-তিনটি হাসপাতাল ঘুরে যে দুই-তিন ঘণ্টা পথে ব্যয় করছে, তখন তার অবস্থা আরও খারাপ হচ্ছে।’
বাসায় অক্সিজেন নেওয়া খুবই ঝুঁকিপূর্ণ জানিয়ে এই চিকিৎসক বলেন, ‘কারণ কোন সময় কতটুকু অক্সিজেন দরকার, সেটা বোঝা কঠিন। আমরা এমন অবস্থাও দেখেছি, বাসায় অক্সিমিটার দিয়ে যখনই দেখে শরীরের অক্সিজেনের মাত্রা ৯৮, তখনই অক্সিজেন নেয়। অথচ ৯৫’র নিচে না নামা পর্যন্ত অক্সিজেনের দরকার নেই। আমাদের পরামর্শ, লক্ষণ দেখা গেলেই পরীক্ষা করেন। পরীক্ষায় যদি পজিটিভ আসে, অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেন। যখনই শ্বাসকষ্ট হবে, তখনই হাসপাতালে আসেন। অন্যথায় হাসপাতালে আসার দরকার নেই।’
এই চিকিৎসক বলেন, গত এপ্রিল-মে’র দিকের তুলনায় এখন রোগীদের অক্সিজেন বেশি লাগছে। আইসিইউ সংকট এখনো তেমন হয়নি। তবে আইসিইউ সংকট সরকারি হাসপাতালের আইসিইউ দিয়ে বোঝা যাবে না। কারণ সরকারি হাসপাতালে কোনো খরচ নেই। কিন্তু বাইরে বেসরকারি হাসপাতালে একেকটা আইসিইউ বেডে দৈনিক ৩০-৪০ হাজার টাকা খরচ আছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই হাসপাতালে করোনায় মারা গেছেন এমন ১১১ জনের মৃত্যু পর্যালোচনা করেছি। তাতে দেখা গেছে, ১২ শতাংশ রোগী ভর্তির দিনই মারা গেছেন। তাদের অন্যান্য রোগ আছে, অর্গানের সমস্যা আছে, অক্সিজেনের পরিমাণ কম। এরকম অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে এসেছে। এ ধরনের রোগী ভর্তির ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মারা যান। যাদের শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা ৭২-৮০ পয়েন্টের মধ্যে, তাদের মধ্যে মৃত্যুটা তুলনামূলক কম। আর যারা গড়ে ৮০’র মধ্যে অক্সিজেন নিয়ে আসে, তাদের মধ্যে মৃত্যু সবচেয়ে কম। কিন্তু যারা মারা যাচ্ছে তাদের প্রত্যেকেরই বয়স গড়ে ৫০ বছরের বেশি এবং তাদের অন্য কোনো না কোনো রোগ আছে। এসব রোগী ক্রিটিক্যাল অবস্থায় আসছে। এ জন্য আমরা বলি যখনই করোনা ধরা পড়বে, চিকিৎসার আওতার ভেতর চলে আসতে হবে। ক্রিটিক্যাল অবস্থায় হাসপাতালে দৌড়ায়, তখন সমস্যা। হাসপাতালে যতই সেবা রাখেন, কুলানো যাবে না।’
জটিল রোগী ৫ শতাংশ : ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. নাজমুল হক বলেন, ‘রোগীর চাপ বেড়েছে। ক্রিটিক্যাল সময় যাচ্ছে। হু হু করে শয্যাগুলো ভরে যাচ্ছে। প্রতিদিন যে পরিমাণ রোগীকে ছাড়পত্র দিই, তারচেয়েও বেশি রোগী ভর্তি হচ্ছে। এখন শয্যাগুলো ভরে গেছে। আমরা নিজেদের মতো করে শয্যা বাড়ানোর চেষ্টা করছি। পাশের শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউট, সেখানেও করোনা বেড দিচ্ছি। অক্সিজেন সাপ্লাইয়ে যাতে সমস্যা না হয়, সে ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ১৪ শয্যার যে আইসিইউ ইউনিট দুর্ঘটনাকবলিত হয়েছিল, সেটা ঠিক করছি। শিগগির সেখানে ১৩ বেড উদ্বোধন হবে। গত দেড়-দুই সপ্তাহে রোগী দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। আমাদের এখানে আইসিইউ সব সময়ই ভরা থাকে।’
এই কর্মকর্তা জানান, গতকাল এই হাসপাতালে ৬৬০ জন করোনা রোগী ভর্তি ছিল। এদের মধ্যে ২-৩ শতাংশের আইসিইউ লাগে। কারণ এখানে বেশিরভাগ রোগীই ক্রিটিক্যাল অবস্থায় আসে। সংক্রমণের ৮০ শতাংশই উপসর্গ অনুযায়ী চিকিৎসা দিতে হয়। তাদের সমস্যা হয় না। বাকি ২০ শতাংশের মধ্যে ১৫ শতাংশের অবস্থা মধ্যম সারির। এরাও অক্সিজেন নিয়ে ভালো হয়ে যায়। বাকি ৫ শতাংশ ক্রিটিক্যাল। এদের মধ্যে ১-২ শতাংশের আইসিইউ লাগে। কিন্তু সেটা দিতে পারি না। এখানে এখনো মৃত্যুহার কম, এক শতাংশের নিচে।
সরকারি ১৬ হাসপাতালের ১০টিতেই আইসিইউ ফাঁকা নেই : স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ঢাকা শহরে কভিড ডেডিকেটেড সরকারি হাসপাতালের সংখ্যা ১৬টি। এর মধ্যে গতকাল ১০টি হাসপাতালেই কোনো আইসিইউ বেড খালি ছিল না। এসব হাসপাতালে ৩৯৫টি আইসিইউ বেডের মধ্যে গতকাল খালি ছিল ৯৯টি। অর্থাৎ ৭৫ শতাংশ আইসিইউ বেডে রোগী ছিল। খালি ছিল ২৫ শতাংশ বেড। এছাড়া ৩ হাজার ৭৮২টি সাধারণ কভিড শয্যার মধ্যে গতকাল খালি ছিল ১ হাজার ৫৬৬টি। সে হিসাবে খালি বেডের পরিমাণ ৪১ শতাংশ।
রাজধানীতে বেসরকারি কভিড হাসপাতালের সংখ্যা ২৭টি। গতকাল এসব হাসাপাতালের ৬৮ শতাংশ বেডেই রোগী ভর্তি ছিল। মোট আইসিইউ বেডের সংখ্যা ৪৬৪টি। গতকাল ১০ হাসপাতালে কোনো আইসিইউ বেড খালি ছিল না। বাকিগুলোর ৬৮ শতাংশ আইসিইউ বেডেই রোগী ভর্তি ছিল।
লকডাউন, স্বাস্থ্যবিধি মানা ও মাস্ক পরার পরামর্শ : ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. নাজমুল হক বলেন, এভাবে রোগী বাড়তে থাকলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সত্যিই কঠিন হয়ে যাবে। এ জন্য আমরা বলি লকডাউন, আইসোলেশন ও টেস্টিং। এটাই পৃথিবীতে সব দেশ, যারা এখনো সব লোককে টিকা দিতে পারেনি, তারা এসব করেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখছে। ভারতও যে সফল, সেটাও লকডাউনের মাধ্যমে। আমরা গত বছর ও এ বছরের এপ্রিলে সফল হয়েছি লকডাউনের মাধ্যমে। লকডাউনের বিকল্প নেই। কার্যকর লকডাউন লাগবে।
শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের পরিচালক ডা. খলিলুর রহমান বলেন, যেহেতু সংক্রমণ কমিউনিটিতে ছড়িয়ে পড়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের এখন একটাই পথ, যত চলাচল কম করব, স্বাস্থ্যবিধি যত বেশি মানব, টিকা নেব, ভিড় এড়িয়ে চলব এবং মাস্ক পরব, তা হলে নিয়ন্ত্রণ করতে পারব।
পরিস্থিতি সামাল দিতে সংক্রমণ কমানোই একমাত্র উপায় বলে মনে করেন ডা. লেলিন চৌধুরীও। তিনি পরামর্শ দিয়ে বলেন, পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার দুটি পথ একটি ব্যক্তিগত ও আরেকটি সামষ্টিক। ব্যক্তিগতভাবে প্রত্যেক মানুষকে মাস্ক পরতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। ভিড় এড়িয়ে চলতে হবে। সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে। এর কোনো ব্যত্যয় করা চলবে না।
