রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে একটি বাসায় অটোরিকশার চার্জার থেকে বিস্ফোরণে একই পরিবারের পাঁচ জন দগ্ধ হয়েছেন। তাদের মধ্যে ইয়াসমিন আক্তার ময়না (৩৫) নামে এক নারী শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটে মারা গেছেন। গতকাল শুক্রবার ভোরে আহসানবাগ এলাকার সিলেটিবাজার কাজী গলির একটি দোতলা বাড়ির নিচতলায় ওই বিস্ফোরণ ঘটে।
দগ্ধ অন্যরা হলেন, ময়নার স্বামী ইজিবাইক চালক আব্দুল মতিন (৪০), তাদের দুই মেয়ে আয়শা (৬) ও মায়শা (১০) এবং ময়নার ভাগনে আবুল খায়ের রায়হান (২৫)। তাদের মধ্যে রায়হানকে বার্ন ইনস্টিটিউটে চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। বাকি তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জুনিয়র ওয়েব ডিজাইনার রায়হান জানান, বিস্ফোরণের ঘটনাস্থল ওই বাসায় তার মা থাকলেও তিনি অন্য জায়গায় থাকেন। গত বৃহস্পতিবার রাতে তিনি ওই বাসায় মায়ের কাছে গিয়েছিলেন। রাতে মতিনের পরিবার একটি কক্ষে এবং তার পাশের কক্ষে ছিলেন তিনি। ভোরে যখন তারা সবাই ঘুমিয়ে ছিলেন তখন বিকট শব্দে বিস্ফোরণ হয়। মুহূর্তেই ঘুম ভেঙে গেলে চারদিকে আগুন দেখতে পান তিনি। বিস্ফোরণে কক্ষের দরজা ভেঙে যায়। পরে তারা দৌড়ে বাসার বাইরে চলে যান। তবে এর আগেই তাদের শরীর পুড়ে যায়।
রায়হান আরও জানান, মতিন প্রতিদিন বাসাতেই অটোরিকশা চার্জ করতেন। অটোরিকশাটি বাসার বাইরে রেখে চার্জার কক্ষের ভেতরে বিদ্যুৎ লাইনে সংযুক্ত করতেন। সেই চার্জার থেকেই ভোরে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
ময়নার মৃত্যুর তথ্য জানিয়ে তার খালাতো বোন শান্তি আক্তার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সন্ধ্যার দিকে ময়নার মৃত্যু হয়। তার শরীরের ৯৫ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। ময়নার স্বামী ও দুই মেয়ে এখনো ভর্তি আছে। তবে স্বামীর অবস্থা খুব খারাপ।’
মতিনসহ দগ্ধ অন্যদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া তার শ্যালক মো. মাসুম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা খবর পেয়ে ভোরে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাই।’
বার্ন ইনস্টিটিউটের চিকিৎসকরা জানান, দগ্ধ মতিনের শরীরের ৯২ শতাংশ, আয়শার ৪৬, মায়শার ৪২ এবং রায়হানের ১৮ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।
