শর্তসাপেক্ষে অনুমতি

ওয়েট ব্লু চামড়া রপ্তানি করবে পাঁচ প্রতিষ্ঠান

আপডেট : ১১ জুলাই ২০২১, ০১:০৯ এএম

কোরবানির ঈদে পশুর চামড়া বিক্রি না হওয়া এবং ট্যানারিগুলোতে বিপুল পরিমাণ মজুদের পরিপ্রেক্ষিতে ‘ওয়েট ব্লু’ চামড়া (আংশিক প্রক্রিয়াজাতকরণ পশম ছাড়া চামড়া) রপ্তানির অনুমোদন দিয়েছে সরকার। ট্যানারি মালিকদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রপ্তানি বন্ধ রাখার ৩১ বছর পর এমন সুযোগ দিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এই অনুমোদনের পরিপ্রেক্ষিতে দেশের পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে শর্তসাপেক্ষে মোট এক কোটি ওয়েট ব্লু চামড়া রপ্তানি করতে পারবে। গতকাল এ তথ্য জানিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

গতকাল শনিবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব নাজনীন পারভীন স্বাক্ষরিত আদেশে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে চামড়া রপ্তানির অনুমোদন দেওয়া হয়। গত ১৭ ও ৩০ জুন প্রতিষ্ঠানগুলোকে পৃথক আদেশে অনুমতি দেওয়া হয়।

চামড়া রপ্তানির অনুমতি পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে- কাদের লেদার কমপ্লেক্স, আমিন ট্যানারি লিমিটেড, কালাম ব্রাদার্স ট্যানারি লিমিটেড, লেদার ইন্ডাস্ট্রিজ অব বাংলাদেশ লিমিটেড ও একেএস ইনভেস্টমেন্ট। এসব প্রতিষ্ঠান গত বছরের নভেম্বরে কাঁচা ও ওয়েট ব্লু চামড়া রপ্তানির আবেদন জানায়।

ট্যানারি শিল্প রক্ষায় স্বাধীনতার পর থেকেই কাঁচা চামড়ার রপ্তানি নিষিদ্ধ করা আছে। ১৯৮৯ সালের পর থেকে বন্ধ ওয়েট ব্লুর রপ্তানিও। তবে গত কয়েক বছর ধরে ঈদুল আজহার সময় কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রি না হওয়া এবং ট্যানারিগুলোতে বিপুল পরিমাণ চামড়া মজুদ পড়ে থাকায় ৩১ বছর পর শুধু ‘ওয়েট ব্লু’ চামড়া রপ্তানির অনুমোদন দিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

ক্রোমিয়াম অক্সাইড দ্রবণ মিশিয়ে চামড়াকে পচনরোধী করা হলে ‘ওয়েট ব্লু হাইড’ বলা হয়। এই প্রক্রিয়ায় পুরুত্ব অনুযায়ী প্রতি বর্গফুট চামড়ায় ১৫ থেকে ৩০ টাকার রাসায়নিক দিতে হয়। এই ‘ওয়েট ব্লু হাইড’ চামড়া থেকেই বিভিন্ন ধাপে প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে ‘ক্রাসড’ ও ‘ফিনিশড’ লেদার তৈরি হয়।

ওয়েট ব্লু চামড়া রপ্তানি অনুমোদনের আদেশে বলা হয়েছে, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এক কোটি বর্গফুট ওয়েট ব্লু চামড়া চীন, হংকং, কোরিয়া, রাশিয়া, ইউক্রেন, জাপান, ভিয়েতনাম, ইতালি, স্পেন, জার্মানিতে ছয়টি শর্তে রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হলো। এরমধ্যে এএসকে ইনভেস্টমেন্টকে কেবলমাত্র চীনে ২০ লাখ বর্গফুট চামড়া রপ্তানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া কালাম ব্রাদার্সকে হংকং, চীন, কোরিয়া, জাপান, ভিয়েতনাম, ইতালি, স্পেন ও জার্মানিতে ২০ লাখ বর্গফুট ‘ওয়েট ব্লু’ চামড়া রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়। লেদার ইন্ডাস্ট্রিজ অব বাংলাদেশের ‘ইউনিট-২’কে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ, চীন, রাশিয়া, ইউক্রেন, হংকং, কোরিয়া, ভিয়েতনাম ও জাপানে সর্বোচ্চ ২০ লাখ বর্গফুট চামড়া রপ্তানির অনুমোদন দেওয়া হয়। আমিন ট্যানারিকে হংকং, চীন, কোরিয়া, জাপান, ভিয়েতনাম, ইতালি, স্পেন ও জার্মানিতে ২০ লাখ বর্গফুট চামড়া রপ্তানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

গত কয়েক বছর ধরে কোরবানির ঈদে চামড়ার দরপতনের প্রেক্ষাপটে দুই বছর আগে কাঁচা চামড়া রপ্তানির সুযোগ দেওয়ার ঘোষণা দেয় সরকার। এবার চূড়ান্ত অনুমোদন দিলেও মহামারী পরিস্থিতিতে তা কার্যকর করা চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠবে। রপ্তানিকারকরা জানান, স্বাভাবিক সময়ে প্রতি বর্গফুট ‘ওয়েট ব্লু’ চামড়ার দাম প্রায় এক ডলার। তবে বিশ্ববাজারে মন্দা পরিস্থিতির কারণে বর্তমানে তা ৭০ সেন্টের কাছাকাছি মূল্যে রয়েছে। এই দামে চামড়া রপ্তানি খুব বেশি লাভজনক হবে না। এছাড়া আন্তর্জাতিক পণ্য পরিবহনে জাহাজ ভাড়া অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়াটাও আরেকটি সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে।

চামড়া রপ্তানির ক্ষেত্রে রপ্তানি নীতি ২০১৮-২০২১ অনুসরণ করতে হবে বলে শর্তারোপ করা হয়েছে। এই অনুমতি শুধু রপ্তানির অনুমতিপ্রাপ্ত ওয়েট ব্লু চামড়ার নির্ধারিত পরিমাণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। পরবর্তী রপ্তানির জন্য পুনরায় আবেদন করতে হবে। রপ্তানির অনুমতির মেয়াদ আগামী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত বহাল থাকবে। জাহাজীকরণ শেষে রপ্তানি সংশ্লিষ্ট সব কাগজপত্রাদি দাখিল করতে হবে। যে দেশে রপ্তানির জন্য অনুমোদন প্রদান করা হবে সেসব দেশেই রপ্তানি করতে হবে। সরকার যেকোনো সময় ওয়েট ব্লু চামড়া রপ্তানি নিষিদ্ধ করতে পারবে।

বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি করে আয় হয়েছে ৯৪ কোটি ১৬ লাখ ডলার, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ১৮ শতাংশ বেশি। কিন্তু কভিড পূর্ববর্তী ২০১৮-১৯ অর্থবছরের তুলনায় ৭ দশমিক ৬ শতাংশ কম।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত