মিয়ানমার থেকে আসছে কোরবানির পশু

কক্সবাজারে সাড়ে ৭ হাজার খামারি দাম হারানোর শঙ্কায়

আপডেট : ১১ জুলাই ২০২১, ০২:৫৫ এএম

ঈদুল আজহা ঘিরে বরাবরের মতো এবারও কক্সবাজারের খামারিরা পশু মোটাতাজাকরণ করেছেন। তবে কোরবানির ঈদের সময় ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে এক শ্রেণির অসাধু কারবারি প্রতিবেশী মিয়ানমার থেকে গবাদিপশু আনছেন। একে তো করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে কঠোর লকডাউনে পশুর হাট নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। তার ওপর প্রতিবেশী দেশ থেকে গবাদিপশু আসায় বাজার হারানোর আশঙ্কা করছেন দেশীয় খামারিরা। খামারিদের সুরক্ষায় সম্প্রতি আন্তঃমন্ত্রণালয়ের এক বৈঠকে মিয়ানমার থেকে কোরবানির পশু আমদানি বন্ধের সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু তা অমান্য করে গোপনে দেশটি থেকে কোরবানির পশু আনা হচ্ছে। এতে কক্সবাজারের সাড়ে ৭ হাজার প্রান্তিক খামারি দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। তারা স্বাস্থ্যবিধি মেনে পশুর হাট চালু এবং মিয়ানমার থেকে পশু আসা একেবারে বন্ধ করার দাবি জানান।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এবার কোরবানির ঈদে কক্সবাজার জেলায় গবাদিপশুর চাহিদা রয়েছে ১ লাখ ৬৫ হাজার। জেলার প্রান্তিক খামারিরা ১ লাখ ৭৩ হাজার ৫১৯টি পশু প্রস্তুত করেছেন। চাহিদার তুলনায় ৮ হাজার ৫১৫টি পশু বেশি রয়েছে। ফলে জেলার চাহিদা মিটিয়ে অন্য জেলায় কোরবানির পশু পাঠাতে পারবেন তারা।

৫ জুলাই মিয়ানমার থেকে গবাদিপশু আমদানি বন্ধ করে দেয় সরকার। এরপর এক দিন আমদানি বন্ধ থাকলেও এখন সমানে আসছে। যদিও গত শুক্রবার টেকনাফ শাহপরীর দ্বীপের করিডর দিয়ে মিয়ানমার থেকে আসা গরু-মহিষ ভর্তি ট্রলার ফিরিয়ে দেন দায়িত্বরত বিজিবির সদস্যরা।

কক্সবাজার জেলা ডেইরি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. আব্দুল্লাহ জানান, প্রতি ঈদেই দেশীয় খামারিদের কোণঠাসা করতে এক শ্রেণির মুনাফাখোর শাহপরীর দ্বীপের করিডর দিয়ে মিয়ানমার থেকে বিপুলসংখ্যক গবাদিপশু আনে। এবারও তারা তৎপর রয়েছে। দ্রুত এদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

উখিয়ার সোনাইছড়ি গ্রামের খামারি শাহ আলম বলেন, ‘এ বছর গো-খাদ্যের দাম বেশি। লকডাউনের অজুহাতে কুঁড়া, ভুষি, খৈলসহ সব ধরনের গো-খাদ্যের দাম বাড়িয়েছেন দোকানিরা। এরপরও আমরা গরু মোটাতাজা করেছি। এখন ভালো দাম না পেল পথে বসতে হবে।’

কক্সবাজার সদর উপজেলার খরুলিয়া এলাকার খামারি মিন্টু সরকার বলেন, ‘আমার খামারে ২৪টি যাঁড় রয়েছে, যার একেকটির মূল্য আড়াই থেকে ৩ লাখ টাকা। এখন মিয়ানমার কিংবা ভারত থেকে গরু এলে আমরা দাম পাব না, খুবই ক্ষতি হবে।’

কক্সবাজার জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. অসীম বরণ সেন বলেন, ‘জেলার খামারিরা এবার চাহিদার তুলনায় বেশি কোরবানির পশু প্রস্তুত করেছেন। ফলে মিয়ানমার থেকে পশু আমদানির প্রয়োজন নেই। দেশীয় খামারিদের কথা বিবেচনা করে দেশটি থেকে গবাদিপশু আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সরকার।’ তিনি আরও বলেন, ‘তবে কতিপয় মুনাফা কারবারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মিয়ানমার থেকে গরু আনছে। তাদের বিষয়ে প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে। আশা করছি, খামারিরা ভালো দাম পাবেন।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত