ঢামেকে মর্গের সামনে বুকফাটা আহাজারি

আপডেট : ১০ জুলাই ২০২১, ০২:৫৯ এএম

বেলা ৩টার পর পাঁচটি অ্যাম্বুলেন্স এসে থামে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গের সামনে। একে একে নামানো হয় সাদা ব্যাগে মোড়া ৪৯টি মরদেহ। পোড়া লাশের গন্ধ আর স্বজনহারাদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে ঢামেক এলাকার বাতাস। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের সজীব গ্রুপের হাসেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের কারখানার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের মরদেহ গতকাল শুক্রবার যখন ঢামেকে আনা হয় তখন ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকসহ মর্গ সহকারীরাও দিশেহারা হয়ে পড়েন। একসঙ্গে এত পোড়া লাশ, এত স্বজনহারাদের আহাজারি বিষণœ করে দেয় ডোমদেরও।

এদিকে পুড়ে বিকৃত হয়ে যাওয়া লাশগুলো শনাক্তে গতকাল বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে নমুনা সংগ্রহ শুরু করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। স্বজন নিখোঁজের দাবি নিয়ে যারা এসেছেন সংগ্রহ করা হয় তাদের নমুনাও।

গতকাল বিকেলে ঢামেকে সরেজমিন দেখা গেছে, সাদা প্যাকেটে ভরা মৃতদেহগুলো মর্গের ফ্লোরে সারি সারি করে রাখা। মর্গের প্রবেশমুখের বাইরে নিখোঁজের স্বজনরা ভিড় করছেন। পুলিশের কড়া অবস্থানের কারণে ভেতরে যেতে পারছেন না কেউই। তবে সবাই আহাজারি করে খোঁজ চাইছেন স্বজনের। এর আগে সকাল থেকেই মর্গে ময়না তদন্তকারী চিকিৎসক প্রভাষক ডা. দেবিকা রায়, মর্গ সহকারী মো. সেকান্দার আলী, রামু চন্দ্র দাস ও বাবুল লাশের ময়নাতদন্তের জন্য প্রস্তুত হয়ে ছিলেন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ ফরেনসিক বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. মাকসুদুর রহমান জানান, আজ (গতকাল) বিকেল পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ থেকে ৪৯টি পোড়া লাশ ঢামেক মর্গে এসেছে। এর মধ্যে একটি ভালো ফ্রিজে ছয়টি লাশ রাখা হয়েছে। ৩০ থেকে ৩২টি লাশ সারি সারি করে ময়নাতদন্ত করা স্থানে রাখা হবে। আর বাকিগুলো ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের হিমাগারে রাখা হবে।

তিনি জানান, ডিএনএ পরীক্ষা অনেক সময়সাপেক্ষের ব্যাপার। অন্ততপক্ষে ২০ দিন লাগতে পারে। এসব পোড়া লাশের চেনার উপায় নেই। তাই এসব লাশ থেকে নখ, ব্লাড, চুলসহ বিভিন্ন অঙ্গ নমুনা নিয়ে ডিএনএ পরীক্ষা করে পরিচয় শনাক্ত করা হবে।

বিকেলে কারখানা থেকে উদ্ধার হওয়া লাশের স্বজনদের শরীর থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ শুরু করেছে সিআইডি। সিআইডির ক্রাইমসিনের ডিএনএ অ্যানালাইসিস্ট মো. আশরাফুল আলম জানান, নারায়ণগঞ্জে আগুনের ঘটনায় যে মৃতদেহগুলো এসেছে তাদের এবং নিখোঁজ দাবি করা স্বজনদের ডিএনএ নমুনা নেওয়া শুরু হয়েছে। অভিযোগকারীদের মধ্যে নিখোঁজের স্ত্রী, স্বামী, বাবা-মা ও সন্তানদের শরীর থেকে নেওয়া হচ্ছে রক্তের নমুনা। আর মৃতদেহ থেকে হাড়, দাঁত ও চুল।

এদিকে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন করছে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ। থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. হুমায়ুন কবির মোল্লা জানান, স্বজনদের ও লাশের নমুনা সংগ্রহ করছেন। লাশগুলো প্রথমে নাম্বারিং এবং সেই অনুযায়ী প্রতিটি ডেডবডির সুরতহাল তৈরি করছেন।

ঢামেক সংশ্লিষ্টরা দেশ রূপান্তরকে জানায়, ইতিমধ্যে সিআইডি ফরেনসিক বিভাগ টিম ঘটনাস্থলে রয়েছে। লাশগুলো থেকে গন্ধ বের হওয়ায় তা যত দ্রুত সম্ভব নিহতের স্বজনের হাতে হস্তান্তর করার প্রক্রিয়া চলছে।

গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে গতকাল সকাল পর্যন্ত নয়জনকে ঢামেকে ভর্তি করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে। পাঁচজনকে গতকালই ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে আর তিনজন এখনো চিকিৎসাধীন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত