আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালি ডটকম লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. রাসেল ও তার স্ত্রী শামীমা নাসরীনের (ইভ্যালির চেয়ারম্যান) দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারির প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ কোম্পানির কাছে গ্রাহক ও বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোর বড় ধরনের পাওনার অভিযোগ থাকায় তাদের বিদেশ ভ্রমণ রহিত করতে আদালতে আবেদন দাখিল ও পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চকে অনুরোধ জানাতে এ সংশ্লিষ্ট তদন্ত দলকে অনুমোদন দিয়েছে দুদক।
গত বৃহস্পতিবার দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে এ অনুমোদন দিয়ে আদালতে আবেদন দাখিলের উদ্যোগ নিতে তদন্ত কমিটির প্রধান সহকারী পরিচালক মামুনুর রশীদ চৌধুরীকে চিঠি দেন দুদকের উপপরিচালক এ এস এম সাজ্জাদ হোসেন। একই সঙ্গে ইভ্যালির চেয়ারম্যান ও এমডির বিদেশ যাত্রা জরুরি ভিত্তিতে রহিত করতে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চকে অনুরোধ জানাতে চিঠি দেওয়ার জন্য অনুমোদন দেয় দুদক। একই দিন ইভ্যালির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অনুসন্ধান করতে মামুনুর রশীদ চৌধুরীকে প্রধান করে দুই সদস্যের কমিটি গঠন করে দুদক। কমিটির অপর সদস্য হলেন উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ শিহাব সালাম।
দুদক সূত্র জানায়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো চিঠির ভিত্তিতে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়ে দুই সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। এ বিষয়ে দুদকে আসা অন্যান্য অভিযোগ ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সুপারিশসহ প্রয়োজনীয় সব দায়িত্ব পালন করবেন অনুসন্ধান দলের সদস্যরা।
বড় ধরনের ছাড় দিয়ে অনলাইনে পণ্য বেচার জন্য গ্রাহকদের কাছ থেকে অগ্রিম মূল্য সংগ্রহ করে সময় মতো পণ্য সরবরাহ করতে না পারা এবং মার্চেন্টদের পাওনা টাকা প্রতিশ্রুত সময়ের মধ্যে পরিশোধ করতে না পারায় ইভ্যালির বিরুদ্ধে বড় ধরনের দায় তৈরির অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে সম্প্রতি পরিচালিত বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি বিশেষ পরিদর্শনে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটি ১ টাকার পণ্য বিক্রি করতে ৩ টাকার বেশি ব্যয় করে। প্রতিষ্ঠানটির সম্পদের তুলনায় দায় ৬ গুণ। ওই সময় পর্যন্ত ইভ্যালির দেনা ছিল প্রায় ৩৩৯ কোটি টাকা। এই টাকা ইভ্যালি ব্যবসা করে পরিশোধ করতে চাইলেও সরকারের একাধিক মন্ত্রণালয় থেকে ইভ্যালির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সম্প্রতি নির্দেশনা দেওয়া হয়।
দুদক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো চিঠি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্ত প্রতিবেদনের সূত্র ধরে এ বিষয়ে অনুসন্ধানের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। তবে দেশে করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার ঘোষিত ‘কঠোর লকডাউনের’ কারণে অনুসন্ধান কাজে কিছুটা ধীরগতি হতে পারে।
এর আগে ৪ জুলাই ইভ্যালির বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সরকারের চার প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে দুদক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ, বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
